পবিত্র দরবার শরীফে আসার কিছুদিন পর হঠাৎ আমি খুবই অসুস্থ হয়ে গেলাম। কিছুই খেতে পারতাম না। এমনকি পানিটাও গিলতে খুব কষ্ট হতো। অনেক শুকিয়ে যাচ্ছিলাম তাই আমার আম্মা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বলে বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু দেখা গেল, বাসায় যাওয়ার পর এই সমস্যা আরো বেড়ে গেল। আরো কঠিন আকার ধারণ করলো। এমনকি আমার গলার মাঝখানে বড় একটা চাকা হয়ে গিয়েছিলো। দেখলে মনে হতো, গলগণ্ড রোগ হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখালে ডাক্তার বললেন, এটা গলগণ্ড না। আবার ঠাণ্ডার কারণেও নয় বরং অন্য কিছু হতে পারে। তাই সে ডাক্তার পি.জি হাসপাতালে গিয়ে টেস্ট করাতে বললেন। কিন্তু আমার শরীর এত দুর্বল ছিলো যে, কোনভাবেই হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব ছিলো না। এরকম অবস্থা শুনে আমার একজন আত্মীয় বললেন, সম্ভবত কেউ যাদু টোনা করেছে... আমাদের তো শত্রুর অভাব নেই। এরপর তিনি কয়েকভাবে পরীক্ষা করে দেখলেন, সত্যিই বান মেরেছে এবং কুফরী কালাম করেছে। তিনি সেটা কেটে দিলেন এবং বললেন, এভাবে তিনদিন কুফরী কাটাতে হবে। সেদিন একটু সুস্থতা অনুভব করেছিলাম। কিন্তু এর পরেরদিন আবার একই অবস্থা! এইরকম অবস্থা দেখে আমার দুলাভাই পবিত্র দরবার শরীফে নিয়ে যাওয়ার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে দোয়া মুবারক চাওয়ার পরামর্শ দেন। আমার শরীর এতো খারাপ লাগছিলো যে মনে হচ্ছিলো আমি আর বাঁচবোই না! তাই দরবার শরীফেই চলে যাই। এরপর দরবার শরীফে এলাম অনেক কষ্টে। তারপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানানো হলে তিনি পড়া তেল লাগাতে বলেন। কিন্তু তেল পড়িয়ে নেয়ার একদিন পর তা হারিয়ে যায়। তাই ব্যবহার করতে না পারায় পুনরায় রোগ এতো বৃদ্ধি পেলো যে, আস্তে আস্তে গলার মাঝখান বরাবর বড় চাকার মতো হয়ে গেল। অবস্থাটা এমন ছিলো যে, এটা এমনভাবে বড় হতে লাগলো যে খাদ্যনালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো! তখন মনে হয়েছে, আমি না খেয়েই মারা যাবো। তিন দিন কিছুই খেতে পারলাম না। আমার এ অবস্থা শুনে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি দয়া-ইহসান মুবারক করে দুধ দিয়ে মাখানো নরম তাবারুক ভাত পাঠালেন খাওয়ার জন্য। ছোট এক লোকমা অনেক কষ্টে খেলাম কিন্তু আর খেতে না পারায় আমি খুব কান্না করছিলাম। তখন হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বিষয়টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানান। একটু পরই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমি যেখানে ছিলাম সেখানে চলে আসেন। তখন আমি উনাকে বললাম, আম্মাজী! আমাকে বাঁচান। আমি আর বাঁচবো না! কিছুই খেতে পারছি না! এই বলে খুব কান্না করতেই তিনি একজন খাদিমাকে বললেন, পড়া তেল নিয়ে আসতে। পড়া তেল আনার পর তিনি উনার ডান হাত মুবারকে তেল নিয়ে আমার গলায় বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করে মালিশ করে দিলেন। কি আশ্চর্যের বিষয়! সাথে সাথেই চাকাটা সেখান থেকে চিরদিনের মতো চলে গেল! সত্যিই! সেটা আর কোনো দিনও দেখা যায়নি! আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি! সুবহানাল্লাহ! আসলে কুফরী কালাম, যাদু, টোনা, বান করলে তিন থেকে সাত দিন কবিরাজী চিকিৎসা নিতে হয়। তারপরও অনেক সময় দেখা যায়, সেই সমস্যা থেকেই যায়। পুরোপুরি ভালো হয়না। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হাত মুবারকের একবারের স্পর্শে আমার সেই সমস্যা চিরতরে বিদায় নিলো। সুবহানাল্লাহ!
এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে একটি নছীহত মুবারক করেছিলেন। তা হচ্ছে- আমরা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুরিদ। আমাদের ঈমানী কুওওয়াত আর বুকে সাহস থাকলে কোনো যাদু-টোনা, বান এমনকি জ্বিন-পরীর আছরও থাকতে পারেনা। সুবহানাল্লাহ! আর কেউ যদি করেও থাকে তবুও তেমন কোনো ক্ষতি করতে সক্ষম হবে না। অসুখ-বিসুখ মানুষ মাত্রই হতে পারে কিন্তু কঠিন কিছুই হবে না। (ইনশাআল্লাহ!) সেইদিন থেকে আজ অবধি অসুস্থ হলে কোনো আত্মীয়-স্বজন যদি বলে, কেউ মনে হয় তোমাকে তাবিজ করেছে বা ক্ষতি করেছে, এ কথা আমার একদমই বিশ্বাস হয় না। কারণ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনারা থাকতে পৃথিবীর যমীনে এমন কে আছে যে আমাদের ক্ষতি করতে পারে!
এখন বলার বিষয় হলো, অনেক হুযূর নামধারী ওঝা, কবিরাজ এগুলো সারানোর নাম করে অনেক টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। ভালো তো হয়ই না বরং এগুলো তারা বার বার করতে থাকে যাতে করে মানুষ তাদের কাছে যায় আর তারা অর্থ উপার্জন করতে পারে। নাউযুবিল্লাহ! আর এই সমস্ত খারাবী থেকে একান্তই দয়া করে আমাদেরকে উদ্ধার করে নতুন জীবনের পথ দেখালেন আমাদের প্রাণপ্রিয়া শায়েখ, মাথার তাজ, নয়নের মণি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
প্রিয় পাঠক! তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার একজন বেমেছাল ওলী, আশা করি আপনারা তা আমার এই ঘটনা দ্বারা বুঝতে পেরেছেন। উনার যবানের পবিত্রতা, উনার ছিদ্দীক্বা শান মুবারক সম্পর্কে এত স্বল্প পরিসরে এই ছোট্ট ঘটনা দ্বারা প্রকাশ করা অসম্ভব। তবে যারা সমঝদার তাদের জন্য অবশ্যই অনেক ফিকিরের বিষয় রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আমার বড় ছেলে আব্দুল কাদির জিলানী মুস্তাক্বীমের জন্মের কিছুদিন পর তার নিউমোনিয়া হয়। সকাল-বিকাল দুই বেলা করে তাকে ইনজেকশন দিতে হতো। সাত দিনেও ভাল না হয়ে অবস্থার আরো অবনতি হলে ডাক্তার ২১ দিন ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলে এবং গোসল করাতে নিষেধ করে কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে দিতে বলে। এতে করে প্রচন্ড গরমে ঘেমে বুকে কফ জমে গিয়েছিলো। ডাক্তারের কথা মত আমিও আমার বাচ্চাকে ১০ দিন গোসল না করিয়ে কাপড় দিয়ে মুছে দিয়েছিলাম। বিষয়টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানানো হলে তিনি বলেন, "তুমি নিশ্চয়ই প্রতিদিন বাচ্চাকে গোসল করাও না। ছেলেকে প্রতিদিন গোসল করাবে এবং মাথায় পানি দিবে যতক্ষণ মাথা ঠান্ডা না হয়। কেননা নিউমোনিয়ার বাচ্চাদের মাথা অনেক গরম থাকে। যখন বাচ্চাদেরকে ঠিকমত গোসল করানো হয় না, অতিরিক্ত গরমে শরীর, মাথা ঘামে ভিজে থাকে তখনই বাচ্চাদের নিউমোনিয়া হয়ে যায়"। সত্যিই তিনদিন উনার কথা মুবারক অনুসরণে কঠিন নিউমোনিয়ার হাত থেকে সে রেহাই পায়। সুবহানাল্লাহ! আর বাকী ২১ দিন ইনজেকশন দেয়া লাগেনি। তখন আমার মনে হয়েছে তিনি সকল চিকিৎসকের চেয়ে উত্তম চিকিৎসক।
- আহমাদ উম্মুল হায়া ফারহানা