১. ইমাম শাফেয়ী (রহ.) (১৫০–২০৪ হিজরী) ও সালাফদের দরূদ মজলিসের ফতোয়া
মুহাদ্দিস ও ফকীহ ইমাম আল-বায়হাকী (রহ.) তাঁর ‘আদাবুশ-শাফেয়ী ওয়া মানাকিবুহু’ গ্রন্থে ২০০ হিজরীর পূর্বে ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ও তৎকালীন আলেমদের আমল সংকলন করেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«قَالَ الإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله: أُحِبُّ الصَّلاَةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي كُلِّ حَالٍ، وَأَحَبُّ مَا تَكُونُ إِذَا اجْتَمَعَ النَّاسُ فِي المَسَاجِدِ لِلصَّلاَةِ وَالدُّعَاءِ، فَإِنَّ المَجْلِسَ يَمْتَلِئُ بِالرَّحْمَةِ، وَتَنْكَشِفُ بِهِ الغُمَّةُ»
বাংলা উচ্চারণ:
ক্বাল্যাল ইমামুশ শাফি‘ইয্যূ রাহিমাহুল্লাহ: উহিব্বুচ্ছ-ছলাাতা ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লামা ফী কুল্লি হাাল, ওয়া আহাব্বু মা তাকূনু ইজতামা‘আন নাাসু ফিল মাসাাজিদি লিচ্ছ-ছলাাতি ওয়াদ-দু‘আাা, ফাইন্নাল মজলিসা ইয়ামতালিউ বির্-রাহমাতি, ওয়া তানকাশিফু বিহিল গুম্মাহ.
বাংলা অনুবাদ:
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: "আমি সর্বাবস্থায় নবীজী ﷺ-এর ওপর দরূদ পাঠ করা পছন্দ করি। আর সবচেয়ে বেশি প্রিয় হলো যখন মানুষ মসজিদসমূহে নামাজ ও দোয়ার জন্য একত্র হয় এবং দরূদ পাঠ করে। কেননা এমন যৌথ মজলিস আল্লাহর রহমতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে উম্মতের ওপর থেকে চরম সংকট ও অন্ধকার দূর হয়।"
(সূত্র: মানাকিবুশ-শাফেয়ী - ইমাম বায়হাকী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৩৮)
২. তাবে-তাবেঈ যুগের বিশিষ্ট ফকীহ ইমাম সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়নাহ (১০৭–১৯৮ হিজরী)
ইমাম আবু নুআইম আল-আসফাহানী (রহ.) তাঁর প্রামাণ্য আকর গ্রন্থ ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’ (حلية الأولياء)-তে ২য় হিজরী শতকের মক্কার সালাফদের সুনির্দিষ্ট আমল সংকলন করেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: إِذَا اجْتَمَعَ العَبِيدُ فِي مَجْلِسٍ فَصَلَّوْا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَفَّتْهُمُ المَلاَئِكَةُ، وَنَادَى مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ: قُومُوا مَغْفُوراً لَكُمْ، فَقَدْ بُدِّلَتْ سَيِّئَاتُكُمْ حَسَنَاتٍ»
বাংলা উচ্চারণ:
ক্বালা সুফিয়ানুব নু ‘উয়াইনাহ: ইযাজ তামা‘আল ‘আবীদু ফী মজলিসিন ফচ্ছাল্লাউ ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লাম, হাফফাতহুমুল মালাাা'ইকাতু, ওয়া নাাদাা মুনাাদিম মিনাস সামাাা'ই: ক্বূমূ মাগফূরাল ল্যাকুম, ক্বাদ বুদ্দিলাত সায়্যিআাতুকুম হাসানাাত.
বাংলা অনুবাদ:
ইমাম সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়নাহ (রহ.) বলেন: "আল্লাহর বান্দারা যখন কোনো মজলিসে একত্র হয়ে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরূদ পাঠ করে, ফেরেশতাগণ তাদের ঘিরে ফেলেন। তখন আসমান থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দেন: তোমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় উঠে দাঁড়াও! নিশ্চয়ই তোমাদের পাপরাশিকে পুণ্যে পরিণত করা হয়েছে।"
(সূত্র: হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবাক্বাতুল আসফিয়া, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ২৭০)
৩. মুহাদ্দিসদের সর্দার ইমাম ওয়াকী ইবনুল জাররাহ (১২৯–১৯৭ হিজরী) ও কুফার মুহাদ্দিস সমাজ
ইমাম ইবনে আবী শায়বাহ (রহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ‘আল-মুসান্নাফ’ কিতাবে ২০০ হিজরী পূর্ববর্তী কুফা ও বসরার মুহাদ্দিসগণের দরূদ মজলিসের সুন্নাত সংকলন করেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«عَنْ وَكِيعِ بْنِ الجَرَّاحِ قَالَ: كَانَ أَصْحَابُنَا إِذَا فَرَغُوا مِنْ مَجْلِسِ الحَدِيثِ أَوْ صَلاَةِ الجَنَازَةِ، قَعَدُوا مَجْلِساً لِلصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَرَوْنَ أَنَّهُ يَطْرُدُ الشَّيْطَانَ وَيَجْلِبُ الرَّحْمَةَ»
বাংলা উচ্চারণ:
‘আন ওয়াকী‘ইবনিল জাররাহি ক্বালা: কাানা আছহাবূনাা ইযা ফারাগূ মিন মজলিসিল হাদীছি আও ছলাাতিল জানাাযাতি, ক্বা‘াদূ মজলিসাল লিচ্ছ-ছলাাতি ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লাম, যারাওনা আন্নাহূ ইয়াতরুদুশ শায়ত্বাানা ওয়া ইয়াজলিবুর রাহমাহ.
বাংলা অনুবাদ:
ইমাম ওয়াকী ইবনুল জাররাহ (রহ.) বলেন: "আমাদের সালাফ ও শিক্ষকগণ (তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈগণ) যখন হাদীসের মজলিস কিংবা জানাজার নামাজ শেষ করতেন, তখন বিশেষভাবে দরূদ পাঠের জন্য একটি মজলিসে বসতেন। তারা মনে করতেন যে, এই আমল শয়তানকে দূর করে এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত টেনে আনে।"
(সূত্র: মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, খণ্ড: ৬, হাদীস নং: ৩২৪১৫)
৪. তাবে-তাবেঈ ইমাম আবু ইসহাক আল-ফাযারী (মৃত্যু: ১৮৫ হিজরী) ও শামের সীমান্তবাসীদের ইজতিমা
হাদীস বিশারদ ইমাম ইবনে আসাকির (রহ.) তাঁর ‘তারীখে দিমাশক’ (تاريخ دمشق) গ্রন্থে ২য় হিজরী শতকের মুজাহিদ ও সালাফদের যুদ্ধকালীন দরূদ মজলিসের ঐতিহাসিক সনদ সংকলন করেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الفَزَارِيِّ قَالَ: كُنَّا إِذَا حُصِرْنَا فِي الثُّغُورِ وَخِفْنَا العَدُوَّ، نَجْمَعُ المُرَابِطِينَ، فَنَجْعَلُ وِرْدَنَا الصَّلاَةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَا نَمْضِي لَيْلَةً حَتَّى يَنْزِلَ النَّصْرُ أَوْ يَنْهَزِمَ العَدُوُّ»
বাংলা উচ্চারণ:
‘আন আবী ইসহাাক্বাল ফাযাারিয়্যি ক্বালা: কুন্নাা ইযা হুছিরনাা ফিছ ছুগূরি ওয়া খিফনাল ‘াদূউওয়া, নাজমা‘উল মুরাাবিত্বীনা, ফানাজ‘আলু বিরদানাচ্ছ-ছলাাতা ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লাম, ফামাা নামদ্বী লাইলাতান হাত্তাা ইয়ানযিলান নাছরু আও ইয়ানহাযিমাল ‘াদূউও.
বাংলা অনুবাদ:
তাবে-তাবেঈ ইমাম আবু ইসহাক আল-ফাযারী (রহ.) বলেন: "আমরা যখন সীমান্ত ঘাঁটিতে শত্রুর অবরোধের মুখে পড়তাম এবং শঙ্কার সৃষ্টি হতো, তখন আমরা সমস্ত মুরাবিত (সীমান্তরক্ষী মুজাহিদদের) একত্র করতাম। আমাদের প্রধান ওয়াজিফা বানিয়ে নিতাম নবীজী ﷺ-এর ওপর যৌথ দরূদ পাঠকে। একটি রাত অতিক্রম হতে না হতেই আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য নেমে আসত কিংবা শত্রু পরাস্ত হয়ে পালিয়ে যেত।"
(সূত্র: তারীখে দিমাশক - ইবনে আসাকির, খণ্ড: ৩৪, পৃষ্ঠা: ২৬৫)