সংবাদ সম্মেলন:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক অবমাননাকারীদের মৃত্যুদ- দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল,সীমান্ত রক্ষাসহ ১৬ দফা দাবীতে সমাবেশ


গতকাল জুমুয়াবার বা’দ জুমুয়া রাজধানীর মালিবাগ মোড়ের ফাল ইয়াফরাহু চত্ত্বরে ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’র উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সৎ কাজের আদেশ এবং অন্যায় কাজের নিষেধ কারর নির্দেশ পালনার্থে ঈমান, ইসলাম এবং মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে মহাসমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি ১৬ দফা দাবিনামা পেশ করা হয়:

১. ক) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে অবমাননাকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি ‘ফাঁসি’ রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে কোনো কুলাঙ্গার মানহানি করলে তার একমাত্র শরঈ শাস্তি ‘মৃত্যুদ-’ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। সাতক্ষীরায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানি কারী শামীম নামক কুলাঙ্গারকে জাহান্নামে পাঠানোর কারণে যে দ্বীনদার মুসলমান ভাইদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করতে হবে। বিশ্বসন্ত্রাসী ড্রাম্প কর্তৃক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নাম মুবারক নিয়ে ব্যঙ্গ করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুসলিম বিশ্বকে তার মৃত্যুদ-ের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

খ) গাজা, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ভারত, মায়ানমারসহ সারা বিশ্বে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিরোধ করতে হবে এবং মুসলমান উনাদের জন্য পৃথক স্বাধীন ভূমির ব্যবস্তা করতে হবে।

২. মুসলমানদের এই দেশে প্রতিটি জায়গায় প্রকাশ্যে গরু জবাই হবে; যাদের গরু জবাই বা গোশত পছন্দ নয়, তাদের অবিলম্বে ভারতে চলে যাওয়া উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের গরু খাওয়ার আয়োজন বার বার করতে হবে। আর হোটেল রেস্তোরাগুেেরাতে সামুদ্রিক খাবারের নামে সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস ইত্যাদি খাওয়া ইসলামী শরীয়তে মাছ ছাড়া সম্পূর্ণ হারাম হওয়ায় তা পরিহার করতে হবে।

৩. পূজার মূর্তি উন্মুক্ত পানিতে ফেলা নিষিদ্ধকরণ ও ৮ দফা দ্বীনী দাবি

পরিবেশ রক্ষার্থে নদী, খাল, বিল ও সমুদ্রে পূজার মূর্তি উন্মুক্ত পানিতে ডুবানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

পূজার ছুটি সম্পূর্ণ বাতিল বা ঐচ্ছিক করতে হবে, রাস্তা বন্ধ করে অবৈধ পূজা ও ম-প তৈরি বন্ধ করতে হবে, পূজায় সরকারি ত্রাণের চাল দেওয়া যাবে না, পূজাকে ‘সার্বজনীন’ বলা কাট্টা কুফরী ও শিরক ঘোষণা করতে হবে এবং মূর্তির ছবির নিচ দিয়ে যাওয়া মুসলমানদের জন্য শিরকী গুনাহ হওয়ায় রাস্তার তোরণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

৪. ইহুদিদের দালাল সমকামী-লাওওয়াত্ব, সুদখোর ইউনূস আমলে করা সকল চূক্তি ও ১৩৩টি অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে। বিশেষ করে-

ক. আমেরিকার সাথে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।

খ. আমেরিকা থেকে বিষাক্ত গম কেনা, সয়াবিন তেল কেনা বন্ধ করতে হবে।

গ. মার্কিন কোম্পানি গানভরের থেকে উচ্চমূল্যে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার চূক্তি বাতিল করতে হবে।

ঘ. আমেরিকা থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি অবশ্যই, অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

৫. বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'সিকিউরিপোর্ট'-এর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রের কৌশলগত নিরাপত্তার বিষয়; সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনদের হাতে এটি হস্তান্তর করা হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

৬. দেশের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে শত শত মানুষ আহত হওয়ার ঘটনার পর প্রমাণ হয় বেওয়ারিশ কুকুর নিধন না করায় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। কুকুর ও পানি-আতঙ্কের ভয়াবহতায় শিশু মৃত্যু ও জনজীবন বিপন্ন হওয়ার প্রেক্ষিতে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ৩ প্রকার (বাড়ি, ক্ষেত-খামার ও শিকার) ব্যতীত সকল প্রকার ক্ষতিকারক বেওয়ারিশ কুকুর নিধন অভিযান পুনরায় সরকারীভাবে চালু করতে হবে। কুকুরের চেয়ে মানুষের জীবনের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মানুষের জীবনের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়াই শরীয়তের মূল বিধান।

৭. বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রদ্বীন ‘ইসলাম’-এর পাশাপাশি বহুত্ববাদ বা অন্য কোনো ধর্মের নাম ঢুকানোর যেকোনো ষড়যন্ত্র শক্তভাবে দমন করা হবে।

৮. কক্সবাজারের মাতারবাড়ি বন্দর ব্যবহার করে জাপানের মাধ্যমে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে করিডোর দেওয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশকে আমেরিকা-চীনের প্রক্সি যুদ্ধের মধ্যে ফেলে দেবে বিধায় তা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

৯. মাদকের বিরুদ্ধে সরকারি অভিযান আরও জোরদার করতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কাজকারীদের শাস্তির বদলে পুরস্কৃত করতে হবে।

১০. লালনের বেশরিয়তি ও বৈষ্ণব ধর্ম থেকে উদ্ভূত বিভ্রান্তিকর দর্শন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের মাঝে লালনবাদ শেখানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে তা নিষিদ্ধ করতে হবে।

১১. বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া হকার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক, পাথর উত্তোলনকারী ও জেলেদের হালাল পেশায় বাধা দেওয়া বা হেনস্তা করা বন্ধ করতে হবে।

১২. ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ‘মহিলা’ (আরবী ‘মহল’ থেকে আগত) শব্দ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

১৩. ইথোফেন বা কার্বাইডের অজুহাতে দেশি ফল ধ্বংস করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

১৪. আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও শর্তের বেড়াজাল দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে বিধায় এই ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১৫. বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের আসামে গত ২ দিনে ১১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভাঙ্গা হয়েছে ১০টি মসজিদ। এছাড়া ভারতের উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমদের উপর যুলুম নির্যাতন বেড়েছে। রাজ্যটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এদিকে গুজরাটের কসাই মোদির দিল্লিতে বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, মসজিদ ভাঙা এবং উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্মম জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে।

১৬. সঠিক ইসলামী জ্ঞানার্জনের জন্য দেশবাসীকে নিয়মিত ‘দৈনিক আল ইহসান শরীফ’ পাঠ করার আহ্বান জানানো হয়। রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সংগীত বাতিল করতে হবে ও তার ছবিতে চুনকালি মাখানো দেশপ্রেমিকদের মুক্তি দিতে হবে। ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’- কুফরী সেøাগান পরিহার করতে হবে ও পরিবার পরিকল্পনা নিষিদ্ধ করতে হবে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিক্রি বাতিল করতে হবে। পাহাড়ে আদিবাসী দাবীদারদের নির্মূল করতে হবে। উপজাতিরা কখনই আদিবাসী নয় বরং বাংগালীরাই এই অঞ্চলের আদিবাসী।

সেই সাথে যারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে, এমপি মন্ত্রী হয় তাদের অনেক পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জন করা উচিত। পর্যাপ্ত দ্বীনী ও দুনিয়াবী জ্ঞান না থাকার কারণে তারা এমন সব বক্তব্য দেয় যাকে দেশের মর্যাদা ক্ষুণœ হয়। দেশের ও ইসলামের মর্যাদা বুঝে কথা বলা উচিত। (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)