জি, স্টার বাদ দিয়ে পরিষ্কার করে দিলাম —

ঈমান, হিদায়াত ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নেয়ামত বিষয়ে ২০টি প্রশ্নোত্তর

১. প্রশ্ন: জ্বিন-ইনসানের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত কোনটি?
উত্তর: জ্বিন-ইনসানের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো ঈমান ও হিদায়াতের নেয়ামত।

২. প্রশ্ন: কুরআন শরীফে কোন আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঈমানই পূর্ণ নেয়ামত?
উত্তর: সূরা মায়িদার ৩ নং আয়াত শরীফ — اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِىْ এখানে نِعْمَتِي দ্বারা ঈমান ও ইসলামকে বুঝানো হয়েছে।

৩. প্রশ্ন: দুনিয়ার নেয়ামত আর ঈমানের নেয়ামতের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: দুনিয়ার সব নেয়ামত মৃত্যুর সাথে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ঈমানের নেয়ামত মৃত্যুর পরেও থাকে এবং জান্নাত পর্যন্ত নিয়ে যায়।

৪. প্রশ্ন: হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ঈমানের নেয়ামত সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি বলেছেন, সব নেয়ামতের হিসাব দিতে হবে, কিন্তু ঈমানের নেয়ামতের শুকরিয়া কখনো আদায় করে শেষ করা যাবে না।

৫. প্রশ্ন: হিদায়াতের মূল কে?
উত্তর: হিদায়াতের মূল হলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

৬. প্রশ্ন: কোন আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুমিনদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ?
উত্তর: সূরা আলে ইমরানের ১৬৪ নং আয়াত — لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ اِذْ بَعَثَ فِيْهِمْ رَسُوْلًا — নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের উপর বড় অনুগ্রহ করেছেন যখন তাদের মধ্যে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন।

৭. প্রশ্ন: এই আয়াতে مَنَّ শব্দ ব্যবহারের হিকমত কী?
উত্তর: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ পাক বৃষ্টি-রিযিকের জন্য مَنَّ বলেন না, কিন্তু রসূল প্রেরণের জন্য مَنَّ বলেছেন, কারণ এই এক নেয়ামতের মধ্যেই সব নেয়ামত চলে এসেছে।

৮. প্রশ্ন: আমরা আল্লাহ, কুরআন, নামায-রোযা চিনলাম কার মাধ্যমে?
উত্তর: আমরা সবকিছুই চিনেছি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে। উনাকে বাদ দিয়ে ঈমানের কল্পনাও করা যায় না।

৯. প্রশ্ন: নেয়ামতের স্তর কয়টি ও কী কী?
উত্তর: নেয়ামতের স্তর ৪টি — ১. অস্তিত্বের নেয়ামত, ২. মুসলমান হওয়ার নেয়ামত, ৩. আখিরী নবীর উম্মত হওয়ার নেয়ামত, ৪. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই নেয়ামত।

১০. প্রশ্ন: ১ম স্তর نعمة الإيجاد বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: আমরা ছিলাম না, আল্লাহ পাক كُنْ বলে আমাদেরকে না থাকা থেকে অস্তিত্বে এনেছেন। এটাই প্রথম দয়া।

১১. প্রশ্ন: ২য় স্তর মুসলমান হওয়ার নেয়ামত কেন এত বড়?
উত্তর: দুনিয়ায় ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৩০০ কাফির-মুশরিক। আল্লাহ চাইলে আমাদেরকে তাদের মধ্যে পাঠাতে পারতেন, কিন্তু দয়া করে মুসলমান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।

১২. প্রশ্ন: ৩য় স্তর আখিরী উম্মত হওয়ার নেয়ামতের ফযীলত কী?
উত্তর: এই উম্মতের ফযীলত দেখে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন — اللهم اجعلني من أمة محمد — হে আল্লাহ আমাকে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত বানিয়ে দিন।

১৩. প্রশ্ন: হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এখনো কেন দোয়া করছেন?
উত্তর: তিনি শেষ যামানায় এই উম্মতের একজন হয়ে দুনিয়ায় আসবেন, এটাই উনার মর্যাদা। তিনি এই উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন এবং কবুল হয়েছে।

১৪. প্রশ্ন: ৪র্থ স্তর نعمة الوجود المحمدي বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: সমস্ত নেয়ামতের মূল হলো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই। গাছের গোড়া না থাকলে ডাল-পাতা থাকে না, তেমনি তিনি না হলে ঈমান-ইসলাম কিছুই থাকতো না।

১৫. প্রশ্ন: কোন হাদীসে কুদসী দ্বারা এই মূল নেয়ামত প্রমাণিত?
উত্তর: لَوْلَاكَ لَمَا خَلَقْتُ الْأَفْلَاكَ — যদি আপনি না হতেন, আমি আসমান-যমীন কিছুই সৃষ্টি করতাম না।

১৬. প্রশ্ন: সূরা দ্বুহার وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ আয়াতের অর্থ কী?
উত্তর: অর্থ — আপনার রবের নেয়ামতের আলোচনা করুন।

১৭. প্রশ্ন: এই আয়াতে النِّعْمَة দ্বারা মুফাসসিরগণ কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন النبوة (নবুওয়ত), ইমাম মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন القرآن। আর হাকীকতে দুটোই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

১৮. প্রশ্ন: এই আয়াতের উপর আমল কীভাবে হবে?
উত্তর: এই আয়াতের সবচেয়ে বড় আমল হলো — হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত, মীলাদ শরীফ, সীরত মুবারক, মু’জিযা শরীফ বর্ণনা করা এবং বেশি বেশি দরূদ-সালাম পেশ করা।

১৯. প্রশ্ন: এই নেয়ামতের ক্বদর আমরা কিভাবে করবো?
উত্তর: ৩ ভাবে — ১. মুখে: দরূদ-মীলাদ ও প্রশংসা করা, ২. অন্তরে: সবকিছুর চেয়ে বেশি মুহব্বত করা, ৩. আমলে: উনার সুন্নত মুবারককে আঁকড়ে ধরা।

২০. প্রশ্ন: যে ব্যক্তি এই নেয়ামতকে চিনলো না তার পরিণতি কী?
উত্তর: যে এই নেয়ামতকে চিনলো না সে অকৃতজ্ঞ। আর অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি থেকে নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঈমানের নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়ার অর্থই হলো বেঈমান হয়ে মৃত্যুবরণ করা, নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামতের ক্বদর করার তাওফীক দান করুন। আমীন।