প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখা হারাম, যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (১)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-

بَلَىٰ قَادِرِينَ عَلَىٰ أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ

অর্থ: বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষকে তাদের আঙুলের ডগাসহ নিখুঁতভাবে পুনরুত্থিত করতে সক্ষম। (পবিত্র সূরা ক্বিয়ামা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)



আর্থিক নিরাপত্তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট:



ক্রেডিট কার্ড নকল করে কিংবা বিকাশ নম্বরের পিন নম্বর জেনে নিয়ে টাকা চুরির ঘটনা বর্তমান সময়ে প্রায়ই শোনা যায়। ডিজিটাল যুগে মানুষের টাকা এখন আর কাগজের আকারে থাকে না, তা থাকে ডিজিটাল তথা মোবাইল একাউন্টে, ব্যাংক হিসাব তথা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে। কোনভাবে
যদি এই ক্রেডিট কার্ড নকল হয়, ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক হয়, সেক্ষেত্রে টাকা চুরি হয়ে যায়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে এখন পাসওয়ার্ডের বদলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়া গিয়েছে, যা আমাদের দেশের
জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।



এটিএমের নিরাপত্তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট:



বর্তমান সময়ে এটিএম বা অটোমেটেড টেলার মেশিন মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার অঙ্গ হয়ে পড়েছে। কারণ অফিস ঘণ্টা ব্যতীত অন্য সময়ে কিংবা ছুটির দিনে টাকার দরকার হলে এটিএম বুথের কোন বিকল্প নেই। তাই এটিএম বুথকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বেই রয়েছে দুর্বৃত্ত চক্র, যারা
‘স্কিমিং ডিভাইস’ ব্যবহার করে মানুষের ক্রেডিট কার্ড নকল করে টাকা হাতিয়ে নেয়। এরকম ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছে। গত ২০১৬ ঈসায়ীর ফেব্রুয়ারি মাসে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ২১ জন গ্রাহকের কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের একাউন্ট থেকে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা তুলে নেয়ার
ঘটনা গোটা বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারীরা তিনটি ব্যাংকের ৬টি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেয়ার প্রমাণ পায়।

এধরণের ঘটনা প্রতিহত করতে বিশ্বে এখন সমাদৃত হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইসযুক্ত এটিএম মেশিন। এসব মেশিনে পিন নম্বরের পরিবর্তে স্ক্যানারের মাধ্যমে গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তারপর টাকা দেয়া হয়।

বলাবাহুল্য, এটি পিন নম্বরের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী পদ্ধতি। কারণ অনেক ক্ষেত্রে পিন নম্বর ভুলে গেলে টাকা তোলা সম্ভব হয় না। ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আর থাকে না।

সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো নিরাপত্তা। এটিএম বুথে কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ঘটে স্কিমিং ডিভাইস ও নাম্বার প্যাডের উপর বসানো গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে। স্কিমিং ডিভাইস দিয়ে কার্ডের ম্যাগনেটিং স্ট্রিপের তথ্য নেয়া হয় নকল কার্ড বানানোর জন্য, আর গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে
পিন নম্বর জেনে নেয়া হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের ক্ষেত্রে এধরণের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা একেবারেই থাকে না।

অথচ এদেশে সরকার এটিএম জালিয়াতির পর অন্যান্য দেশের ন্যায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস যুক্ত এটিএমের ব্যবস্থা না করে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা শুভঙ্করকে দিয়ে মহিলাদের বোরখা খোলার নির্দেশ জারি করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ! কারণ সরকার এখনো হারাম ছবিভিত্তিক কথিত
নিরাপত্তায় বিশ্বাস করে। ধারণা করা হয়, এটিএম বুথে লাগানো সিসি ক্যামেরায় চেহারা দেখা গেলেই আর চুরির ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণই ভুল।

গত ২০১৫ ঈসায়ীর ১৬ই আগস্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অস্ত্রের মুখে আনসার আলী লিমন নামক এক যুবকের নিকট হতে তার ডেবিট কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে, বুথ থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয়ার চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ঘটনা ঘটে। ঢাবির জগন্নাথ হলের রাজীব বাড়ৈ ও অমিত কুমার দাসের নেতৃত্বে
সন্ত্রাসীদের একটি দল অস্ত্রের মুখে লিমনকে জিম্মি করে, অপর দলটি তার থেকে ছিনিয়ে নেয়া ডেবিট কার্ড দিয়ে উদ্যানের বাইরে অবস্থিত এটিএম বুথ থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয়। বলাবাহুল্য, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক এটিএম ব্যবস্থা থাকলে ছিনতাইকারীদের পক্ষে এভাবে টাকা
তুলে নেয়াটা কিছুতেই সম্ভব হতো না। কারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক এটিএম ব্যবস্থায় অবশ্যই গ্রাহককে সশরীরে বুথে গিয়ে টাকা তুলতে হবে, অন্য কেউ জোরপূর্বক তার টাকা তুলে নিতে পারবে না।



ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রক্রিয়ার সুবিধা ও অন্যান্য প্রক্রিয়াসমূহের অসুবিধা:



‘বায়োমেট্রিক’ শব্দ দ্বারা বোঝানো হয় মানুষের বিভিন্ন বিশেষায়িত শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে, যার দ্বারা কোন ব্যক্তিকে অন্যান্য ব্যক্তি হতে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভবপর হয়। যেমন মানুষের চেহারা, কণ্ঠস্বর, স্বাক্ষর, ডিএনএ প্রোফাইল, চোখের রেটিনা, চোখের আইরিস,
ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রভৃতি। এসব শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার সবগুলোর মধ্যেই নানা ধরণের ত্রুটি ও অসুবিধা বিদ্যমান কেবলমাত্র ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাদে। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। নিকট অতীতে মোবাইল ও ল্যাপটপে পাসওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে ক্যামেরা দ্বারা চেহারা
শনাক্তকরণ ও ঠড়রপব জবপড়মহরঃরড়হ বা কণ্ঠস্বর শনাক্তকরণের ব্যবস্থা ছিলো, কিন্তু সেগুলো খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি। কারণ চেহারা শনাক্তকরণের জন্য যে ক্যামেরা ব্যবহার করা হতো, সেটি অল্প আলোতে ঠিকমতো কাজ করত না। আবার দাড়ি-গোঁফের বৃদ্ধিজনিত কারণে চেহারার পরিবর্তন
হলে কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের সফটওয়্যার ঠিকমতো চেহারা শনাক্ত করতে পারে না। (ইনশাআল্লাহ চলবে)



-গোলাম মুর্শিদ

image