ভূমিকম্পসহ যমীনে ও পানিতে অন্যান্য আযাব-গযব, বালা-মুসীবত নাযিল হওয়ার মূল কারণ ও প্রতিকার (২)

যে পনেরটি অপরাধের কারণে এই উম্মতের উপর বালা-মুসীবত নেমে আসবে:



পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عليه السلام قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏"إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشْرَةَ خَصْلَةً حَلَّ بِهَا الْبَلاَءُ"‏‏.‏ فَقِيلَ وَمَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: ইমামুল আউওয়াল হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মাত যখন পনেরটি অপরাধে লিপ্ত হয়ে পড়বে তখন তাদের উপর বালা-মুছীবত নেমে আসবে। জিজ্ঞেস করা হলো ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেগুলো কি কি? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

إِذَا كَانَ الْمَغْنَمُ دُوَلاً وَالأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَأَطَاعَ الرَّجُلُ زَوْجَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَبَرَّ صَدِيقَهُ وَجَفَا أَبَاهُ وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَشُرِبَتِ الْخُمُورُ وَلُبِسَ الْحَرِيرُ وَاتُّخِذَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ أَوْ خَسْفًا وَمَسْخًا

১. যখন গনীমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে।

২. আমানত লুটের মালে পরিণত হবে।

৩. যাকাত জরিমানা রূপে গণ্য হবে।

৪-৫. পুরুষ তার আহলিয়ার (স্ত্রীর) আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে।

৬-৭. বন্ধুর সাথে ভাল ব্যবহার করবে কিন্তু পিতার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে।

৮. মসজিদে শোরগোল করা হবে।

৯. সবচেয়ে খারাপ চরিত্রের লোক গোত্র প্রধান হবে।

১০. কোন লোককে তার অনিষ্টতার ভয়ে সম্মান করা হবে।

১১. মদ পান করা হবে।

১২. রেশমী বস্তু পরিধান করা হবে।

১৩. নর্তকী গায়িকাদের প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

১৪. বাদ্যযন্ত্রসমূহের কদর করা হবে।

১৫. এই উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের অভিসম্পাত করবে। নাঊযুবিল্লাহ!

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ أَوْ خَسْفًا وَمَسْخًا

‘তখন তোমরা একটি অগ্নিবায়ু কিংবা ভূমিধস অথবা মানুষের আকৃতি বিকৃতির আযাবের অপেক্ষা করবে।’ নাঊযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২২১০, মিশকাত শরীফ)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে-

فَلْيَرْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ ، وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَمَسْخًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ بَالٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ.

অর্থ: তখন তোমরা অগ্নিবায়ু, ভূমিধস, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি ও পাথর বর্ষণরূপ শাস্তির এবং আরো আলামতের অপেক্ষা করবে; যা একের পর এক নিপতিত হতে থাকবে। যেমন পুরানো পুতির মালা ছিড়ে গেলে একের পর এক তার পুতি ঝরে পড়তে থাকে। (তিরমিযী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২২১১, মিশকাত শরীফ)

বর্তমান সময়ে উপরোক্ত অপরাধসমূহ আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বে কল্পনাতীতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আমরা বলতে পারি আমাদের দেশের এই ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়া এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা।

তাই আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বের মুসলমানদের দায়িত্ব হচ্ছে, খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা, সমস্ত প্রকার বিদয়াত-বেশরা, কুফরী-শিরকী আমল থেকে তওবা করে নেক আমল অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী জীবন-যাপন শুরু করা। বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সার্বিকভাবে রুজু হওয়া। (আগামী পর্বে সমাপ্য)

-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।