মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের নির্দেশ মুবারক মুতাবিক পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই পর্দা করা ফরয। বেপর্দার কারণেই মহিলারা আজ ইজ্জত-সম্মান সম্ভ্রম হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা। শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হুকুম শরয়ী পর্দা পালনের মাধ্যমেই এর থেকে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব তেমন সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ বন্ধ করাও সম্ভব।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং আপনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং মু’মিনদের আহলিয়াগণকে বলে দিন- উনারা যেন উনাদের চাদরের একটা অংশ চেহারা ও বুকের উপর টেনে দেন অর্থাৎ পর্দা করেন। এটা হচ্ছে উনাদের সম্ভ্রান্ত হওয়ার পরিচয় এবং উনাদের বিরক্ত না করার মাধ্যম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়ালু ও ক্ষমাশীল।” মূলত: বেপর্দার কারণেই মহিলারা বর্তমানে ইজ্জত-সম্মান হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা। নাউযুবিল্লাহ!

পর্দার গুরুত্ব ও বেপর্দার কুফল সম্পর্কে নছীহত মুবারক করতে গিয়ে তিনি এসব ক্বওল শরীফ উল্লেখ করেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শান্তি। সম্মানিত ইসলামই পেরেছেন এবং পারেন যমীনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ইসলাম উনার বাইরে কোথাও শান্তি পাওয়া যায়নি এবং যাবেও না। কাজেই শরয়ী পর্দাই শান্তি স্থাপন করতে পারবে। সম্মানিত শরয়ী পর্দার অভাবেই আজ সবদিকেই শুধু অশান্তি আর অস্থিরতা। বিশেষ করে মহিলাঘটিত ফিতনায় জর্জরিত সমাজ। মহিলারা আজ সর্বত্র লাঞ্ছিত, অপমানিত ও অবহেলিত হচ্ছে এবং সম্ভ্রমহানী হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! এর সবগুলোর পিছনে কারণ একটাই; তা হলো- সম্মানিত শরয়ী পর্দার হুকুম মেনে না চলা। কারণ সম্মানিত ইসলামী হুকুম-আহকাম অর্থাৎ সম্মানিত শরয়ী পর্দা মহিলাদের সম্মান, ব্যক্তিত্ব ও পবিত্রতার প্রতীক। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার “পবিত্র সূরা নিসা শরীফ, পবিত্র সূরা নূর শরীফ ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ” উনাদের মধ্যে পর্দা করার ব্যাপারে কঠোর আদেশ-নির্দেশ মুবারক করা হয়েছে এবং পর্দাকে মহিলাদের পবিত্রতা ও সম্মানের কারণ বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বেপর্দাকে কবীরা গুনাহ, লা’নত ও ফিতনা-ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহিলারা পর্দায় থাকবে। তারা যখন বেপর্দা হয় তখন শয়তান উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকে কি করে তাদের মাধ্যমে ফিতনা পয়দা করা যায়।” নাউযুবিল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা দুনিয়া ও বেগানা মহিলা থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকো। কেননা বনী ইসরাইলে সর্বপ্রথম যে ফিতনা (খুন) হয়েছে তা মহিলার কারণেই।” নাউযুবিল্লাহ! কাজেই বর্তমানেও সমাজে যে অশান্তি অরাজকতা, ফিতনা-ফাসাদ, মারামারি, খুন-খারাবী, অশ্লীলতা ইত্যাদির মূলেও রয়েছে বেপর্দা নারী। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হুকুম-আহকাম শরয়ী পর্দা পালনের মাধ্যমেই এর থেকে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব তেমন এ সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ বন্ধ করাও সম্ভব। সুবহানাল্লাহ! অন্যথায় মানবরচিত কোনো আইনের মাধ্যমে এ সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

-০-