একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় কাজ সম্পর্কে আদব ও সম্মানের সাথে সংক্ষেপে দলীল সহ আলোচনা করা হলো -
আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত। তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক অনুযায়ী হতে হবে।
১. বিশুদ্ধ ঈমান আনা ও আক্বীদা ঠিক করা
সব কাজের ভিত্তি হলো ঈমান। শিরক ও কুফর মুক্ত বিশুদ্ধ ঈমান আনতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ
অর্থ: জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। সূরা মুহাম্মদ শরীফ ১৯
এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ মুহব্বত ও আদব রাখা ফরয।
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামায হিফাযত করা
ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয হলো নামায।
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا
অর্থ: নিশ্চয়ই নামায মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয করা হয়েছে। সূরা নিসা শরীফ ১০৩
নামায মানুষকে অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে।
৩. পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নত মুবারককে আঁকড়ে ধরা
আমাদের জীবন পরিচালনার সংবিধান হলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নত মুবারক।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
অর্থ: আমি তোমাদের মধ্যে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও উনার নবীর সুন্নত মুবারক। মুয়াত্তা ইমাম মালিক
৪. হালাল রিযিক গ্রহণ করা ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা
ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল রিযিক।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
طَلَبُ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ
অর্থ: ফরযের পর হালাল রিযিক তালাশ করাও ফরয। বাইহাক্বী শরীফ
সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, ধোঁকা, গীবত, হিংসা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
৫. আখলাক সুন্দর করা ও হক্ব আদায় করা
একজন মুসলমানের ব্যবহার হবে সবচেয়ে সুন্দর।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ
অর্থ: আমি উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।
তাই পিতা-মাতার খেদমত, প্রতিবেশীর হক্ব, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করা আমাদের করণীয়।
৬. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। সূরা আলে ইমরান শরীফ ১১০
* মুসলমানদের শত্রু কারা? এটাও চিনতে হবে।
৭. একজন হক্বানী রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত মুবারকে থাকা
নিজে নিজে দ্বীন শেখা সম্ভব নয়। এজন্য কামিল মুর্শিদের কাছে বাইয়াত হয়ে দ্বীন শিখতে হয়।
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিকীন বা সত্যবাদী ওলীআল্লাহগণের সঙ্গী হও। সূরা তাওবা শরীফ ১১৯
সংক্ষেপে আমাদের করণীয় হলো, ঈমান হিফাযত করা, ফরয ওয়াজিব পালন করা, সুন্নত মুবারক অনুযায়ী জীবন সাজানো, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং সর্বদা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বতে থাকা।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে পূর্ণ মুসলমান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।