ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৫০)
এখন এটা যদি ফযীলত ও নাজাতের কারণ হয়ে থাকে তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের দিন ও তারিখ যা ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ও ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফকে (সোমবার) যদি কেউ তা’যীম-তাকরীম করে, ইজ্জত-সম্মান করে তাহলে সে কতটুকু ফযীলত লাভ করবে? সেটা খুব ফিকির করতে হবে, চিন্তা করতে হবে।
আবার সেই দিনকে তা’যীম-তাকরীম করার নির্দেশও রয়েছে। তিরমিযী শরীফের হাদীছ শরীফে রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং অন্যান্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বলেছিলেন যে, তোমাদের যদি রোযা রাখতে হয় ও ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ (সোমবার) দিন রোযা রেখো, ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ দিন রোযা রেখো। যেহেতু ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ দিন আমি এসেছি, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে যাব, আমার মি’রাজ শরীফ হয়েছে, হিজরত মুবারক হয়েছে, নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পেয়েছে, বিশেষ বিশেষ ঘটনাগুলো আমার ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ দিন হয়েছে। কাজেই, তোমরা ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ দিন রোযা রেখো। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে আগমনের দিন যেটা আমরা ঈদে আ’যম শরীফ, ঈদে আকবর শরীফ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ঈদ বলে থাকি সেই দিনের মর্যাদা-মর্তবা কতটুকু রয়েছে সেটা অনুধাবনের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো রয়েছে সেটা যদি কেউ বুঝে তাহলে তার জন্য উল্লেখিত বিষয়গুলিও বুঝা সহজ হবে। আর যদি কেউ নাদান হয়ে থাকে, আহমক হয়ে থাকে তাহলে তার জন্য এটা বুঝা সম্ভব হবে না। নির্বোধকে তো বোধ দেয়া যাবে না।
আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন যে, আমি মৃতকে যিন্দা করেছি।
وَأُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللهِ
মহান আল্লাহ পাক উনার নবী এবং রসূল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার অনুমতি সাপেক্ষে জন্মান্ধ, শ্বেতকুষ্ঠকে সুস্থ করেছি এবং মৃত ব্যক্তিকে যিন্দা করেছি। কিন্তু আমি নির্বোধকে বোধ দিতে পারিনি। কারণ, যার বোধ শক্তি নেই, বুঝ শক্তি নেই তাকে তো বুঝানো সম্ভব নয়।
এই শ্রেণীর লোক যারা বলে থাকে, শরীয়তে দু’ ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই, ঈদে মীলাদুন্ নবী অর্থাৎ ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তা’যীম-তাকরীম করা যাবে না, সেটা পালন করা যাবে না ইত্যাদি যারা বলে থাকে, প্রকৃতপক্ষে এরা নির্বোধেরই অন্তর্ভুক্ত। তাদের হাক্বীক্বী সমঝ-আক্বল নষ্ট হয়ে গেছে। যার জন্য তারা এই এলোমেলো কথা বলে থাকে। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি কুরআন শরীফে বলেছেন সেটা পালন করার জন্য।
আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ ـ قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ
আয় সম্মানিত হাবীব আমার! আপনি বলে দিন, হে মানুষেরা! মহান আল্লাহ পাক তিনি শুধু মুসলমানদের বলেননি, সমস্ত ইনসানকে বলেছেন, জিনদেরকে সম্মোধন করে বলেছেন, হে মানুষেরা! তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে এসেছেন একজন মহান নছীহতকারী মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে।