হাদিস শরীফে আরো বর্ণিত আছে যে, যখন নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলমে আরওয়ায় ছিলেন তখন আল্লাহপাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নূরে মুজাসসাম মুবারক বা যিসিম মুবারক এ রুহ মুবারক দিলেন। তখন ঐ রূহ মুবারক পেশানীতে যেয়ে ঘুরতে লাগল ; ফলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পেশানী হতে পাঁচ ফোটা নূর ঝরেছিলেন। তা হতে “কানাহ্জার" একটি শব্দ গঠিত হয়েছিলেন।
এ পাঁচফোটা নূরী অক্ষর হতে প্রকাশ হলো পঞ্চ স্তম্ভ যথা :
প্রথম হরফ কাফ - এর হতে সৃষ্টি হয় কলেমা
দ্বিতীয় হরফ নুন' - এর হতে সৃষ্টি হয় ছালাত
তৃতীয় হরফ ‘হা - এর হতে সৃষ্টি হয় হজ্জ্ব
চতুর্থ হরফ ‘জা"- এর হতে সৃষ্টি হয় যাকাত
পঞ্চম হরফ ‘রা"- এর হতে সৃষ্টি হয় সিয়াম।
নূর নামা" কিতাবে বর্ণিত আছে আল্লাহপাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে নুরুল ইজহার মুবারক (সাধারন ভাষায় সৃষ্টি) করার পর একদিন বললেন - “হে আমার হাবীব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি চারটি জিনিস সৃষ্টি করেছি আর তা হলো : ১। মাটি ২। পানি ৩। আগুন ও ৪। বাতাস
এর মধ্যে হতে একটাকে আপনার অধিকার করতে হবে, বাকি তিনটার শুধু প্রভাবই থাকবে। এর একটা দিয়ে আমি মানবজাতি সৃষ্টি করবো এবং বাকি তিনটিও তাতে সংমিশ্রণ থাকবে। আপনার যে কোন একটা পছন্দ করতে হবে।
আল্লাহ পাক উনার এ কথা শুনে আল্লাহর হাবীব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবা আনাছের মধ্যে প্রথমে পানির নিকট গেলেন। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন পানি ধ্বংশের নেশায় ভরপুর। সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পানিকে দেখে বললেন - আচ্ছছালামু আলাইকুম। পানি জবাব দিল - ওয়া আলাইকুম ছালাম বলে। পানি জানতে চাইলো আপনি কে? সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন - আমি আল্লাহপাকের সৃষ্টি। তুমিও তাঁর সৃষ্টি। শোন হে পানি ! আল্লাহপাক এক জগৎ সৃষ্টি করবেন এবং তোমাকেও সেখানে পাঠাবেন। তুমি সেখানে গিয়ে কি কাজ করবে আমার নিকট বলো। পানি উত্তর করলো তখন আমার যা ইচ্ছা হয় তা-ই করবো। পানির কথা শুনে নূরনবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে পানি তোমার এ ইচ্ছা ত্যাগ করো। আমাদের ইচ্ছা বলতে কিছু রাখা ভাল নয়। আল্লাহর ইচ্ছাই ইচ্ছা। আল্লাহকে খুশী করাই আমাদের কাজ, তুমি এখন তোমার দোষ ত্রুটি গুলো জানো। পানি বললো, আপনি বলুন আমার কি দোষ ক্রটি আছে। নূরনবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার মাঝে ধ্বংশের গৌরব আছে, তুমি তা ত্যাগ করে পবিত্র হও। কারণ, তোমার দ্বারা আল্লাহপাক দুনিয়ার সব কিছু পবিত্র করবেন। তোমাকে ছাড়া দুনিয়াতে কোন জীব বা অন্যান্য কিছুই বাঁচবেনা। তোমাকে পাক করবে বাতাস। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কথা শুনে পানি খুশী হলো এবং কলেমা শাহাদাৎ পড়ে মুসলমান বা আত্মসমর্পণকারী হয়ে গেল।
এবার আল্লাহপাকের হুকুমে নূর মুবারক গেলেন বাতাসের নিকট। এখানেও ছালাম বিনিময়ের পর নূর মুবারক জানতে চাইলেন বাতাসের কি গুণ আছে। বাতাস বললো আমি সব উড়িয়ে ধ্বংশ করে দিতে পারি। আর আমাকে দুনিয়ায় নিলে আমার যা ইচ্ছা তা-ই করবো। মহসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক তখন বললেন, হে বাতাস, তুমি তোমার গৌরব নিজ ইচ্ছায় পরিত্যাগ করো, একমাত্র আল্লাহই আমাদের প্রভু, উনার মুবারক ইচ্ছাই আমাদের ইচ্ছা হওয়া উচিত অন্যথায় আমরা ধ্বংশ হয়ে যাবো। এখন তুমি তোমার গৌরব ছাড় তাহলে পৃথিবীতে যেয়ে খুব গুণী হতে পারবে। জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি জীব তোমার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। তুমি কাহারো নজরে পড়বে না। এভাবে বুঝানোর পর বাতাস কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেল।
তারপর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক গেলেন “আগুনের কাছে সেখানেও ছালাম বিনিময়ের পর নূরনবী আগুনের কি গুণ ক্ষমতা আছে তা জানতে চাইলেন। আগুন তখন খুব গর্ব করে বললো যে, তার এমন ক্ষমতা যে সে ইচ্ছা করলে সব পুড়ে ছাই করে ধ্বংশ করে দিতে পারে। আরো দেখলো আগুনের মধ্যে প্রচণ্ড অহংকার বিরাজ করছে,মহসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক এসমস্ত কিছু লক্ষ্য করে আগুনকে খুব ভাল করে উপদেশ দিলেন তার মিথ্যা অহংকার ত্যাগ করার জন্য। আল্লাহর ছানাছিফত মুবারক শোনালেন আগুনকে এবং তার কি কি দোষ আছে তাও জানালেন। আগুন দিয়ে আল্লাহপাক কি কি করবেন তাও বললেন। আগুন নূরের সমস্ত কথা শুনে কলেমা তাইয়্যেবা' পড়ে মুসলমান হয়ে গেল।
শেষে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক গেলেন “মাটির" নিকট। নূরনবী মাটির নম্রতা, নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার অসীম ক্ষমতা, ধৈৰ্য্যশীলতা, শান্ত স্বভাব ইত্যাদি মহৎ গুণাবলী দেখে খুব খুশী হলেন, “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক”মাটিকে ছালাম দিলেন। মাটি উত্তরে বললো, ‘ওয়া-আলাইকুম ছালাম-মারহাবা" স্বাগতম। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক তার গুণ জানতে চাইলে মাটি বললো আমার কোন গুণ নেই। আল্লাহর গুণেই গুণান্বিত। আল্লাহপাক যখন যে অবস্থায়ই রাখেন সে অবস্থায়ই খুশী।
এ কথা শুনে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক খুশী হলেন এবং মাটিকে কলেমা শরীফ পড়িয়ে মুসলমান করা হলো।
মহান আল্লাহপাক উক্ত আরবা আনাছের দ্বারা আদম অজুদ তৈরী করে তাতে ফিল আরদে খলিফা রূপে বসালেন আদমকে এবং তা সমস্ত সৃষ্টি কার্য সমাধা করে চলেছেন অনাদি কাল হতে।