মৃত্যুর ভয়ের চেয়ে খিদের যন্ত্রণা অনেক বেশি নিষ্ঠুর, অনেক বেশি আদিম। মৃত্যুর ভয় মানুষকে হয়তো থামিয়ে দেয়, কিন্তু চোখের সামনে আপনজনদের খিদের কষ্ট মানুষকে মরিয়া করে তোলে। সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে সে পথে নামল…

বাতাসে বারুদ আর পোড়া মাংসের গন্ধ। চারপাশের চেনা রাস্তাগুলো এখন শুধু ইট-পাথরের ধ্বংস-স্তুপ! এক পা, দু পা... মাত্র কয়েক মিটার পেরিয়েছে সে।

হঠাৎ চারপাশটা যেন এক অন্ধ করা সাদা আলোয় ঝলসে গেল! আকাশ-ফাটানো এক বিস্ফোরণের শব্দে পৃথিবীটা দুলে উঠল, আর তারপরই সব গাঢ় অন্ধকার…
.
যখন তার জ্ঞান ফিরল, চারপাশের বাতাসে ওষুধের কটু গন্ধ আর মানুষের গোঙানির আওয়াজ। হাসপাতালের একটা রক্তমাখা বিছানায় শুয়ে আছে সে। মাথা তুলে ওঠার চেষ্টা করতেই শরীরের নিচের অংশে এক অদ্ভুত, ভয়ংকর শূন্যতা! চাদরটা সরিয়ে সে দেখল, যে পা দুটোর ওপর ভর করে সে একমুঠো খাবারের আশায় মৃত্যুর দিকে হেঁটে গিয়েছিল, সেই পা দুটো আর নেই।

গাজায় আজ ক্ষুধা শুধু কোনো শারীরিক কষ্ট নয়। এটি এমন এক অদৃশ্য আর নিষ্ঠুর ফাঁদ, যা মানুষকে বাধ্য করে নিজের পায়ে হেঁটে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে। আর যখন সে ফেরে, তখন ওই ফাঁদ তার পা দুটো’ই খেয়ে ফেলে!
–
*[সত্য ঘটনা অবলম্বনে]
লেখা সংগ্রহ