নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৫)

অন্য বর্ণনায় এসেছেন,
فَخَرَجَ حَتَّى قَدِمَ الشَّامَ فَنَزَلَا فِي سُوقِ بُصْرَى فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ قَرِيبٍ مِنْ صَوْمَعَةِ رَاهِبٍ يُقَالُ لَهُ نَسْطُورَا فَاطَّلَعَ الرَّاهِبُ إِلَى مَيْسَرَةَ وَكَانَ يَعْرِفُهُ فَقَالَ يَا مَيْسَرَةُ مَنْ هٰذَا الَّذِي نَزَلَ تَحْتَ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ فَقَالَ مَيْسَرَةُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ الرَّاهِبُ مَا نَزَلَ تَحْتَ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ قَطُّ إِلَّا نَبِيٌّ أَفِي عَيْنَيْهِ حُمْرَةٌ قَالَ مَيْسَرَةُ نَعَمْ لَا تُفَارِقُهُ فَقَالَ الرَّاهِبُ هُوَ هُوَ وَهُوَ آخِرُ الْأَنْبِيَاءِ وَيَا لَيْتَنِي أُدْرِكُهُ حِينَ يُؤْمَرُ بِالْخُرُوجِ
“অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হলেন এবং শাম দেশে পেঁৗছলেন। উনারা বছরার বাজারে অবতরণ করে একটি বৃক্ষের ছায়াতলে বিশ্রাম নিলেন, যা ছিলো একজন পাদ্রীর গির্জার নিকটে। সেই পাদ্রীর নাম ছিলো হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি। সেই পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে তাকালেন এবং উনার পূর্ব পরিচিত হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন— ‘হে হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি কে, যিনি ঐ গাছের নিচে বিশ্রাম মুবারক নিচ্ছেন?’ হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন— ‘তিনি হচ্ছেন কুরাইশ গোত্রের একজন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ব্যক্তিত্ব মুবারক।’ পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘এই বৃক্ষের নিচে হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত কখনোই কেউ বিশ্রাম নেননি। বলুন তো— উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক—এ (চোখ মুবারক—এ) কি হালকা লালচে আভা রয়েছেন?’ হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘হঁ্যা; রয়েছেন, সব সময়ই তা বিদ্যমান থাকেন।’ পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন বললেন, ‘উনিই তিনি, তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র শেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আহ্! তিনি যখন মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করার জন্য মহাসম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হবেন, তখন আমি যদি উনাকে পেতাম। অর্থাৎ আমি যদি উনার আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত—রিসালাত মুবারক প্রকাশের সময়কাল পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারতাম!”
পরবতীর্তে সেই পাদ্রী সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক—এ যেয়ে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মালাহাহ্ মুবারক—এ (কপাল মুবারক—এ) বূছা দিয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। আমাদের আসমানী কিতাবে আপনার বর্ণনা মুবারক রয়েছেন। আপনি হচ্ছেন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তবে, আর কিছু দিন পর আপনার মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত—রিসালাত মুবারক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাবেন। আমি কিন্তু আপনার প্রতি সম্মানিত ঈমান আনলাম। সুবহানাল্লাহ!