দ্বীন ইসলামের খিদমতে লেখাটি ছড়িয়ে দিন (কপি অনুমোদিত)

"কোরবানির পশুর হাসিল না দিলে কোরাবনি হয়না" এই মিথ্যা কথাটি বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে অনেকটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সৌদি আরবসহ কোনো মুসলিম দেশে বাংলাদেশের মতো কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেয়া বা হাসিল নামক জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করার নজির নেই। নজির থাকলেই যে সেটা জায়েজ হতো ব্যাপারটা এমন না। কারণ দ্বীন ইসলামে পশু ক্রয়ের জন্য শাসকদের বা হাটের ব্যবস্থাকারীদের মাশুল পরিশোধ করার কোনো আদেশ বা অনুমোদন নেই। খোলাফায় রাশেদীন উনাদের যুগেও ছিলনা এবং পরবর্তী এক হাজার বছরের ইতিহাসেও এমন নজির নেই।

মূলকথা হচ্ছে হাসিল নেয়ার নিয়ম ইসলামে নেই। এখন প্রশ্ন করতে পারেন যে, তাহলে কি নিষেধ আছে? উত্তর হচ্ছে হ্যা উসুলের ভিত্তিতে এটি নিষেধ আছে। জুলুমের উসুল এটি নিষেধ। সরাসরি নিষেধ নাই কেনো? কারণ এটি আখেরি জামানায় নতুন উদ্ভাবিত বিষয়। গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এসবের মতো। কাফিরদের নিয়ম নীতি অনুসরণ করা হারাম, এই উসুলের ভিত্তিতে যেমন সমস্ত তন্ত্র মন্ত্র মতবাদ হারাম। একই রকম ভাবে ইবাদত বন্দেগী করতে গিয়ে মাশুল আরোপ করা জুলুম ও অন্যায়, এই উসুলের ভিত্তিতে হাসিল ধার্য করা জুলুম এবং অন্যায়।

কোরবানি করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য ওয়াজিব। এই আমলটি সুন্দরভাবে করার জন্য শাসকের দায়িত্ব হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ হাট প্রস্তুত করা এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। এটা মুসলিম দেশের নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার। নামায, রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য চাঁদা/কর/মাশুল ধার্য নেয়া যেমন জুলুম তদ্রূপ এই উসুলের ভিত্তিতে কুরবানির হাটের বন্দোবস্ত করার জন্য হাটের ইজারা দেয়া ও হাসিল ধার্য করা এবং তা আদায়ে বাধ্য করাও জুলুম।

এখন তাহলে কি করতে হবে?
প্রতিটি এলাকায় জনসংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত হাটের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আর সেটা পরিচালনার জন্য ইজারা দেয়া যাবেনা (বেসরকারীকরণ করা যাবেনা)।
ঈদগাহ মাঠ যেমন ইজারা দেয়ার বিষয় না, তদ্রূপ কোরবানির হাটও ইজারা দেয়ার বিষয় না। ইজারা দিয়ে সরকার এখানে একটা আয় করে থাকে, সেটা করা যাবেনা। কারণ এটা মুসলিম নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার হিন্দুদের পূজার সময় দেশের প্রতিটা মণ্ডপে নগদ টাকা, চাল ইত্যাদি দিতে পারলে হাটের খরচ কেনো বহন করবেনা? পূজা মণ্ডপের টাকা মুসলমানদের দেয়া তহবিল থেকেই দেয় হয়। তাহলে মুসলমানদের প্রয়োজনে কেনো মুসলমানদের দেয়া তহবিল খরচ করবে না? সরকারের অবৈধ ইজারার কারণেই কুরবানি দাতাদের হাসিল নামক বাড়তি খরচ গুনতে হয়। যা স্পষ্ট জুলুম। কোনো ক্রেতাই খুশি মনে হাসিল দেয়না, মনে কষ্ট নিয়েই দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যানজটের অবান্তর অজুহাতে বছর বছর হাটের সংখ্যা কমানোর পাঁয়তারা করা হয়। অথচ যানজট কমাতে হলে হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিত। প্রত্যেক শহরে প্রতি ওয়ার্ডে হাট বসানো উচিত। কারণ সবাই যার যার ওয়ার্ডের হাট থেকে থেকে পশু পেয়ে গেলে অন্য কোথাও দৌড় ঝাঁপ করতে হবেনা। এতে ট্রাফিক কমবে, যানজট কমবে। মানুষের কষ্ট, হয়রানিও লাঘব হবে, পশু বিক্রির সংখ্যা বাড়বে, অর্থনীতি আরও বেশি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও সুবিধা হবে।

দাবিগুলো নিয়ে আরও জোড়ালো আওয়াজ তোলা উচিত। আপনি যেহেতু লেখাটি পড়েছেন, কপি করে হোক বা শেয়ার করে হোক ইসলামের খিদমতে লেখাটি ছড়িয়ে দিন। ক্রেডিট দাবি নেই।

image