পবিত্র আল বাইয়্যিনাত শরীফ হতে-
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে
প্রসঙ্গঃ দৃঢ়ভাবে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলা উনার তরীক্বার অনুসরণ করবে এবং অন্যান্য মাশায়িখগণের তরীক্বার প্রতি লক্ষ্য করবে না। (মাকতুবাত শরীফ)
অদ্যবধি যত ছিলছিলার বিলুপ্তি ঘটেছে, গোমরাহী দেখা দিয়েছে তার সবগুলোর পিছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার তরীক্বার অনুসরণের অভাব। স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার তরীক্বার উপর ইস্তিকামত বা অবিচল না থাকার কারণে কত শত ছিলছিলার যে বিলুপ্তি ঘটেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। মুরীদ যতক্ষণ পর্যন্ত স্বীয় পীর ছাহেব ক্বিবলার তরীক্বার উপর ইস্তিকামত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত ছিলছিলার পূর্ববর্তী মাশায়িখ হতে বাতিনী নিয়ামত তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ্ পেতে থাকে।
পক্ষান্তরে যখন কেউ স্বীয় পীর ছাহেবের তরীক্বার অনুসরণ কিংবা আদর্শ বা নীতিমালা হতে সরে পড়ে তখনই বাতিনী নিয়ামতের পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়। আস্তে আস্তে পূর্ববর্তীগণ হতে প্রাপ্ত নিয়ামতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়।
সুতরাং স্বীয় পীর ছাহেব ক্বিবলার তরীক্বার অনুসরণের উপর যারা যত বেশী ফানা (বিলীন) হবে তাদের বাকা বা স্থায়ীত্ব তত বেশী হবে। অর্থাৎ তাদের দ্বারা হিদায়েতের পথ তত বেশী প্রসারিত হবে।
উল্লেখ্য যে, ‘সূলুক’ (আল্লাহ্ পাক প্রাপ্তির পথ) হচ্ছে সমস্ত ইচ্ছা বা কামনা-বাসনাকে ফানা বা বিলীন করার নাম। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে,
السلوك الارادة للجل الفناء فان المريد من يفنى ارادته فى ارادة الشيخ فمن عمل برأيه امرا فهو ليش بمريد.
অর্থঃ- “সূলুক হচ্ছে সমস্ত ইরাদা বা ইচ্ছাকে ফানা (বিলীন) করার নাম। সুতরাং প্রকৃত মুরীদ ঐ ব্যক্তি যে তার ইরাদা বা ইচ্ছাকে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার ইরাদা বা ইচ্ছার নিকট ফানা (বিলীন) করে দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বীয় ইচ্ছানুরূপ আমল করে সে ব্যক্তি মুরীদ হতে খারিজ হয়ে যায়।” (তাফসীরে রুহুল বয়ান-৪/৬২)
...................................................................................................................................................(অসমাপ্ত)