১. প্রশ্ন - লোকটি রাতে বাড়িতে এসে কী দেখলেন
উত্তর - তিনি এসে দেখলেন তার সন্তানরা সবাই ক্ষুধার কারণে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে।

২. প্রশ্ন - স্ত্রীকে তিনি প্রথম কী জিজ্ঞাসা করলেন
উত্তর - তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা কি নামায পড়েছে। এতে বোঝা যায় তিনি রিযিকের আগে নামাযের ফিকির করতেন।

৩. প্রশ্ন - সন্তানরা কেন নামায পড়েনি
উত্তর - বাড়িতে কোনো খাবার ছিল না। সবাই ক্ষুধায় কাতর ছিল। তাই তারা নামায না পড়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল।

৪. প্রশ্ন - লোকটি তখন স্ত্রীকে কী আদেশ মুবারক করলেন
উত্তর - তিনি বললেন, ওদেরকে জাগিয়ে দাও। ওরা নামায পড়ুক। কারণ রিযিকের দায়িত্ব আমাদের না, রিযিকের দায়িত্ব মহান আল্লাহ পাক উনার।

৫. প্রশ্ন - এই ঘটনার দলীল হিসেবে পবিত্র কুরআন শরীফের কোন আয়াত শরীফ রয়েছে
উত্তর - মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى
অর্থ - তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও এবং তার উপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না, আমিই তোমাদেরকে রিযিক দান করি। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই। [পবিত্র সূরা ত্বহা শরীফ, আয়াত শরীফ ১৩২]

৬. প্রশ্ন - স্ত্রী তখন কী করলেন
উত্তর - স্বামীর আনুগত্য করে তিনি সাথে সাথে সন্তানদের জাগিয়ে নামাযে দাঁড় করিয়ে দিলেন। তিনি রিযিক নিয়ে চিন্তা না করে আল্লাহ পাক উনার হুকুমকে প্রাধান্য দিলেন।

৭. প্রশ্ন - নামায শেষ হওয়ার পর কী অলৌকিক ঘটনা ঘটলো
উত্তর - নামায শেষ হতেই দরজার বাইরে থেকে সালামের আওয়াজ এলো। দরজা খুলে দেখা গেল এক লোক কাঁধে অনেক খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

৮. প্রশ্ন - খাবার নিয়ে আসা লোকটি কী বললো
উত্তর - লোকটি বললো, শহর থেকে এক নেতা তার বাসায় মেহমান হয়ে এসেছিল। কথা কাটাকাটির কারণে মেহমান না খেয়েই চলে যায়। পরে সে খাবারগুলো নিয়ে বের হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় হাঁটতে হাঁটতে এই বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়ে যায়। সে নিজেও বুঝতে পারেনি কে তাকে এখানে এনেছে।

৯. প্রশ্ন - এই ঘটনা থেকে আমরা রিযিক সম্পর্কে কী শিক্ষা পাই
উত্তর - রিযিকের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ পাক। বান্দার কাজ হলো আল্লাহ পাক উনার হুকুম অর্থাৎ নামায আদায় করা। রিযিক আল্লাহ পাক তিনি নিজ দায়িত্বে বান্দার কাছে পৌঁছে দেবেন, এমন জায়গা থেকে যা বান্দা কল্পনাও করতে পারবে না।

১০. প্রশ্ন - এই ঘটনার মূল নসীহত কী
উত্তর - মূল নসীহত হলো, অভাব বা ক্ষুধার অজুহাতে নামায ত্যাগ করা যাবে না। নামায ঠিক রাখলে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই রিযিকের ফয়সালা করে দেবেন। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্যই।