সামা শরীফ মাফিল
অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ মাফিল
এবং
অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাফিল
(৮৯ তম দিন)

উনাতে

খলিফাতুল্লাহ,ক্বায়ীম মাক্বমে হাবিবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,সাইয়্যিদুল আওলিয়া,সূলত্বানূন আওলিয়া,সূলত্বনে কায়নাত সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত সূলত্বানূন নাসীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কওল শরীফঃ

সরাসরি সম্প্রচারঃ

Al Hikmah & SM40.COM.

=========================
এখন তোমাদের প্রত্যেকের ছবকগুলি... অনেকে তো ছবক করো না ঠিকমত। ওযীফার কিতাবও নেও না। বাদ ইশা বাদ ফজর দুরূদ শরীফ ১০০ ১০০ পাঠ করবে, পাস-আনফাসটা জারি করবে। যাদের জারি হইছে পরবর্তী ছবকগুলি করবে, আর যাদের জারি হয় নাই সেটা জারি কোশেশ করো।

আর আমলগুলি করতে হবে সুন্নত মোবারক অনুযায়ী। আর ইলিমগুলির জন্য আমাদের কিতাবগুলি সংগ্রহ করতে হবে। আর প্রতিদিন... কমপক্ষে হলে একবার মীলাদ শরীফ পাঠ করবে। প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামায পড়বে। নফল নামায পাঠ করে একবার সালাতুত তাসবীহ পাঠ করতে হবে। এগুলিরে... ইলমে তাছাউফ... যার মক্বসুদ তার জন্য এগুলি ফরযে আইন, করতেই হবে।

কারণ... যে যিকির-আযকার ঠিকমত না করে অন্তরে এছলাহ না হলে সে কোনোদিন কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না। এখন তা আমমুন নাস হোক আর কথিত যারা আলেম এরা তো কোনোটাই বুঝে না। কারণ এখলাছ পয়দা করা ছাড়া কোনোদিন কোনো আমল কবুল হবে না।

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে বলেছেন: 'ওয়া মা উমিরূ ইল্লা লিইয়া'বুদুল্লাহা মুখলিছীনা লাহুদ্দীন'। এটা বলা হচ্ছে এখলাছ হাছিল করার জন্য। আবার ঠিক হাদীস শরীফে বলা হচ্ছে: 'ইন্নাল্লাহা লা ইয়াক্ববালু মিনাল আমালি ইল্লা মা কানা লাহু খালিছান'। 'ইন্নাল্লাহা লা ইয়াক্ববালু মিনাল আমাল'—আল্লাহ কোনো আমল কবুল করবেন না এক... মানে খালেছ ভাবে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক আল্লাহ উনার জন্য না করে সেটা। 'ওয়াবতুগিয়া বিহী ওয়াজহুহূ'—উনার রেজামন্দি সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্যে করতে হবে। এখলাছের সাথে। সেইটা কবুল হবে। এখলাছ না হলে কোনো আমল কখনোই কবুল হবে না।

আর এখলাছের জন্য যিকির-আযকার করতে হবে। আর ছোহবত এখতিয়ার... তোমরা তো ছোহবত এখতিয়ার করোই না, তোমরা কি হাছিল করবা?

ইলমে তাছাউফের জন্য দুইটা ফরযে আইন। প্রথম ফরজ হচ্ছে বেশি বেশি ছোহবত এখতিয়ার করা, দ্বিতীয় ফরজ হচ্ছে ছোহবত এখতিয়ার করা, এর মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করা। এটা ফরযে আইন। ফয়েজ ছাড়া তার অন্তর কোনোদিন এছলাহ হবে না। ফয়েজ ছাড়া হাজার যিকির করলে কোনোদিন যিকির জারি হবে না।

একটা সাধারণ মেছাল আমরা দেই, সেটা হইলো... তোমরা যদি কামারের দোকান দেখে থাকো তাইলে দেখবা কামারের দোকানে... লোহা দিয়ে দা, বটি, ছুরি ইত্যাদি বানায়। ওটা কিন্তু লোহাতে শুধু হাতুড়ার হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিলেই হবে না, ওটা ভেঙে টুকরো হয়ে যাইব। ওটাতে আগুন দিয়ে তাপ দেয়। গরম তাপ দিলে লোহাটা নরম হয়ে যায়, গলে যায়। তখন যে ইচ্ছা সে তৈরি করা যায়।

ঠিক ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হচ্ছে এরকম, যখন ক্বলবে ফয়েজটা পৌঁছে ক্বলবটা নরম হয়ে যায়। তখন গালিযগুলি ঝরে পড়ে যায়। তখন আস্তে আস্তে যিকিরটা জারি হয়। ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ছাড়া কোনোদিন জারি হবে না। আর রাস্তার ফক্বীররা সারাদিন যিকির করে, যিকির জারি হয় না। এজন্য ছোহবত এখতিয়ার করা এবং এর সাথে যিকির করা। এর মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করতে হবে। এটা ফরযে আইন, মনে রাখবা।

আমরা প্রতিদিন এগুলি বলে থাকি তোমাদের এছলাহর জন্য। আর অনন্তকাল চোখ কারও খোলা থাকবে না। 'কুল্লু নাফসিন যায়িক্বাতুল মাওত'। প্রত্যেক নফসকে অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এজন্য আগে থেকেই নিজেকে এছলাহ করে নাও। সময় থাকতে, হায়াত থাকতে।

কারও কিন্তু হায়াত... মৃত্যুটা ঘোষণা দিয়ে আসবে না। তার অজান্তেই তার ইন্তেকাল হয়ে যাবে। সে বুঝতে বুঝতে তার ইন্তেকাল হয়ে যাবে। তখন কিন্তু তার আর এছলাহ হাছিল করার যে আলাদা কোশেশ সেটা করতে পারবে না। আগে থেকে এছলাহ হয়ে যেতে হবে।

এজন্য কোশেশ করতে হবে। যিকির-আযকার করা, ছোহবত এখতিয়ার করা, তারপর সুন্নত মতো সমস্ত আমল করতে হবে। তুমি যতটা জানো আমল করো, যেটা জানো না সেটা জেনে করো। আমরা তো এখানে আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নাত প্রচার কেন্দ্র করেছি। কিন্তু সব জানো এবং এখান থেকে এই দ্রব্যসহ সংগ্রহ করো।

আর কিতাবাদিতো অনেক বের হইছে। আমাদের কিতাব এইমুহূর্তে প্রায় ৬০০-র বেশি হয়ে গেছে। মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৩০৮টা হয়ে গেছে। আর দৈনিক আল ইহসান শরীফ হাজার হাজার, ৩১ বছর ধরে আমরা বের করতেছি। প্রতিদিন। তাহলে হাজার হাজার বের হচ্ছে। এতে অনেক কিছু আছে। তোমরা তো পড়াশোনাও করো না। প্রত্যেকে পড়ে দেখো। দৈনিক আল ইহসান পড়লে দেখবা অনেক তোমাদের জন্য দ্বীন এবং দুনিয়া দুইটাই শিখতে পারবা।

যেটা ফরযে ইলম বলা হয়। মানুষ তো ফরযে ইলমটা বুঝেই না। মনে করে নামায কালাম যিকির, নামায কালাম পড়লো আর হালকা কিছু করলো তাতেই... না, এটাতে ফরজ হয় না। ফরজ হচ্ছে একটা লোকের হায়াত থেকে মউত, মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, সকাল থেকে আবার সকাল, যত কিছু প্রয়োজন, সে প্রত্যেকটার ইলম অর্জন করা ফরযে আইন।

মানুষের তো এখন ফরযে ইলম তো নাই-ই। একজন একটা জানলে আরেকটা জানে না। দ্বীন বুঝলে দুনিয়া বুঝে না, আর দুনিয়া বুঝলে দ্বীন বুঝে না। আসলে দ্বীনও বুঝে না। যে দ্বীন বুঝবে সে দুনিয়া বুঝবে, আর যে দুনিয়া বুঝবে সে দ্বীন বুঝবে। একটা একটার সাথে জড়িত। এখন মানুষ দ্বীনও বুঝে না, দুনিয়াও বুঝে না। যার জন্য এরা দুনিয়ার দ্বারা প্রতারিত, ধোঁকা খাচ্ছে। দুনিয়া তাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে। এই চাকচিক্য দুনিয়া দেখে পিছনে দৌড়াও, চোখটা বন্ধ হইলে শূন্য হয়ে যাইব।

হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, উনার সাথে একবার দুনিয়ার সাক্ষাৎ হলো। দুনিয়া একটা মহিলার সূরতে। সামনে একটা হাত, পিছনে একটা হাত। সামনের হাতটা খুব চকচকে হাতটা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে দুনিয়া তুই সামনের হাতটা খুব চাকচিক্যময়, তোর পিছনের হাতটা কোথায়? ওটা পিছনে লুকায়ে রাখছে। তখন সে সামনে আনলো, দেখলো যে পিছনের হাতে একটা ছুরি, রক্ত ঝরতেছে।

দুনিয়া বললো যে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, এই সামনের হাতটা দিয়ে আমি মানুষকে আকর্ষণ করি। দুনিয়ার দিকে আকর্ষণ, মানুষ দুনিয়ায় যখন মশগুল হয়, তখন আমার এই যে পিছনের ছুরিটা তার সিনায় বসায় দেই। সে দুনিয়াতে মারা যায়, নাউযুবিল্লাহ। তার অজান্তে সে দুনিয়াতে ফিরে মারা যায়, সে বুঝে না। 'হুব্বুদ দুনিয়া রা'সু কুল্লি খত্বীআহ'—দুনিয়ার মোহ সমস্ত গুনাহর মূল, মনে রাখবা।

কাজেই দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ো না। তাইলে বিভ্রান্ত হবে, প্রতারিত হবে এবং ধোঁকা খাবে। 'আদ্দুনিয়া দারুল গুরুর'—দুনিয়া হচ্ছে ধোঁকার জায়গা। দুনিয়া হচ্ছে ধোঁকার জায়গা, 'ওয়াল আখিরাতু দারুস সুরূর'—পরকাল হচ্ছে সুখের শান্তির জায়গা। এটা মনে রাখবা।

-------------------------

হাদীস শরীফে আমি বলে থাকি প্রায়, সেটা হইলো হাদীস শরীফে আছে: 'ইন্না মিম্মা ইয়ালহাকুল মু'মিন মিন আমালিহী ওয়া হাসানাতীহি বা'দা মাওতিহী'—নিশ্চয় মুমিনের আমলগুলি... 'ইন্না মিম্মা ইয়ালহাকুল মু'মিন মিন আমালিহী ওয়া হাসানাতীহি বা'দা মাওতিহী'—তার আমল, তার নেক কাজগুলি মৃত্যুর পর তার সাথে সংযুক্ত হবে।

প্রত্যেক লোকের ইন্তেকালের পরে তাদের নেক কাজগুলি যদি জারি থাকে সে সংযুক্ত, সেটা কি? প্রথম বলা হচ্ছে: 'ইলমান আল্লামাহু ওয়া নাশারাহু'—ইলিম যেটা সে শিখেছে, যেটা প্রচার করেছে। ইলিম শিখেছে, প্রচার করেছে।

তা আমাদের অনেক কিতাব আমরা প্রকাশ করতেছি। ইলিম অনেক প্রচার করা হচ্ছে। সেটিতে তোমাদের শরিক থাকা উচিত। ইলিমগুলির কিতাব সংগ্রহ করা এবং পড়া উচিত। শুধু তোমরা একলা পড়লে না, তোমার পরিবারে পড়াও। তো বলেছি প্রত্যেকে কমসে কম একটা করে সংগ্রহ করো, করে তোমরা পাঠাগার বানাও। নিজে পড়ো, তোমার পরিবারকে পড়াও, ছেলেমেয়েদের পড়াও। দ্বীনের সহীহ ইলিম দান করো। ইলিমটা, যিনি ইলিম শিখবে এবং প্রচার করবে।

'ওয়ালাদান সালিহান তারাকাহু'—নেক সন্তান। নেক সন্তান বানাও। এজন্য বলছি মাদ্রাসায় ছেলেদের দেও। তোমরা মাদ্রাসায় সন্তান দেও না, স্কুল-কলেজে দেও। পরে কি হবে? ফাসেক-ফুজ্জার হবে। স্কুল-কলেজ পড়ে নেককার কতজন হয়? 'আশ-শাযযু কাল মা'দূম'—নগণ্য ধর্তব্য না। গোনা-বাছা কয়েকজন হয়। সাধারণত পরিবেশ যেরকম সেরকমই হয়।

কিছু ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় দেও। আল্লাহ পাক তো বলছেন: 'ফালাওলা নাফারা মিন কুল্লি ফিরক্বাতিম মিনহুম ত্বায়িফাতুল লিয়াতাফাক্বক্বাহূ ফিদ্দীন'। কেন তোমাদের প্রত্যেক গোত্র থেকে কিছু লোক বের হয় না, যারা ইলমে দ্বীন শিখবে, ফক্বীহ হবে, ওলীআল্লাহ হবে? 'ওয়ালাদান সালিহান তারাকাহু'—নেক সন্তান, যে রেখে যায়, সে নেক সন্তান যতদিন সিলসিলা চলবে তার জন্য তারা দোয়া করবে।

এখন তোমরা প্রত্যেকে বলো, তোমরা তোমাদের মা-বাবার জন্য কয়দিন দোয়া করো? কেউ দোয়া করো না সাধারণত। যদি মোটামুটি কেউ নেককার হয়ে থাকো তাইলে দোয়া করো, আর নাইলে তো কেউ দোয়া করে না। এইজন্য তো মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে পাঁচ ওয়াক্তে একবারও দোয়া করে না। আল্লাহ তো শিখাইছেন: 'রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগীরা', কয়জনে দোয়া করে? সে জানেই না। তো নেক সন্তান হলে তো মা-বাবার জন্য দোয়া করবে। আর সে নিজের জন্য নিজেও দোয়া করে না, বাবার জন্য কবে দোয়া করবে?

এইযে আজকে আমাদের পত্রিকায় একটা ঘটনা গেছে, দৈনিক আল ইহসান শরীফে। একটা ১০ বছরের ছেলে, তার মা-বাবা তাকে হাতিফ দেয় না, এজন্য সে মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে থানায় অভিযোগ করছে, নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ! ১০ বছরের ছেলে! কত চরম বেয়াদব! তাকে হাতিফ মানে মোবাইল মা-বাবা দেয় নাই জন্য সে থানায় অভিযোগ করছে তার মা-বাবা তাকে জুলুম করে, নাউযুবিল্লাহ। ওটা কাফেরের দেশে এরকম আছে। এই সন্তান তো থাকা না থাকা একই রকম। এগুলি তো কলঙ্ক এগুলি। তো এখন তো মানুষ কলঙ্কই বানাইতেছে।

ইস্তেগফার করো, তওবা করো। দ্বীনি ইলিম শিক্ষা দাও, মাদ্রাসায় পড়াও। নেক সন্তান থাকলে সে দোয়া করবে, বদ সন্তান হলে তোমার বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে, নাউযুবিল্লাহ। যে সন্তান বাপ-মার বিরুদ্ধে গিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে পারে, সে তো সারাদিন বাপ-মারে বদদোয়াই করবে, নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ! কাজেই সন্তান নেককার বানাও, থাকলে তোমাদের দোয়া করবে।

'মাছহাফান ওয়াররাছাহু'—এখানেও বলেছে মাছহাফান ওয়াররাছাহু। কিতাবাদী, কুরআন শরীফ, ইলিমের কিতাবাদী যে রেখে যায়, এটা যতদিন থাকবে, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক তোমাদের জন্য রাখলে তুমি পাঠাগারে এটার সওয়াবটা তোমার আমলনামায় পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'মাসজিদান বানাহু'—কেউ মসজিদ যদি বানায়, এই মসজিদ যতদিন থাকবে কেউ নামায পড়ুক আর না পড়ুক তার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'বাইতান লিবনিস সাবীল বানাহু'—মুসাফিরখানা। মুসাফিরখানা কেউ বানাইলো, খানকাহ শরীফ বানাইলো, এটা যতদিন থাকবে, কেউ আসুক আর না আসুক, থাকুক আর না থাকুক, এটার জন্য সে তার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'নাহরান আজরাহু'—পানির ব্যবস্থা। সেটা পুকুর হোক, কূয়া হোক, বা কোনো কল হোক, নলকূপ হোক, যেটা বসাইছে এটা যতদিন থাকবে ততদিন তার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

এরপরে... 'সাদাক্বাতান আখরাজাহা'—'সাদাক্বাতান আখরাজাহা মিম মালিহী ফী সিহহাতিহী ওয়া হায়াতিহী'। 'সাদাক্বাতান আখরাজাহা'—সম্পদ সে আল্লাহ পাকের রাস্তায় খরচ যদি করে, এটা হলো সুস্থ অবস্থায় সে যদি খরচ করে, 'ফী সিহহাতিহী ওয়া হায়াতিহী'—তার হায়াতের সুস্থ অবস্থায় যে খরচ করবে সেটা, 'তালহাক্বুহু মিম বা'দি মাওতিহী'—তার মৃত্যুর পরে এগুলির সওয়াব তার আমলনামায় পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'সাদাক্বাতান আখরাজাহা মিম মালিহী'—সাদাক্বাতান, তার সম্পদ থেকে যে সম্পদ সে খরচ করলো, এই সম্পদটা এটার যে নেকিটা হবে, এটা যতদিন থাকবে ততদিন আমলনামায় পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

-------------------------

এখন তোমরা কয়টা কি কাজ করছো? একটাও তো করো না। না ইলিম অর্জন করো, না ইলিম চর্চা করো। আমরা এই বললাম তো আমরা আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্র করেছি, এখানে আমাদের কিতাব প্রকাশ হচ্ছে, তোমরা প্রচার কেন্দ্র করো। কিতাব প্রচার কেন্দ্র এবং সুন্নত প্রচার কেন্দ্র একসাথেই করা যায়। নিজেরা পড়ো, প্রত্যেকের বাড়িতে পাঠাগার বানাও। একটা করে সংগ্রহ করো, কিতাবের দাম তো কোটি টাকা না। অল্প পয়সার দাম। আর ইলিমের তো কোনো মূল্য নাই, এটা হচ্ছে কাগজের দাম। কাগজের পরিমাণ অনুযায়ী দাম। সংগ্রহ করতে পারো কোনো সমস্যা নাই।

আর ছেলেদেরকে দ্বীনদার বানাও। ওই ফাসেক-ফুজ্জার বানাইও না, মাদ্রাসায় দাও। এইজন্য মাদ্রাসায় দাও। ওই সন্তান তোমার বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে দেখবা। এইজন্য বললাম ১০ বছরের ছেলে আজকে আমাদের পত্রিকাটা পড়ে দেখো। ১০ বছরের ছেলে সে মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে থানায় অভিযোগ করছে। কত বড় চরম বেয়াদব! এরকমই সন্তান, বাজারে সমাজে তো সবাই এরকমই করে। এটা অনেক ঘটনা, আমাদের পত্রিকায় এরকম অনেক ঘটনা যায়। যেগুলি অনেক মানুষের জন্য নসীহত-ইবরত।

কাজেই নেক সন্তান বানাও, মাদ্রাসায় পড়াও। যেমন তোমাদের সন্তান থাকলে সন্তান দেও, ছেলে দেও, নাইলে ছেলে-মেয়ে দেও, আর নাইলে নাতি-নাতকুর তাদেরকে দেও মাদ্রাসায়।

আর পাঠাগার বানাও। নিজে ইলিম অর্জন করো, ছেলেমেয়েদের পড়াও। পারিবারিক তালীম, এজন্য বলেছি পারিবারিক তালীম করো। খুব বেশি সময় না, আধা ঘণ্টাই যথেষ্ট। তুমি পরিবার যখন থাকো সবাই মিলে একসাথে, সবাইকে নিয়ে তাদের যিকির-আযকার নামায-কালাম ঠিক আছে কিনা, আমল-আখলাক শুদ্ধ আছে কিনা, আক্বীদাগুলি শুদ্ধ কিনা জিজ্ঞেস করবা।

আক্বীদা আমাদের প্রথম হলো চারটা আক্বীদা মনে রাখবা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাতী ছিফত চারটা, এটা মনে রাখবা। তামাম মানুষ জানে না। সে কি? উনি নূরে মুজাসসাম, নূরুময়। এরপর হচ্ছে উনি হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এটা বিশ্বাস করতে হবে। উনি হাযির-নাযির ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এরপরে উনি মুত্তালা, মুত্তালা আলাল গাইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

উনি হাযির-নাযির, উনি হায়াতুন্নবী এবং উনি সমস্ত ইলিম কালাম আল্লাহ পাক হাদিয়া মোবারক করেছেন, উনি সেই ইলমে গায়েবটা আমাদেরকে জানিয়েছেন, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম। এটা বিশ্বাস করতে হবে, আক্বীদাগুলি শুদ্ধ করতে হবে। আমাদের আক্বীদার কিতাব আছে, এগুলি সংগ্রহ করো। আদবের কিতাব সেটা সংগ্রহ করো। তালীম দিবা, পারিবারিক তালীম।

এরপরে যদি তোমার প্রত্যেকের এলাকায় যার বাড়িতে হোক যেখানে সম্ভব যদি একাউন্ট পাঁচজন ১০ জন মিলে হোক একটা মসজিদ বানাও। একটা মসজিদ বানাইলে সেখানে তালীমের জন্য সুবিধা হবে। দ্বীনি আলোচনা করতে পারবা, নসীহত করতে পারবা। মানুষকে হেদায়েতের দিকে আনতে পারবা। আর তারপরে যদি কারো সামর্থ্য থাকে তাহলে সে খানকাহ শরীফ মুসাফিরখানা করুক। খানকাহ শরীফ বানাও, মুসাফিরখানা বানাও। ওখানে মানুষ আসলে থাকতে পারবে। যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে মানুষ মেহমানদারী করতে পারবে, সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব।

এরপর হচ্ছে পানির ব্যবস্থা করা। এখন সেটা পুকুর করে হোক অথবা কূয়া করে হোক অথবা নলকূপ যেটা সেটা যেটাই হোক, পানির ব্যবস্থা করতে পারলে সেটা যতদিন থাকবে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব হবে। আর নেক কাজে বেশি বেশি খরচ করো। 'সাদাক্বাতান আখরাজাহা মিম মালিহী'—নেক কাজে খরচ করো।

এখন তোমরা তো কোনোটিই করো না। মাহফিলে বসতেই তোমার সময় নাই, নাউযুবিল্লাহ! দুনিয়ার সমস্ত সময় তোমাকে সময়টা কে দিলো তোমাকে? সময়ের মালিক কি তুমি? তুমি তো মালিক না। যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব আল্লাহ পাক উনি দিছেন কোন কারণে দিলেন? উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে, এটা মনে রাখবা।

'হুওয়াল্লাযী খালাক্বা লাকুম মা ফিল আরদ্বি জামীআ'—যিনি খালিক্ব যিনি মালিক আল্লাহ পাক ইরশাদ বলে দিয়েছেন, সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মোবারক করার জন্য, গোলামী করার জন্য। গোলামীর জন্য তোমাকে সময় দেওয়া, তোমার হায়াতটা দেওয়া হইছে। তাইলে তুমি উনার গোলামী কতক্ষণ করলা? তুমি নিজের গোলামী করো সারাদিন, নফসের গোলামী করো। উনার গোলামীর জন্য তোমাকে সময় দেওয়া, তোমার হায়াত দেওয়া হইছে। কিন্তু তুমি এই হায়াতটাকে তুমি তোমার নফসের গোলামীতে ব্যয় করতেছো, নাউযুবিল্লাহ! তুমি কি ফায়দা লাভ করবা?

উনার গোলামী করা উচিত তোমার, সেজন্য সময় দেওয়া হইছে। সেজন্য তোমার মাহফিলে আসা উচিত, তোমার সময় বের করা উচিত তুমি। তোমার চাকরি ব্যবসা ক্ষেতখামার তো মূল না। তোমার মূল হচ্ছে ঈমান শুদ্ধ করা, এছলাহ হাছিল করা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী করে উনার নিসবত হাছিল করা, এটা ফরযে আইন।

একটা লোক একবেলা না খাইলেও চলে, দুইবেলা না খাইলেও চলবে, কিন্তু ঈমান যদি শুদ্ধ না থাকে তো মারা গেলে যাইবা জাহান্নামে। তখন কি করবে? অনন্তকাল জাহান্নামে জ্বলতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে। মানুষকে কেন সময় দেওয়া হইলো, কেন সৃষ্টি করা হইলো? কিসের জন্য? একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী করার জন্য। উনার খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হইছে, অন্য কোনো কারণে না। সমস্ত কায়নাত সেজন্য সৃষ্টি হইছে। তো উনার জন্য তুমি কতটুক সময় দিলা? উনার জন্য সময় ব্যয় করো। উনার জন্য মাল ব্যয় করো, কতটুকু মাল ব্যয় করছো তুমি?

তোমার নিজের জন্য তুমি সারাদিন যা কামাই করো সব নিজের সংসারে খরচ করো। তো মাহফিলে শরিক থাকবার সময় নাই, পয়সা নাই, সংসার চলে না, নাউযুবিল্লাহ! তো তোমাকে পয়সাটা কে দেয়? সবকিছু দেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি।

'আল্লাহু ইয়ু'ত্বী ওয়া ইন্নামা আনা ক্বাসিম'—আল্লাহু ইয়ু'ত্বী, যিনি খালিক্ব যিনি মালিক আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সব হাদিয়া মোবারক করছেন, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম। 'ইন্নামা আনা ক্বাসিম'—আমি সব বণ্টনকারী, সুবহানাল্লাহী ওয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।তিনি সব বণ্টন করেন। তোমার যা প্রয়োজন তুমি বুঝো আর না বুঝো। কেউ বুঝুক অথবা না বুঝুক, কাফের মুশরিক ইহুদী নাছারা হিন্দু বৌদ্ধ মজুসী মুশরীক যা আছে এদেরকে সবাইকে উনিই বণ্টন করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বণ্টন করেন, সুবহানাল্লাহী ওয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কাজেই বিষয়টা অনেক সূক্ষ্ম বিষয়, কঠিন বিষয়। এখন মানুষ তো তাছাউফ তো বুঝে না, এটা বুঝবো কোত্থেকে? ওই যে এর কিতাব পড়ে দেখো। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি কাইয়ূম, কাইয়ূমে আউয়াল। একজন কাইয়ূমের কি ক্ষমতা ওটা উনি বর্ণনা করছেন। একজন কাইয়ূমের ক্ষমতা কি? আমরা তো বললাম এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয় তো। আর উনার তো অনেক ঊর্ধ্বে, কল্পনাও করতে পারবে না।

আরে যে একজন কাইয়ূম হয়, কাইয়ূমের আদেশ ছাড়া সারা কায়নাত একটা পাতাও নড়ে না। সুবহানাল্লাহ! তো সমুদ্রের অতলে একটা মাছও নড়তে পারে না। একটা বাতাসও প্রবাহিত হতে পারে না। যে আল্লাহ পাক উনার হুকুমে গাছের পাতা নড়ে না, একটা কাইয়ূম যিনি উনার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। ওটা পড়ে দেখো। তাইলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুম ছাড়া কি করবে, কি চলবে? এত সোজা জিনিস মনে কইরো না।

উনার জন্যই সব দেওয়া হইছে, সব সৃষ্টি করা হইছে। সবাই উনার জন্য সৃষ্টি হইছে। সমস্ত কায়নাত সৃষ্টি হইছে। উনার গোলামীই করতে হবে। উনার জন্য সময় দিতে হবে, উনার জন্য মাল দিতে হবে, উনার জন্য জান দিতে হবে প্রয়োজন হইলে। মানুষ তো এটা বুঝলো না। কাজেই পরকালে ফায়দা পাবে কোত্থেকে? যত যে কিছুই করুক, পরকালে কিন্তু কোনো সুপারিশ কেউ পাবে না। যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি সুপারিশ না করেন, কারো কোনো ক্ষমতা নাই। জাহান্নাম ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নাই। এটা কঠিন একটা বিষয়। সূক্ষ্ম বিষয়। এটা ফিকির করতে হবে।

কাজেই তোমাদের জন্য যেমন ছোহবত এখতিয়ার করা এবং যিকির করা ফরজ। আর আমলগুলি সব সুন্নত অনুযায়ী করবে। ইলিমগুলি আমাদের কিতাবগুলি সংগ্রহ করবে। এটা ফরযে আইন, মনে রাখবা। আমরা প্রতিদিন বলি। এটা হচ্ছে ফরযে আইন। বিষয়টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং কঠিন বিষয়। মানুষ এর একটাও বুঝে না। চোখটা বন্ধ হইলে তখন সব শূন্য হয়ে যাইব। তোমার সমস্ত কিছু শেষ। যদি তুমি নেককার হয়ে থাকো তুমি নাজাত পাবে, আর ব্যতিক্রম হইলে তার কোনো উপায়ই নাই। দোযখে অনন্তকাল জ্বলতে হবে, নাউযুবিল্লাহ! দুনিয়ায় তুমি একটা মশার কামড়, মাছির কামড় বরদাশত করতে পারো না, ওখানে অনন্তকাল আগুন জ্বলবে কেমনে? এত গুরয এক একটা গুরয দিলে তো ৭০ গজ তলে যাবে। আবার টেনে বের করা হবে। তখন কেমন হবে? সেটা সহ্য করবে কেমনে? এটা কঠিন বিষয়।

কাজেই এখন সময় থাকতে আমলগুলি করো। যিকিরটা ঠিকমতো করো। বাদ এশা বাদ ফজর দুরূদ শরীফ, পাস-আনফাসটা জারি করো, এরপর ছবকগুলি করো। ইলমে তাছাউফের ফরযে আইন হচ্ছে সুলতানুল আযকারের প্রথম স্তর যেতে হবে। আর আমলগুলি করো সব সুন্নত মোবারক অনুযায়ী। যতটুকু জানো করো, যেটা জানো না জেনে জেনে কোশেশ করো। আর ইলিম আমাদের কিতাবগুলি প্রতিদিন কিছু কিছু পড়ো। একদিনেই সব কিতাব শেষ করতে হবে সেটা আমরা বলি না, যদি কেউ পারে তো ভালো। কিছু কিছু পড়লে ইলিমটা হচ্ছে 'আল ইলমু বিল বাহাস'। চর্চা করলে ইলিম বৃদ্ধি হয়। আর ইলিম ছাড়া কোনো আমল করতে পারবা না। 'আল ইলমু ইমামুল আমল'—ইলিম হচ্ছে আমলের ইমাম। এটা মনে রাখবা।

এটা কিন্তু কঠিন বিষয়। মানুষের জন্য মৃত্যুটা একটা কঠিন বিষয়। মানুষ তো বুঝে না যে মৃত্যুটা কি জিনিস। অনেক কঠিন মৃত্যুটা। যদি ঈমানের সাথে যেতে পারে তখন কামিয়াবী, এছাড়া কোনো কামিয়াবী নাই। এটা কঠিন বিষয়। তোমার আমলের মধ্যে কতটুকু তুমি এছলাহ প্রাপ্ত হইছো? তুমি সারাদিন কি করো তুমি নিজে ফিকির করো। তুমি কতটুকু সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য ব্যয় করো, আর কত তোমার জন্য ব্যয় করো তুমি ফিকির করো। তোমার কতগুলি টাকা উনার জন্য খরচ করো, আর কত তোমার নিজের জন্য খরচ করো ফিকির করো।

উনাকে সবচাইতে বেশি মহব্বত করতে হবে, তোমার মহব্বতটা গেল কোথায়? মহব্বত তোমার নফসের মধ্যে, তোমার পরিবারের মধ্যে মহব্বত, তোমার ছেলেমেয়ের মধ্যে মহব্বত। সব তুমি তো এদিকেই সময় দেও, পয়সা দেও, সব দেও, মাল দেও, জানও দেও। উনার জন্য তো কিছু দেও না। তাইলে মহব্বত কেমনে করলা?

যে যাকে মহব্বত করে, 'মান আহাব্বা শাইয়ান আকছারা যিকরাহু'—যে যাকে মহব্বত করে সে তার কথা বেশি বলে। তার জন্যই সে সব করে। যেমন একটা লোক দিনরাত সারাদিন কষ্ট করে, পরিশ্রম করে, কামাই করে, কোথায় নেয় কামাইয়ের টাকাগুলি? রাস্তায় ফেলে দেয়? তার সংসারে নিয়ে খরচ করে। এত পরিশ্রম সে করে, তার সংসারে টাকাগুলি দিলে ছেলেমেয়েরা খুশি হইলে সে খুশি হয়ে যায়। তার কষ্টটা কষ্ট মনে হয় না। 'আয মুহাব্বাত তালখাশিরীন শওয়াদ'—মহব্বতে তিতাটা মিষ্টি হয়ে যায়।

তোমার তো দেখা যায় তোমার সন্তানের মহব্বত তোমার বেশি। তুমি তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সময়ও ব্যয় করলা না, পয়সাও ব্যয় করলা না। তাইলে মহব্বতটা কোথায়? তুমি সুপারিশ পাবে কেমনে? এটা ফিকির করবা। এগুলি ফিকির করবে, ফিকির না করলে বুঝবে না। তুমি কার জন্য সময় ব্যয় করো, কার জন্য পয়সা ব্যয় করো, কার চিন্তায় থাকো সারাদিন, ওটা ফিকির করো। এটা কঠিন একটা বিষয়।

সমস্ত কিছুই করা উচিত ছিল, আল্লাহ তো বললেন: 'তুআযযিরূহু ওয়া তুওয়াক্কিরূহু ওয়া তুসাব্বিহূহু বুকরাতাওঁ ওয়া আসীলা'—আল্লাহ বলে দিয়েছেন, তোমাদের জন্য ফরযে আইন, আমার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য তোমাদের মাল ব্যয় করবা, উনাকে তাযীম-তাকরীম মোবারক করবে, উনার ছানা-সিফত করবে, ২৪ ঘণ্টা ছানা-সিফত করবে। তো কতজন করে? কয়জন মাল ব্যয় করে? কয়জন সময় ব্যয় করে? কেউ তো করে না। তাইলে মহব্বত করল কোথায়? খুব ফিকির করবে।

আসলে মানুষ নফসকে মহব্বত করে। তার পরিবারকে মহব্বত করে, ছেলেমেয়েদের মহব্বত করে। এজন্য সারাদিন যা কামাই করে, এই সময়টা ব্যয় করে কামাইয়ের পিছনে কেন? সে ২৪ টা ঘণ্টা ব্যয় করলো, সময়টা শেষ তার। এই ব্যয় করে কিছু পয়সা প

image