নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১৩)

হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার খুৎতবা মুবারক:
وَفِي الـمُنْتَقَى فَلَمَّا أَتَمَّ أَبُو طَالِبٍ خُطْبَتَهُ تَكَلَّمَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ فَقَالَ اَلْـحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي جَعَلَنَا كَمَا ذَكَرْتَ وَفَضَّلَنَا عَلَى مَا عَدَدْتَ فَنَحْنُ سَادَةُ الْعَرَبِ وَقَادَتُهَا وَأَنْتُمْ أَهْلُ ذٰلِكَ كُلِّهِ لَا تُنْكِرُ الْعَشِيرَةُ فَضْلَكُمْ وَلَا يَرُدُّ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ فَخْرَكُمْ وَشَرَفَكُمْ وَقَدْ رَغِبْنَا فِي الِاتِّصَالِ بِحَبْلِكُمْ وَشَرَفِكُمْ فَاشْهَدُوا عَلَيَّ مَعَاشِرَ قُرَيْشٍ بِأَنِّي قَدْ زَوَّجْتُ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ عَلَى أَرْبَعِمِائَةِ دِينَارٍ ثُمَّ سَكَتَ وَرَقَةُ
“আর ‘আল মুনতাক্বা’ কিতাব উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, যখন খাজা আবূ ত্বালিব তিনি উনার খুতবা শেষ করলেন, তখন হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু (যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচাত ভাই ছিলেন) তিনি কথা মুবারক বলেন এবং তিনি বলেন— ‘সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্য, যিনি আমাদেরকে আপনি যেমন বর্ণনা করেছেন, তেমন মর্যাদাশালী করেছেন এবং আপনি যেমন ছিফত (গুণাবলি) উল্লেখ করেছেন, তাতে আমাদেরকে বিশেষ সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আমরা আরবদের সাইয়্যিদ (সরদার) এবং মর্যাদাশালী পরিবার, আর আপনারা সেই মর্যাদা ও সম্মানের প্রকৃত মালিক (অধিকারী)। আপনার গোত্রের শ্রেষ্ঠত্ব কেউ অস্বীকার করে না, আর মানুষের মধ্যে কেউই আপনাদের গৌরব ও মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করে না। আমরা আপনাদের সম্মানিত বংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। অতএব, হে কুরাইশগণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন— আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা মাওলানা মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে চারশত (৪০০) দিনার মোহরে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! এরপর হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নীরব হলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/২৬৪)

হযরত আমর ইবনে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বক্তব্য মুবারক:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
وَتَكَلَّمَ أَبُو طَالِبٍ فَقَالَ قَدْ أَحْبَبْتُ أَنْ يُشْرِكَكَ عَمُّهَا فَقَالَ عَمُّهَا اشْهَدُوا عَلَيَّ يَا مَعَاشِرَ قُرَيْشٍ أَنِّي قَدْ أَنْكَحْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللّٰهِ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ وَشَهِدَ عَلَى ذٰلِكَ صَنَادِيدُ قُرَيْشٍ
“খাজা আবূ ত্বালিব তিনি আবারও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি পছন্দ করি যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত চাচা তিনিও এই বিষয়ে অংশ গ্রহণ করুন।’ তখন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত চাচা তিনি বলেন— ‘হে কুরাইশগণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন— আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা মাওলানা মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছি।’ সুবহানাল্লাহ! আর এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সাক্ষী ছিলেন কুরাইশ গোত্রের সম্মানিত এবং বিশিষ্ট সাইয়্যিদগণ (সরদারগণ)।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/২৬৪)
এভাবে ইজাব ও কবূল মুবারক সম্পন্ন হন। সুবহানাল্লাহ!