২. 'সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ' (سبل الهدى والرشاد) কিতাবের ১ম খণ্ডের ৮৪–৯০ পৃষ্ঠা
আপনার নোটবুকে সরাসরি পৃষ্ঠা নম্বরসহ যুক্ত থাকা একমাত্র কিতাব হলো ইমাম মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-সালিহী আল-শামীর 'সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ' [৮২]। এর ১ম খণ্ডের ৮৪ থেকে ৯০ নম্বর পৃষ্ঠার (৫ম অধ্যায়: আরশ ও সমগ্র কায়েনাতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নাম মোবারক লিখিত থাকা) মূল বিবরণসমূহ নিম্নরূপ [৮২, ৮৪]:
হযরত আদম (আ.)-এর উসীলা ও তাওবা (পৃষ্ঠা ৮৫–৮৬): হযরত আদম (আ.) সৃষ্টি হওয়ার পর মাথা তুলে আরশের পায়ায় লেখা দেখতে পান "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" [৮৫]। পরবর্তীতে তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর উসীলায় আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাঁর তাওবা কবুল হয় [৮৫, ৮৮]।
প্রকৃতি ও সৃষ্টিজগতে নাম মোবারকের প্রকাশ (পৃষ্ঠা ৮৬–৮৮):
ভারতে এমন কিছু বিশেষ গোলাপ ও ফল পাওয়া যায়, যার পাপড়িতে এবং ফলের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে সাদা ও লাল হরফে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের নাম লিখিত ছিল [৯১, ৯৩, ৯৪, ৯৫]।
'উবুল্লা' নদী ও ভূমধ্যসাগরে প্রাপ্ত কিছু মাছের শরীরেও স্পষ্ট অক্ষরে কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ লিখিত ছিল [৯৫, ৯৬, ৯৭]।
প্রাচীন শিলালিপি ও কিতাবের বর্ণনা (পৃষ্ঠা ৮৯–৯০): হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর প্রাপ্ত প্রাচীন শিলালিপিতে এবং কা'বা শরীফ পুনর্নির্মাণের সময় আবিষ্কৃত পাথরে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াত ও তাঁর গুণগানকারী উম্মতের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা পাওয়া যায় [৯৭, ৯৮]। এছাড়া সূরা কাহফে বর্ণিত দুই ইয়াতীম শিশুর দেয়ালের নিচে স্বর্ণের ফলকে কালিমা ও হেদায়েতমূলক বাণী লিখিত ছিল [৯৯]।
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু
------------------------------
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু
লা-ইলাহা ইল্লাহু
আপনি খালিক আপনি মালিক আল্লাহ
গাফফার ও সাত্তার
ক্ষমা দয়ায় তুলনাহীন
পরওয়ারে দিগার (ইলাহী)
পেয়ারা নবীজী হাদিয়া দিলেন মোদের
রাব্বুল আলামীন
নবীজী স্মরণে দায়েমী দরূদ পাঠ
করলেন ফরযে আইন (ইলাহী)
কোথায় আছেন প্রাণের নবী গো
দেখা দিন একবার
আপনি বিনে খুব অসহায়
উম্মত আপনার (নবীজী)
আওলাদে রসূল পেয়েছি মোরা আজ
বিশাল খোশ নছীব
হাবীবী ওয়ারীস সুলত্বানুন নাছীর
আমাদের ছহিব (নবীজী)
খোদা ও রসূল সবকিছু থেকে আপন
মুর্শিদ মুহতারাম
মুর্শিদ ছাড়া অপূর্ণ সব
ইশকের-ই কালাম (মামদুহজী)
শ্রেষ্ঠ নবী শ্রেষ্ঠ মুর্শিদ শানে
শুকরিয়ায় দাড়াই
আসুন সবাই মুর্শিদী শানে
আসুন সবাই নবীজী শানে
সালাম জানাই
- মেসুত আল ফাহীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اَوْحَى اللهُ اِلـٰى حَضْرَتْ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ يَا حَضْرَتْ عِيْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ اٰمِنْ بِـمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاْمُرْ مَنْ اَدْرَكَهٗ مِنْ اُمَّتِكَ اَنْ يُّؤْمِنُوْا بِهٖ فَلَوْلَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا خَلَقْتُ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَلَوْلَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا خَلَقْتُ الْـجَنَّةَ وَلَا النَّارَ وَلَقَدْ خَلَقْتُ الْعَرْشَ عَلَى الْمَاءِ فَاضْطَرَبَ فَكَتَبْتُ عَلَيْهِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَكَنَ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর সম্মানিত ওহী মুবারক করেন, হে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনুন এবং আপনার উম্মতদেরকে আদেশ মুবারক করুন যে, আপনার উম্মতদের মধ্য থেকে যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাবে, তারা যেন উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনে। সুবহানাল্লাহ! কেননা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করতাম না। সুবহানাল্লাহ! আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে, সম্মানিত জান্নাত মুবারক সৃষ্টি করতাম না এবং জাহান্নামও সৃষ্টি করতাম না। সুবহানাল্লাহ! আর আমি যখন পানির উপর সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক সৃষ্টি করলাম, তখন সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক কাঁপতে থাকলেন। ফলে আমি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার উপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিখে দিলাম। তখন সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক স্থির হয়ে গেলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ২/৬৭১, আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪৮১)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর, নূরের তৈরি।
পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর। মাটির কোন অস্তিত্বই উনার মধ্যে নেই।
মহান আল্লাহ পাক “পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ” উনার ১৫ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قد جاءكم من الله نور.
অর্থ: “নিশ্চয় তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ‘নূর’ এসেছেন।”
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال قلت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم انت بابى انت وامى اخبرنى عن اول شىء خلق الله تعالى قبل الاشياء قال يا جابر رضى الله تعالى عنه ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نور نبيك.
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক সবকিছুর পূর্বে আপনার নবী উনার নূর মুবারককে সৃষ্টি করেন।” মুসনাদে আব্দির রয্যাক, দালায়িলুন নুবুওওয়াত, মাদারিজুন নুবুওওয়াত ইত্যাদি।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ نَبِيْطِ بْنِ شَرِيْطٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اَتَانِـىْ حَضْرَتْ جِبْـرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ يَا سَيِّدَنَا مَوْلـٰـنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقْرَاُ عَلَيْكَ السَّلَامَ وَيَقُوْلُ وَعِزَّتِىْ وَجَلَالِـىْ لَا اُعَذِّبُ اَحَدًا سُـمِّىَ بِاسْـمِكَ بِالنَّارِ يَا سَيِّدَنَا مَوْلـٰـنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত নাবীত্ব ইবনে শারীত্ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিয়ে বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সালাম মুবারক জানিয়েছেন এবং ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমার সম্মানিত ইয্যাত ও জালালিয়াত মুবারক উনাদের ক্বসম! আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক-এ যাদের নাম রাখা হবে, আমি তাদের কাউকেই দোযখে শাস্তি প্রদান করবো না। ” সুবহানাল্লাহ! (নুস্খাতু নাবীত্ব ইবনে শারীত্ব ১১৯ পৃষ্ঠা)
"ভোগে সুখ নেই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ" 💚
মূলভাব:
দুনিয়ার জিনিস বেশি বেশি ভোগ করলে, খেলে, কিনলে, জমালে শান্তি আসে না। বরং যা আছে তা থেকে কিছু আল্লাহর রাস্তায়, মানুষের জন্য ছেড়ে দিলেই দিলে আসল শান্তি আসে।
ব্যাখ্যা:
১. ভোগে সুখ নেই কেন?
ভোগ মানে শুধু নিজের জন্য খাওয়া, ঘুমানো, কেনা, জমানো।
- একটা ফোন কিনলে ২ দিন ভালো লাগে, তারপর আবার নতুন মডেল চাই
- বেশি খেলে শরীর অসুস্থ হয়
- বেশি টাকা জমালেও টেনশন বাড়ে "চুরি হবে, লস হবে"
এটাকে বলে "ভোগের ক্ষুধা"। যত ভোগ করবেন, চাহিদা তত বাড়বে। তাই তৃপ্তি আসে না।
মহাস আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন - "প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল রাখে" - পবিত্র সূরা তাকাসুর শরীফ।
২. ত্যাগেই প্রকৃত সুখ কেন?
ত্যাগ মানে নিজের আরাম, টাকা, সময় অন্যের জন্য ছেড়ে দেওয়া।
- গরীবকে ১০০ টাকা দান করলে দিলে যে শান্তি লাগে, ১০০০ টাকার শপিংয়েও তা লাগে না
- নিজে না খেয়ে মেহমানকে খাওয়ালে যে তৃপ্তি, নিজে পেট ভরে খেলেও তা নাই
- রাতের ঘুম ত্যাগ করে তাহাজ্জুদ পড়লে যে নূর দিলে আসে, দুনিয়ার সব আরামেও তা নাই।
সব বাদ দিয়ে নিয়মিত সবক আদায় ও যিকিরে মশগুল থাকলে যে ইতমিনান তা আড্ডা মাস্তিতে নাই!!
কারণ ত্যাগের সময় আমরা "নফস" কে হারাই। আর নফসকে হারালেই রূহ শান্তি পায়।
৩. উদাহরণ দিয়ে বুঝি:
সমুদ্রের পানি যত খাবে তৃষ্ণা তত বাড়বে। এটা হলো "ভোগ"।
আর ঝর্ণার পানি অন্যকে পান করালে নিজেরও তৃষ্ণা মিটে যায়। এটা হলো "ত্যাগ"।
সারকথা ২ লাইনে:
ভোগ = পাওয়ার জন্য দৌড়ানো = অশান্তি
ত্যাগ = দেওয়ার জন্য শান্ত হওয়া = প্রকৃত সুখ
হযরত শেখ সাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: "যে দেয় সে রাজা, যে নেয় সে ফকির"।
তাই আসুন, আমরা ভোগ কমাই, ত্যাগ বাড়াই। দান করি, ক্ষমা করি, ঘুম, অলসতা বাদ দিয়ে দ্বীনী কাজে সময় দেই। দেখবেন দিলে অটোমেটিক শান্তি এসে যাবে ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ত্যাগী বান্দা হওয়ার তৌফিক দিন। আমীন।
কোনটা করবেন?
সেটা আপনার বিষয়!!
১. হাদীছ-এ-কুদসী শরীফে এসেছে।
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ، وَإِلَّا تَفْعَلْ مَلَأْتُ يَدَيْكَ شُغْلًا وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ
অর্থঃ
"মহান আল্লাহ তাবারক ওয়া তাআ'লা তিনি বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করো, আলাদা করে নাও। আমি তোমার অন্তরকে অমুখাপেক্ষিতা দ্বারা ভরে দিবো এবং তোমার অভাব দূর করে দিবো। আর যদি তা না করো, তবে আমি তোমার দুই হাতকে ব্যস্ততা দ্বারা ভরে দিবো এবং তোমার অভাব দূর করবো না।"
- তিরমিজি শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ
২. বিস্তারিত ব্যাখ্যা
মূল ৩টি বিষয়:
ক) "تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي" = আমার ইবাদতের জন্য ফারেগ হও
এখানে ২৪ ঘন্টা মসজিদে বসে থাকার কথা বলা হয়নি। বরং ফরয ইবাদত ঠিকমতো করা + কিছু সময়
যিকির-তিলাওয়াত, কিতাবাদি পড়া,ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। আর সারাক্ষণ যিকিরের খেয়ালে থাকা। নিয়ত ঠিক রেখে হালাল রিযিক কামানোও ইবাদত।
খ) "أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى" = অন্তরকে ধনী বানিয়ে দিবো
এটা হলো "গিনায়ে ক্বলবী"। ১০ টাকা থাকলেও মনে হবে আমি বাদশাহ। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তায়াক্কুল আছে। হযরত ফারুকে আযম আলাইহিসসালাম তিনি বলতেন: "ধনী সে না যার সম্পদ বেশি, ধনী সে যার দিল ধনী।"
গ) "مَلَأْتُ يَدَيْكَ شُغْلًا" = দুই হাতকে ব্যস্ততা দিয়ে ভরে দিবো
মহান আল্লাহ পাক থেকে গাফেল হলে দুনিয়া পিছনে লাগিয়ে দেন। সারাদিন দৌড়াবে, কিন্তু বরকত থাকবে না। "কামাই আছে, শান্তি নাই" — এই অবস্থা।
৩. উলামায়ে কেরামের নসীহত মুবারক:
"যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য সময় বের করে, মহান আল্লাহ পাক তার সব কাজের জন্য সময় বের করে দেন। আর যে দুনিয়ার জন্য সময় বের করে, দুনিয়া তাকে ধ্বংস করে দেয়।"
সারকথা
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সাথে "চুক্তি" করছেন:
তুমি আমাকে সময় দাও → আমি তোমাকে শান্তি + বরকত দিবো।*
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এই হাদীছ শরীফের উপর আমল করার তৌফিক দিন। আমীন
"একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি অপর একজন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করতে পারে না, একজন মূর্খ ব্যক্তি অপর মূর্খ ব্যক্তিকে কিছু শিখাতে পারে না।"
— হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মূলভাব:
যে নিজে জ্ঞানী নয়, মহান আল্লাহ পাক উনার পথে জাগ্রত নয়, হেদায়েত প্রাপ্ত নয়, সে অন্য কাউকে জ্ঞান দিতে পারে না, হেদায়েতের পথ দেখাতে পারে না। আলো দিতে হলে নিজের মধ্যে প্রথমে আলো থাকতে হয়।
একটু বিস্তারিতভাবে বললে এভাবে বলতে হবে-
পৃথিবীতে প্রতিটি কাজের জন্য যোগ্যতা লাগে। ডাক্তার হতে হলে নিজেকে আগে ডাক্তারি পড়তে হয়। শিক্ষক হতে হলে নিজেকে আগে শিক্ষিত হতে হয়। ঠিক তেমনিভাবে আত্মার ডাক্তার, মানুষের হেদায়েতের কাজও একই নিয়মে চলে।
"ঘুমন্ত" বলতে এখানে দুই ধরনের ঘুম বোঝানো হয়েছে। একটা হলো চোখের ঘুম, আরেকটা হলো দিলের ঘুম তথা গাফলত। যে ব্যক্তি নিজেই গাফেল, নামায-কালাম নাই, আখিরাতের ফিকির নাই, সে অন্য গাফেলকে কীভাবে নামাযের দিকে ডাকবে? তার কথায় কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ তার নিজের জীবনেই ইসলামের নূর নাই।
আবার "মূর্খ" বলতে শুধু অশিক্ষিত বোঝায় না। পবিত্র দ্বীন ইসলামের ইলম না থাকাটাও সবচেয়ে বড় মূর্খতা। যে নিজেই কুরআন-হাদীছ জানে না, হালাল-হারাম চেনে না, সে অন্য কাউকে কী শিখাবে? উল্টো ভুল মাসআলা শিখিয়ে নিজেও গোমরাহ হবে, অপরকেও গোমরাহ করবে।
হযরত শেখ সাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই উক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে ২টা শিক্ষা দিলেন:
১. আগে নিজে সংশোধন হও, তারপর অন্যের সংশোধনের ফিকির করো।
২. ইলম ও আমলওয়ালা ব্যক্তির সোহবত ইখতিয়ার করো।* কারণ আলোকিত প্রদীপই পারে অন্য প্রদীপ জ্বালাতে। নিভা প্রদীপ দিয়ে আরেকটা নিভা প্রদীপ জ্বালানো যায় না।
তাই বন্ধুরা, আসুন, আমরা আগে নিজে জাগ্রত হই। নিজে ইলম অর্জন করি, আমল করি। তারপর দাওয়াতের কাজ করি। তাহলেই আমাদের কথা মানুষের দিলে আছর করবে ইনশাআল্লাহ। নতুবা "খালি কলসি বাজে বেশি" এর মতো অবস্থা হবে।
মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে জাগ্রত ও জ্ঞানী বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।