এমন ৩টি মারাত্মক শব্দ রয়েছে, যা মানুষের জীবন থেকে সব নেয়ামত ছিনিয়ে নেয় এবং ধ্বংস ডেকে আনে।

ইতিহাসে যে তিনজন এই শব্দগুলো প্রথম বলেছিল, এই শব্দগুলোই তাদের চরম পতনের কারণ হয়েছিল।

​প্রথম শব্দ: "আমি"

ফেরেশতাদেরকে যখন হযরত আদম আ. এর উদ্দেশ্যে সেজদা করতে বলা হলো, ইবলিস তখন বলেছিল,

"আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে।" (সূরা আল-আরাফ: ১২)

শয়তান আল্লাহর নির্দেশ পালনের বদলে অহংকার করে বলেছিল "আমি উত্তম!"

এই 'আমি' শব্দটির কারণেই সে চিরকালের জন্য জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল।

যখনই আপনি বলেন "আমি ওর চেয়ে ভালো, আমি বেশি বুদ্ধিমান", তখন আপনি মূলত ইবলিসের ওই অহংকারেরই পুনরাবৃত্তি করেন।

তাই 'আমি' না বলে বলুন: "সবই আল্লাহর তাওফিক ও দয়া।"

​দ্বিতীয় শব্দ: "আমার"

ফেরাউন অহংকার করে বলেছিল,

"মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এই নদীগুলো কি আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না?" (সূরা যুখরুফ: ৫১)

রাজত্ব যে আল্লাহর দান, তা ভুলে সে বলেছিল "আমার"। এই 'আমার' শব্দটিই তাকে সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিল।

যখনই আপনি বলেন, "আমার বাড়ি, আমার গাড়ি, আমার ডিগ্রি বা আমার কোম্পানি" এবং আল্লাহকে ভুলে যান, তখন আপনি ফেরাউনের কথারই প্রতিধ্বনি করেন।

তাই 'আমার' না বলে বলুন, "এগুলো আমার রবের করুণা ও রিজিক।"

​তৃতীয় শব্দ: "আমার নিজের যোগ্যতায়"

বিশাল সম্পদের মালিক কারুন বলেছিল,

"এসব সম্পদ তো আমি আমার নিজের জ্ঞানের (যোগ্যতার) জোরেই পেয়েছি।" (সূরা কাসাস: ৭৮)

যখন তাকে বলা হলো এগুলো আল্লাহর দান, তখন সে তার নিজের বুদ্ধি ও যোগ্যতার বড়াই করল। ফলে এই অহংকার তাকে ও তার রাজপ্রাসাদকে মাটির নিচে ধসিয়ে দিল!

যখনই আপনি বলেন, "আমি নিজের বুদ্ধি দিয়ে এত টাকা কামিয়েছি", তখন আপনি কারুনের স্বভাবই অনুকরণ করেন।

যে ব্যক্তি কোনো নেয়ামত পাওয়ার পর তা নিজের যোগ্যতা বা চেষ্টার দিকে সম্পৃক্ত করে, তার কাছ থেকে সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

আর যে তা আল্লাহর দান বলে স্বীকার করে, তার নেয়ামত স্থায়ী হয়।

আজ থেকে 'আমি' না বলে 'আল্লাহ' বলুন। 'আমার' না বলে 'আল্লাহর দেওয়া' বলুন। 'আমার কাছে আছে' না বলে 'আল্লাহর কাছে আছে' বলুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তর থেকে 'আমি' এবং 'আমার'-এর অহংকার চিরতরে দূর করে দিন।

জীবনের প্রতিটি অর্জনে রবের শুকরিয়া আদায় করার এবং সব নেয়ামতকে কেবল আল্লাহর দান বলে বিশ্বাস করার তাওফিক দিন। আমিন
লেখা সংগ্রহ