নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৩)
এরপর আমি এক এক দরজা খুলে নিচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পেঁৗছলাম। জ্যোৎস্নার রাত্র ছিলো। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিলো।) তাই, নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। সাথে সাথেই আমার পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙ্গে গেলো। (তাড়াতাড়ি করে) আমি আমার পাগড়ী দিয়ে পা বেঁধে নিলাম। তারপর একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম।
فَقُلْتُ لَا اَخْرُجُ اللَّيْلَةَ حَتّٰى اَعْلَمَ اَقَتَلْتُهٗ
‘মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি কি তাকে হত্যা করতে পেরেছি, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে পেরেছি? এটা নিশ্চিতভাবে না জানা পর্যন্ত আজ রাতে এখান থেকে বের হবো না।’
(ভোর রাতে) যখন মোরগ ডাকা শুরু করলো, তখন মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপর উঠে ঘোষণা করলো, ‘হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রফের মৃত্যু সংবাদ গ্রহণ করো।’
فَانْطَلَقْتُ اِلٰى اَصْحَابِىْ فَقُلْتُ النَّجَاءَ فَقَدْ قَتَلَ اللهُ اَبَا رَافِعٍ فَانْتَهَيْتُ اِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْتُهٗ فَقَالَ اُبْسُطْ رِجْلَكَ فَبَسَطْتُّ رِجْلِىْ فَمَسَحَهَا فَكَاَنَّهَا لَمْ اَشْتَكِهَا قَطُّ
‘তখন আমি আমার সঙ্গীগণ উনাদের নিকট গিয়ে বললাম, কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রফেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে আমি সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনি আপনার পা প্রসারিত করুন।’ আমি আমার পা প্রসারিত করলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দয়া করে তাতে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) বুলিয়ে দিলেন। (এতে আমার পা এমন সুস্থ হয়ে গেলো) যেন তাতে কখনোই কোনো আঘাত লাগেনি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, ফাতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, শারহুয যারক্বানী ইত্যাদি)