মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৯)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায ইবনে মূসা আল ইয়াহ্চুবী আস সাব্তী আল মালিকী আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৪৭৬ হিজরী শরীফ এবং বিছাল শরীফ ৫৪৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ২য় খণ্ডের ৩০৯ পৃষ্ঠায় বলেন—
وَحَكٰى حَضْرَتْ اَبُو الْـحَسَنِ الصِّقِلِّىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ الْقَاضِىَ حَضْرَتْ اَبَا بَكْرِ ابْنِ الطَّيِّبِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اِنَّ اللهَ تَعَالـٰى اِذَا ذَكَرَ فِـى الْقُرْاٰنِ مَا نَسَبَهٗ اِلَيْهِ الْمُشْرِكُوْنَ سَبَّحَ نَفْسَهٗ لِنَفْسِهٖ كَقَوْلِهٖ (وَقَالُوا اتَّـخَذَ الرَّحْـمٰنُ وَلَدًا سُبْحٰنَهٗ) فِـىْ اٰىٍ كَثِيْرَةٍ وَذَكَرَ تَعَالـٰى مَا نَسَبَهُ الْمُنَافِقُوْنَ اِلـٰى اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقَالَ (وَلَوْلَاۤ اِذْ سَـمِعْتُمُوْهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَنَاۤ اَنْ نَّتَكَلَّمَ بِـهٰذَا سُبْحٰنَكَ) سَبَّحَ نَفْسَهٗ فِـىْ تَبْـرِئَتِهَا مِنَ السُّوْءِ كَمَا سَبَّحَ نَفْسَهٗ فِـىْ تَبْرَتِهٖ مِنَ السُّوْءِ وَهٰذَا يَشْهَدُ لِقَوْلِ حَضْرَتْ مَالِكٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـىْ قَتْلِ مَنْ سَبَّ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَمَعْنٰـى هٰذَا اَنَّ اللهَ لَمَّا عَظَّمَ سَبَّهَا كَمَا عَظَّمَ سَبَّهٗ وَكَانَ سَبُّهَا سَبًّا لِّنَبِيِّهٖ وَقَرَنَ سَبَّ نَبِيِّهٖ وَاٰذَاهُ بِاٰذَاهُ تَعَالـٰى وَكَانَ حُكْمُ مُؤْذِيْهِ تَعَالـٰى اَلْقَتْلَ كَانَ مُؤْذِىْ نَبِيِّهٖ كَذٰلِكَ.
অর্থ: “আল্লামা হযরত ইমাম আবুল হাসান ছিক্বিল্লী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, কাযী হযরত আবূ বকর ইবনে ত্বইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মুশরিকরা যা সম্পৃক্ত করেছিলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সে বিষয়ে আলোচনা মুবারক করেছেন, তখন তিনি নিজেই উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন— মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক— ‘তারা (কাফির, মুশরিকরা) বলে— মহান আল্লাহ পাক তিনি আল—আওলাদ (সন্তান—সন্ততি) গ্রহণ করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! (অথচ) মহান আল্লাহ পাক তিনি পূত—পবিত্র, তিনি মহান।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৬) এরূপ অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে মুনাফিক্বরা যা সম্পৃক্ত করেছিলো, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা যখন এ কথা শুনলে, তখন কেনো বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলার আমাদের কোনো অধিকার নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো পবিত্র, মহান। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬) এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি যে সমস্ত প্রকার খারাপি থেকে মুক্ত, পূত—পবিত্র’ এ বিষয়টি ঘোষণা মুবারক দিতে গিয়ে, উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করতে যেয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত প্রকার খারাপি, বুরায়ী থেকে উনার নিষ্কলুষতা, ছমাদিয়াত ও বেনিয়াযী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে বলেছেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে যে ব্যক্তি গাল—মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ উনার এই মতকে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণ করে। সুবহানাল্লাহ! আর এটার অর্থ হচ্ছে— নিশ্চয়ই যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে (মুনাফিক্বরা) আপবাদ দিলো, উনার মানহানী করলো, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সমস্ত প্রকার খারাপি থেকে মুক্ত, পূত—পবিত্র বলে ঘোষণা মুবারক দিতে গিয়ে, উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করতে যেয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার ব্যাপারে অপবাদ দেয়ার পর তিনি উনার নিষ্কলুষতা, ছমাদিয়াত ও বেনিয়াযী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহআলাইহাস সালাম উনাকে গাল—মন্দ করার, উনার মানহানী করার অর্থই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল—মন্দ করা, উনার মানহানী করা। না’ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গাল—মন্দ করার, উনার মানহানী করার বিষয়টি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল—মন্দ করার, উনার মানহানী করার শামিল করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়া মহান আল্লাহ পাক উনার কষ্টের কারণ। আর মহান আল্লাহ পাক উনাকে কষ্ট প্রদানকারীর হুকুম হচ্ছে, তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট প্রদানকারীরও একই হুকুম। অর্থাৎ তারও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।” সুবহানাল্লাহ! (আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৪১৭, আশ শিফা শরীফ ২/৩০৯, শারহুশ শিফা লিল খফাজী ৪/৫৬৮)