"ভোগে সুখ নেই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ" 💚
মূলভাব:
দুনিয়ার জিনিস বেশি বেশি ভোগ করলে, খেলে, কিনলে, জমালে শান্তি আসে না। বরং যা আছে তা থেকে কিছু আল্লাহর রাস্তায়, মানুষের জন্য ছেড়ে দিলেই দিলে আসল শান্তি আসে।
ব্যাখ্যা:
১. ভোগে সুখ নেই কেন?
ভোগ মানে শুধু নিজের জন্য খাওয়া, ঘুমানো, কেনা, জমানো।
- একটা ফোন কিনলে ২ দিন ভালো লাগে, তারপর আবার নতুন মডেল চাই
- বেশি খেলে শরীর অসুস্থ হয়
- বেশি টাকা জমালেও টেনশন বাড়ে "চুরি হবে, লস হবে"
এটাকে বলে "ভোগের ক্ষুধা"। যত ভোগ করবেন, চাহিদা তত বাড়বে। তাই তৃপ্তি আসে না।
মহাস আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন - "প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল রাখে" - পবিত্র সূরা তাকাসুর শরীফ।
২. ত্যাগেই প্রকৃত সুখ কেন?
ত্যাগ মানে নিজের আরাম, টাকা, সময় অন্যের জন্য ছেড়ে দেওয়া।
- গরীবকে ১০০ টাকা দান করলে দিলে যে শান্তি লাগে, ১০০০ টাকার শপিংয়েও তা লাগে না
- নিজে না খেয়ে মেহমানকে খাওয়ালে যে তৃপ্তি, নিজে পেট ভরে খেলেও তা নাই
- রাতের ঘুম ত্যাগ করে তাহাজ্জুদ পড়লে যে নূর দিলে আসে, দুনিয়ার সব আরামেও তা নাই।
সব বাদ দিয়ে নিয়মিত সবক আদায় ও যিকিরে মশগুল থাকলে যে ইতমিনান তা আড্ডা মাস্তিতে নাই!!
কারণ ত্যাগের সময় আমরা "নফস" কে হারাই। আর নফসকে হারালেই রূহ শান্তি পায়।
৩. উদাহরণ দিয়ে বুঝি:
সমুদ্রের পানি যত খাবে তৃষ্ণা তত বাড়বে। এটা হলো "ভোগ"।
আর ঝর্ণার পানি অন্যকে পান করালে নিজেরও তৃষ্ণা মিটে যায়। এটা হলো "ত্যাগ"।
সারকথা ২ লাইনে:
ভোগ = পাওয়ার জন্য দৌড়ানো = অশান্তি
ত্যাগ = দেওয়ার জন্য শান্ত হওয়া = প্রকৃত সুখ
হযরত শেখ সাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: "যে দেয় সে রাজা, যে নেয় সে ফকির"।
তাই আসুন, আমরা ভোগ কমাই, ত্যাগ বাড়াই। দান করি, ক্ষমা করি, ঘুম, অলসতা বাদ দিয়ে দ্বীনী কাজে সময় দেই। দেখবেন দিলে অটোমেটিক শান্তি এসে যাবে ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে ত্যাগী বান্দা হওয়ার তৌফিক দিন। আমীন।