২৩শে রবীউছ ছানী শরীফ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে
উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযিমুশ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ।
-----------------------------------
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার দিক থেকে
তিনি হচ্ছেন নবম।
এ জন্য উনাকে আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম বলা হয়।
অর্থাৎ ১৩ জন উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন নবম। সুবহানাল্লাহ।
উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম
বা নাম মুবারক হচ্ছেন,
সাইয়্যিদাতুনা হযরত রায়হানা আলাইহাস সালাম।
উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন,
সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম। তিনি হচ্ছেন জলিলুর কদর নবী ও রসূল হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ভাই এবং সাইয়্যিদুনা হযরত
হারুন আলাইহিস সালাম উনার বংশধর।
তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন,
সম্মানিত নবুওওয়াত এবং রিসালত মুবারক প্রকাশের ১৯ বছর পূর্বে, ২৮শে রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ।
বনু নাযীর গোত্রে। সুবহানাল্লাহ।
উনার প্রথমে শাদী মুবারক হয়
বনু কুরাইজা গোত্রের আল হাকাম উনার সাথে। বনু কুরাইজা গোত্র ছিলো চরম দূর্মোখো। এ জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে শাস্তিও দিয়েছিলেন।
যাই হোক অনেক লম্বা ইতিহাস।
একটা পর্যায়ে তারা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
যার কারনে তাদের অনেককেই হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে আল হাকামও অভিযুক্ত হয়ে নিহত হয়।
তখন উম্মুল মুমিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মুসলমানদের জিম্মাদারীতে চলে আসেন।
এরপরে তিনি স্বেচ্ছায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহন করেন।
উনার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহনে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত সন্তুুষ্ট মুবারক প্রকাশ করেন।
এবং উনাকে আযাদ করে দেন।
উনাকে আযাদ করে অন্যান্য
উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মতো ১২ উকিয়া স্বর্ণ মোহরানা দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ করেন।
এবং উনার উপর পর্দা পালনের আহকাম জারি করেন। এটা ছিলো ৬ষ্ট হিজরী শরীফ উনার ২৩শে রবীউছ ছানী শরীফ।
অর্থাৎ ৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার ২৩ শে রবীউছ ছানী ইয়াওমুল ইছনাইনিল
আযীম শরীফে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। সুবহানাল্লাহ।
তখন উনার দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সম্মানিত
বয়স মুবারক ছিলেন, ৩৭ বছর ২৫ দিন।
এরপরে নবম হিজরী শরীফে হজ্জ ফরয করা হলো। আর ১০ম হিজরী শরীফে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
স্বয়ং নিজেই উম্মতকে তালিম দেয়ার জন্য হজ্জ মুবারক সম্পাদন করতে যান।
তিনি বললেন আমি যেভাবে হজ্জ মুবারক করবো আপনারা দেখে শিখে নিয়েন।
এই ভাবেই হজ্জ মুবারক করবেন ।
নামাযের ব্যপারে যেমন বলেছিলেন আমি যেইভাবে নামায পড়ি আপনারা সেইভাবে নামায পড়েন ।
ঠিক আমি যেইভাবে হজ্জ করি আপনারা সেইভাবে হজ্জ করবেন।
এ জন্য তিনি মদীনা শরীফ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফে তাসরীফ মুবারক নেন ,
সেখানে তিনি হজ্জ মুবারক সম্পাদন করে, তালিম মুবারক দিয়ে আবার মদীনা শরীফে ফিরে আসেন।
মদীনা শরীফ পোছানোর ১০ দিন পর ১১ হিজরী শরীফ উনার ৫ই মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফে
উম্মুল মুমিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই উনার ছলাতুল জানাযা মুবারক পড়ান। এবং তিনি উনাকে উনার রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখেন।
উনার রওযা শরীফ জান্নাতুল বাকী শরীফে অবস্থিত।
তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন।
৪ বছর ৮ মাস ১২ দিন।
আর তিনি দুনিয়ার যমিনে অবস্থান মুবারক করেন ৪১ বছর ৯ মাস ৭ দিন।
-----------------------------------------
এখন উনার শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক বেমেছাল।
তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি না। এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না। এছাড়া যত শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক রয়েছে সমস্ত কিছুর অধিকারী হচ্ছেন তিনি।
সমস্ত কায়িনাত উনার মুহতাজ।
তিনি হচ্ছেন ঈমান। উনাকে যারা মুহব্বত করবে তারা হচ্ছে ঈমানদার।
আর উনার প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষন করবে তারা হবে কাফের। নাউযুবিল্লাহ।
কশ্মিনকালেও বান্দা বান্দী উম্মত জ্বীন ইনশান তাদের জন্য সম্ভব হবে না
উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করা ব্যতীত
মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করা।
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
খয়রুকুম খয়রুকুম লি নিসায়ী মিম বা-দী।
তোমাদের মধে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে ব্যক্তি আমার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট সর্বোত্তম।
কাজেই উম্মাহাতুল মুমিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে সব কিছুর চাইতে বেশি মুহব্বত মুবারক করতে হবে। অন্যথায় ইমানদার হওয়া যাবেনা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন খাছভাবে উনাকে মুহব্বত মুবারক করার তাওফিক দান করেন। আমিন।