আধুনিকতার পরীক্ষা
আমরা মোটামুটি সবাই আধুনিকতার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।
ক) আধুনিকতায় সবকিছু আপেক্ষিক—সুনির্দিষ্ট জায়েজ-নাজায়েজ বলে কিছু নেই। এটাও ঠিক, ঐটাও ঠিক, সেটাও ঠিক—সবই নাকি সঠিক !
খ) আধুনিকতায় মানুষের জীবন অনেকটাই অর্থহীন—পড়বেন, নয়টা টু পাঁচটা চাকরি, কামাবেন, ফুর্তি করবেন, নেটফ্লিক্সে মুভি দেখবেন, মারা যাবেন। মানবজীবনের কী অসম্ভব অপচয়।
গ) আধুনিকতায় অধিকাংশ মানুষ অসুখী—এত খাবার, এত রিসোর্স, এত বিনোদন—জীবনে এত প্রাচুর্য—তবু নাশোকরিয়া, সবকিছু বোরিং—শারীরিক কোন কষ্ট নাই, অভাব নাই, তবু মনটা সবসময় ‘উদাসীন-বিমর্ষ’। বাংলাদেশে প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন ত্রিশ-পয়ত্রিশ মানুষ—ভাবা যায়?
ঘ) আধুনিকতায় সবকিছু অন্তহীন—সারাদিন ফেসবুক স্ক্রল করলেও শেষ হয় না, ইউটিউবের রেকমেন্ডশন বার খালি হবে না, বই পড়তে চাইলে অনলাইনে আছে কোটি কোটি বই। একজন মানুষের পক্ষে বিশ-ত্রিশজনের বেশী মানুষের সাথে বন্ধুত্ব রাখা সম্ভব নয়, অথচ ফেসবুকে আপনার লিস্টে পাঁচ হাজার মানুষ। প্রতিদিন একজন করে কথা বললেও পনের বছর লেগে যাবে। তবু মানুষের একাকীত্ব নাকি শেষ হয় না।
ঙ) আধুনিকতা ইউটোপিয়ান ফিউচারের কথা বলে। সমস্যার কথা বললে সে দোষ স্বীকার করবে না। বলবে, আরও বাজেট বাড়ান, বরাদ্দ বৃদ্ধি করেন, আরও প্রজেক্ট নামান, আরও দশটা গবেষণা আনেন—তাহলে নাকি সব সমাধান হয়ে যাবে। যদি তাই হয়, তবে জাপানে এত আত্মহত্যা কেন—দেশ উন্নত হলে যদি জাপানের মত আত্মহত্যার পরিমাণ দিগুণ হয়ে যায়—তবে একে কি উন্নতি বলবেন?
আধুনিকতাকে প্রশ্ন করতেও শিখেন