সাইয়্যিদাতু নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত তাসি‘য়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৯)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত তাসি‘য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
فَدَعَانِي فَأَجْلَسَنِي بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ (إِنِ اخْتَرْتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ اخْتَارَكِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَفْسِهِ) فَقُلْتُ فَإِنِّي أَخْتَارُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَلَمَّا أَسْلَمْتُ أَعْتَقَنِي وَتَزَوَّجَنِي وَأَصْدَقَنِي اثْنَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا كَمَا كَانَ يُصْدِقُ نِسَاءَهُ وَأَعْرَسَ بِي فِي بَيْتِ أُمِّ الْمُنْذِرِ وَكَانَ يُقَسِّمُ لِي كَمَا كَانَ يُقَسِّمُ لِنِسَائِهِ وَضَرَبَ عَلَيَّ الْحِجَّابَ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ডেকে এনে উনার সামনে বসিয়ে আমাকে (উদ্দেশ্য করে) ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি যদি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে প্রাধান্য দেন, পছন্দ করেন, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে উনার নিজের জন্য (পছন্দ করবেন,) গ্রহণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি বললাম, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে প্রাধান্য দিলাম, পছন্দ করলাম। সুবহানাল্লাহ! অত:পর যখন আমি সম্মানিত ও পবিত্র ইসলাম গ্রহণের বিষয়টা প্রকাশ করলাম, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে মুক্ত করে দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ সুসম্পন্ন মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! আর আমাকে সাড়ে বারো আউক্বিয়া স্বর্ণ (৫০০ দিরহাম) মোহরানা মুবারক হাদিয়া মুবারক দেন, যেমন অন্যান্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া মুবারক দিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মু মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার সম্মানিত বাড়ি মুবারক—এ আমার সাথে প্রথম রাত্রি মুবারক অতিবাহিত করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্য যেমন (দিন—রাত্র মুবারক) বন্টণ করে দিয়েছিলেন, ঠিক তদ্রুপ আমার জন্যও (দিন—রাত্র মুবারক) বন্টণ করে দেন এবং আমার উপর পর্দার হুকুম মুবারক আরোপ করেন অর্থাৎ আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হিসেবে গ্রহণ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুন্তাখাব ফী কিতাবি আযওয়াজিন নাবিয়্যী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, লেখক : হযরত যুবাইর ইবনে বাক্কার ইবনে আব্দুল্লাহ আল কুরাইশী আল আসাদী আল মাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি : বিছাল শরীফ ২৫৬ হিজরী শরীফ)