পবিত্র দ্বীন ইসলামে পর্দা করার গুরুত্ব অপরিসীম। পর্দা কোনো সাধারণ সামাজিক প্রথা নয়, বরং এটি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সরাসরি ফরয হুকুম।
পর্দা মুমিন নর ও নারীর জন্য ইজ্জত, পবিত্রতা এবং তাক্বওয়ার প্রতীক।
১. পর্দা করা ফরযে আইন
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে নারীদের জন্য পর্দার হুকুম দিয়েছেন,
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
অর্থ: তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করো এবং জাহিলী যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বাইরে বের হয়ো না। সূরা আহযাব শরীফ ৩৩
অন্য আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ
অর্থ: হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আপনার আযওয়াজে মুতাহহারাত, আপনার কন্যা এবং মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। সূরা আহযাব শরীফ ৫৯
এই আয়াত শরীফ দ্বারা বোঝা যায়, পর্দা ফরয।
২. দৃষ্টির পর্দা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য ফরয
পর্দা শুধু নারীর জন্য নয়, পুরুষের জন্যও ফরয। প্রথমে পুরুষদেরকে চোখের পর্দার আদেশ করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। সূরা নূর শরীফ ৩০
এর পরের আয়াত শরীফে নারীদেরকে বলা হয়েছে,
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
অর্থ: আর আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে, তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত। সূরা নূর শরীফ ৩১
৩. পর্দা অন্তরের পবিত্রতার জন্য
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ، ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ
অর্থ: তোমরা যখন উনাদের কাছে কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটাই তোমাদের ও উনাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্র। সূরা আহযাব শরীফ ৫৩
৪. বেপর্দা হওয়া কঠিন গুনাহ এবং জাহান্নামে যাওয়ার কারণ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ
অর্থ: জাহান্নামবাসীদের দুটি দলকে আমি এখনো দেখিনি, একদল যাদের কাছে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে, আর একদল নারী যারা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকবে। ছহীহ মুসলিম শরীফ ২১২৮
অর্থাৎ পাতলা বা আঁটসাঁট পোশাক পরা যা দ্বারা পর্দা হয় না, তা হারাম।
৫. পর্দা সম্মান ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ
পর্দা নারীকে উত্ত্যক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। সূরা আহযাব শরীফের ৫৯ নম্বর আয়াত শরীফের শেষে বলা হয়েছে,
ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ
অর্থ: এটা তাদের পরিচয়ের জন্য অধিক উপযোগী, ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।
অর্থাৎ পর্দানশীন নারীকে দেখে বোঝা যায় সে সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিতা, তাই কেউ তাকে বিরক্ত করার সাহস পায় না।
সারকথা
পর্দা ইসলামের একটি মৌলিক ফরয বিধান। এটি নারীকে বন্দী করে না, বরং তাকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। যেমন শামুক ঝিনুকের ভিতরে মুক্তা সুরক্ষিত থাকে, তেমনি পর্দা নারীর ইজ্জতকে সুরক্ষিত রাখে।
তাই প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উচিত পূর্ণ পর্দা মেনে চলা এবং একজন হক্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবতে থেকে পর্দার হাক্বীকত শিক্ষা করা।