কোনটা করবেন?
সেটা আপনার বিষয়!!

১. হাদীছ-এ-কুদসী শরীফে এসেছে।

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ، وَإِلَّا تَفْعَلْ مَلَأْتُ يَدَيْكَ شُغْلًا وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ

অর্থঃ
"মহান আল্লাহ তাবারক ওয়া তাআ'লা তিনি বলেন: হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য নিজেকে ফারেগ করো, আলাদা করে নাও। আমি তোমার অন্তরকে অমুখাপেক্ষিতা দ্বারা ভরে দিবো এবং তোমার অভাব দূর করে দিবো। আর যদি তা না করো, তবে আমি তোমার দুই হাতকে ব্যস্ততা দ্বারা ভরে দিবো এবং তোমার অভাব দূর করবো না।"

- তিরমিজি শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ

২. বিস্তারিত ব্যাখ্যা


মূল ৩টি বিষয়:

ক) "تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي" = আমার ইবাদতের জন্য ফারেগ হও
এখানে ২৪ ঘন্টা মসজিদে বসে থাকার কথা বলা হয়নি। বরং ফরয ইবাদত ঠিকমতো করা + কিছু সময়
যিকির-তিলাওয়াত, কিতাবাদি পড়া,ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। আর সারাক্ষণ যিকিরের খেয়ালে থাকা। নিয়ত ঠিক রেখে হালাল রিযিক কামানোও ইবাদত।

খ) "أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى" = অন্তরকে ধনী বানিয়ে দিবো
এটা হলো "গিনায়ে ক্বলবী"। ১০ টাকা থাকলেও মনে হবে আমি বাদশাহ। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তায়াক্কুল আছে। হযরত ফারুকে আযম আলাইহিসসালাম তিনি বলতেন: "ধনী সে না যার সম্পদ বেশি, ধনী সে যার দিল ধনী।"

গ) "مَلَأْتُ يَدَيْكَ شُغْلًا" = দুই হাতকে ব্যস্ততা দিয়ে ভরে দিবো
মহান আল্লাহ পাক থেকে গাফেল হলে দুনিয়া পিছনে লাগিয়ে দেন। সারাদিন দৌড়াবে, কিন্তু বরকত থাকবে না। "কামাই আছে, শান্তি নাই" — এই অবস্থা।

৩. উলামায়ে কেরামের নসীহত মুবারক:

"যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য সময় বের করে, মহান আল্লাহ পাক তার সব কাজের জন্য সময় বের করে দেন। আর যে দুনিয়ার জন্য সময় বের করে, দুনিয়া তাকে ধ্বংস করে দেয়।"

সারকথা

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সাথে "চুক্তি" করছেন:
তুমি আমাকে সময় দাও → আমি তোমাকে শান্তি + বরকত দিবো।*

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এই হাদীছ শরীফের উপর আমল করার তৌফিক দিন। আমীন