আপনারা কি জানেন - বাংলাদেশে সোনার খনি আছে?

হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা। সেই সোনা আবার যেই সেই সোনা নয়, ব্ল্যাকগোল্ড বা কালোসোনা - যার মূল্য হলুদ সোনার চেয়ে অনেক বেশি।


বঙ্গোপসাগরের তলদেশে রয়েছে সেই ব্ল্যাকগোল্ড বা কালো সোনার বিপুল ভাণ্ডার - ব্ল্যাকগোল্ডের মোট অর্থমূল্য এবং বঙ্গোপসাগরের তলদেশের মোট সম্পদ- জার্মানির অর্থনীতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ।

পাকিস্তান আমলে এক বিজ্ঞানী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলেন। তিনি হঠাৎ খেয়াল করলেন - তীরে ঢেউ আছড়ে পড়ে নেমে যাবার পর হলুদ বালুর উপরে কালো এক ধরনের বালু গড়াগড়ি খাচ্ছে।সেই বালু হাতে নিয়ে তাঁর চোখ কপালে। এ তো দেখি বিশ্বের সবচেয়ে দামী ধাতুর একটি - টাইটেনিয়াম! তিনি সমুদ্রের তীর থেকে বেশ কিছু বালু বস্তায় ভরে নিয়ে আসলেন। তারপর ল্যাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হলেন - এই বালুতে আছে - টাইটেনিয়াম, ইউরেনিয়াম, ম্যাগনেটাইট, জিরকন, কোবাল্ট, মোনাজাইট, ইলোমিনাইট ইত্যাদি মোট ১৭ টা গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ও অন্যান্য উপাদান। এগুলোর কোনো কোনোটা আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলাবাহুল্য - এগুলোর সঠিক গুরুত্ব পাকিস্তান আমলে বোঝা সম্ভব হয়নি। যত দিন যাচ্ছে - এই উপাদানগুলো বিজ্ঞানময় বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রথমে প্রশ্ন জাগলো - সমুদ্রপাড়ের এই বালুতে ইউরেনিয়াম, টাইটেনিয়াম, জিরকন আসলো কোত্থেকে? স্বাভাবিকভাবেই চোখ গেলো গভীর সমুদ্রের দিকে। তারপর বিজ্ঞানিদের একটা টিম গভীর সমুদ্রে গবেষণা করে বের করলেন - বঙ্গোপসাগরের তলদেশে মোট ১৩ টা স্পটে একেবারে স্তুপ হয়ে আছে বিপুল পরিমাণ কালোসোনা।
এই ১৩ টা স্পটের মধ্যে ৪ টা স্পষ্ট ভোলার নিকটবর্তী, ৯ টা কক্সবাজারের নিকটবর্তী - সমুদ্রের যেখানে মহিসোপান শুরু, সেখানে।

বাংলাদেশ পর্বে শুরুতে এই কালোসোনার দিকে কেউ গুরুত্বের সাথে নজর দেননি । কিন্তু একুশ শতকে এই উপাদানগুলোর চাহিদা জ্যামিতিকহ্যারে বাড়ছে। বিশেষত প্রযুক্তিতে এগুলোর ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
যেমন -ইউরেনিয়াম কি জিনিস তা অনেকেই বোঝেন। এটা যার কাছে আছে সে-ই বিশ্বের দাদা। বাংলাদেশের মজুত বিপুল হওয়াতে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর চোখ ও লালা একসাথে পড়তে শুরু করলো।
এসব ক্ষেত্রে এমেরিকা বরাবরই সবার চেয়ে এগিয়ে থাকে। তারা এই সম্পদের মূল্য বুঝতে পেরেছিলো আমাদের বহু আগে - সেই পাকিস্তান আমলে। তখনই তারা নানাভাবে এগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু এই বিপুল সম্পদ পাওয়ার জন্য যেকোনো দেশকে ২টা উপায়ের একটা নিতে হবে -
১. সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ দখল
২. রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে গাণিতিকভাবে লুটপাট।

পাকিস্তান পর্বে প্রথমটা সম্ভব ছিলো না। কারণ তখন দুই পরাশক্তি - সোভিয়েত রাশিয়া এবং এমেরিকার মধ্যে কোল্ডওয়ার চালু ছিলো। একজন খেতে চাইলে অন্যজন ছাড় দেবে না। অধিকন্তু এ অঞ্চলে তখন সোভিয়েতের ভালো অবস্থান ছিলো। সোভিয়েত ভাঙার পর ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়ায় যেসব ঘটনা ন্যাংটোভাবে ঘটানো সম্ভব হয়েছে - সোভিয়েত থাকতে তা এতোটা বেপরোয়াভাবে সম্ভব ছিলো না।

★★
এমেরিকা পাকিস্তান সরকারকে হাত করে রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে এই সম্পদে ভাগ বসাতে বঙ্গোপসাগর নিয়ে প্ল্যান করছিলো। রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে কাজ হাসিল করার উদ্যোগ নিতে নিতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা চেয়ে বসলো। এমেরিকা অস্থির হয়ে পড়লো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এমেরিকা বাংলাদেশকে সাপোর্ট না করে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার একটা বড় কারণ ছিলো এই ব্ল্যাকগোল্ড তথা বঙ্গোপসাগর। কারণ - পাকিস্তান টিকে থাকলে এই সম্পদ হস্তগত করা সহজ ছিলো। তারা ‘সৎভাই এর সম্পত্তি’ হিসেবে সহজেই দিয়ে দিতো - এটা এমেরিকা বুঝেছিল। ফলে তারা চাচ্ছিলো পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা না হোক।

কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন চাচ্ছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন হোক; ভারতও চাচ্ছিলো - তাদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু চীন চায়নি। কেন? সহজ কারণ - ভারতের যেখানে স্বার্থ, সেখানে চীনের বিরোধিতা বা মিনিমাম নিরবতা থাকবে।

১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হলো।
এমেরিকা দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি করার প্রস্তাব দিলো। বঙ্গবন্ধু সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন।
এমেরিকা কিন্তু হাল ছাড়লো না। ১৯৭৩ সাল পুরোটা এমেরিকা নিজেরাই নানান কারণে নাজেহাল হয়ে ছিলো - সাদ্দাম হোসেন, তেল নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি কারণে। ১৯৭৪ এ তারা কল্পনাতীতভাবে সৌদি আরবের সকল সম্পদ হাতে পেয়ে গেলে ১৯৭৫ এ আবার বড়বড় ঘটনা ঘটাতে শুরু করলো। খোদ সৌদি বাদশা ফয়সালকে হ
ত্যার মাধ্যমে এই মিশন শুরু। ৭৫ এ তারা বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে সক্ষম হলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে । মেজর জিয়া পেট্রো-ডলার সহ মার্কিন আধিপত্যে অসীম সহযোগিতা করতে লাগলেন। জিয়ার সহযোগিতায় পেট্রো-ডলারের রাজনীতিতে বাংলাদেশকে আটকে ফেলতে থাকলো। তারা জানতো পেট্রো-ডলারের রাজনীতি ভবিষ্যতে সেই ব্ল্যাকগোল্ড তথা বঙ্গোপসাগরের মতো ‘সোনার হরিণ’ হাতে পেতে সহযোগিতা করবে।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস - যেই এমেরিকা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো - শেখ হাসিনা কিন্তু সেই এমেরিকার হাত ধরেই প্রথমবার ক্ষমতায় বসেছিলেন। এমেরিকার সাথে আওয়ামিলীগের সেই লিংক তৈরি করে দিয়েছিলেন রেজা কিবরিয়ার বাবা - শাহ এএসএম কিবরিয়া। এমনকি বঙ্গোপসাগরে এমেরিকাকে অবস্থান দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন হাসিনা। কিন্তু, তিনি ক্ষমতায় বসার পর যেই না এমেরিকা সেইন্টমার্টিন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর করতে চাইলো - অমনি তিনি তাঁরই দলের নেতা চট্টগ্রামের মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দিয়ে কৃত্রিম আন্দোলন তৈরি করে অচল করে দিলেন চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর । এমেরিকা বুঝে ফেলেছিলো - হাসিনা দেবে না । পরের বছর সরকার পরিবর্তন হলো। ক্ষমতায় বসলেন খালেদা জিয়া। তিনি বোকা মানুষ - এটাই বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়েছিল এ ক্ষেত্রে। তাঁকে এমেরিকা বুঝালেও তিনি মাথা নাড়েন, চীন বুঝালেও তিনি মাথা নাড়েন। শেষমেশ ২০০৫ এ তাঁর চীন সফরকে ঘিরে সারাদেশে একযোগে ৫০০ সিরিজবোমা হামলার ঘটনা ঘটলো। তিনি ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসলেন। তবুও এমেরিকা বিএনপি এবং জামাতের উপরই শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখতে চাচ্ছিল । কারণ - এই দুইটা দলই এমেরিকার অর্থায়ন এবং শেল্টারে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা দল। এরা নানা সময়ে এমেরিকার নানাবিধ কাজে লেগেছিলো।
তথাপি - এমেরিকা আরেকটা গেম খেলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নিতে চাইলো। সেটা সেনা শেল্টারের ফখরুদ্দিন আহমদের মাধ্যমে। মনে আছে? ফখরুদ্দিনের সময়ে ঘুর্ণিঝড় সিডরে আক্রান্ত এলাকায় ‘'ত্রাণ’ দেবার জন্য ৫ হাজার সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে মার্কিন রণতরী এসেছিলো পটুয়াখালী? সেসব রণতরীতে বাংলাদেশের সাংবাদিক বা কোনও পর্যবেক্ষককে উঠতে দেয়া হয়নি, ফলে ভিতরে কি ছিলো এখনো সেসব অজানা থেকে গেছে। কেউ কেউ বলছিলো - একটা ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি’ ছিলো সেসব জাহাজে। তখন চীন, রাশিয়া, ভারত এবং বাংলাদেশের চিন্তাশীল মানুষদের প্রতিবাদের মুখে মার্কিন রণতরী ফিরে গিয়েছিলো।

★★★
এমেরিকা সবসময় তার মোস্ট টার্গেটেড এলাকায় অল্টারনেটিং প্ল্যান প্রস্তুত রাখে।
তাই - তারা এ অঞ্চলে অনেকগুলো ব্যাকাপ তৈরি করেছিলো।
১. এমেরিকা সবসময় প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী গোষ্টিকে পেট্রোনাইজ করতে পছন্দ করে। তাই বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী দল গঠন এবং লালনপালন করে রেখেছিল। প্রয়োজন হলে তাদেকে দিয়ে জ
ঙ্গী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে জঙ্গী দমনের নাম করে সরাসরি চলে আসা যাবে।
২. ড. ইউনুস - তাঁকে নোবেল দেয়া এবং বারবার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এমন স্টেপ তাদেরকে অনেক দেশেই নিতে দেখা গেছে। নোবেল, ম্যাগসেসে সহ এমন আরো কিছু পুরষ্কার আছে - যা তারা তাদের মনোনীত এবং প্রিয়ভাজনদের দিয়ে থাকে। প্রথম উদ্দেশ্য - যাদেরকে নিয়ে একটা অঞ্চলে বড় লক্ষ্য হাসিল করতে চাচ্ছে - তাদেরকে এসব পুরষ্কারের মাধ্যমে ‘'মহান ও গ্রহণযোগ্য’’ করে তোলা। হাইলাইটেট করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য - প্রশাসন, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন ইত্যাদিতে তাদের অধিপত্য তৈরি করা।
৩. এমেরিকান এনজিও এবং কনসাল্টিং ফার্ম সারা পৃথিবীতে তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে থাকে–---
প্রচুর ডাটা সংগ্রহ এবং প্রেরণ করে।
সুশীল এবং নানান পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠন করে সেগুলোর মধ্যে তাদের স্বার্থের অনুকূলে বীজ বপন করে।
প্রশাসনের সাথে লবিং করে।
মিডিয়ায় মার্কিন স্বার্থের পক্ষে মেধাগত আধিপত্য স্থাপন করে।
কিছু তথাকথিত ‘ভালো’ কাজের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রভাববিস্তার করতে থাকে।
সিপিডি, বেলা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সুশাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন) ইত্যাদি এমেরিকার এনজিও প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘযুগ ধরে নিরবে ভিত মজবুত করে যাচ্ছিলো।
৪. অনেকবার সামরিক এবং সুশীল নাগরিক সমন্বয়ে অভ্যুত্থান করার প্ল্যান নিয়েছিল। অর্থাৎ সুশীল সমাজেও কাজ করছিলো।
৫. সাংবাদিক, মিডিয়া হচ্ছে আধুনিক যুগের ব্রেইন গেইমের হাতিয়ার। তাই এগুলো কিনে রেখেছিলো।
পাশাপাশি শিক্ষক, উকিলসহ প্রায় সব সেক্টরেই লোক সেট করে আসছিলো।
৬. আর সবার অগোচরে কাজ করে যাচ্ছিলো এমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা - ‘'সিআইএ’।

এই কর্মকাণ্ডগুলো যে কেবল এমেরিকা করছিল তা নয়। অর্থাৎ - এনজিও বাহিনী থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বাহিনী - কেবল এমেরিকা নিয়োগ করেছে তা নয়। এই কর্মকাণ্ডগুলো চীন রাশিয়াও করে যাচ্ছিলো নিজেদের মতো করে। আমাদের সম্পদ এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থানে খুঁটি গাঁড়তে তৎপর ছিলো এবং আছে - (ক) রাশিয়া- চীন বলয় (খ) অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা, ইংল্যান্ড বলয় । দুই পক্ষই ভিন্ন-ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে আমাদের বিপুল বিপুল রত্নভান্ডার লক্ষ্য করে।

★★★★
এবার আমাদের সমুদ্র সম্পদের প্রসঙ্গে আসি।
=>. গভীর সমুদ্রে ১৩ টা স্পটে স্তুপ হয়ে আছে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম, টাইটেনিয়াম, জিরকন, কোবাল্ট ইত্যাদি - তার পরিমাণ বিপুল। এগুলোকে ব্যাকগোল্ড বলে। কারণ এগুলোর আর্থিক মূল্য সোনার চেয়ে প্রায়দেড়গুণ। কোনো কোনোটা আড়াই গুণ বেশি দামী। ১৩টা স্তুপ মানে ছোটখাটো স্তুপ নয়, যেন ১৩ টা পাহাড়।

=>. সমুদ্রের অগভীরে আছে বিপুল পরিমাণ ক্লে বা কাদা। এই কাদা কিন্তু আপনার বাড়ির পুকুরের কাদা নয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিভিন্ন শীলা বিধৌত এই ক্লে সমুদ্রের পানির স্রোতের গতিপথের কারণে বঙ্গোপসাগরে এসে জমেছে।এই ক্লে দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিমেন্ট উৎপাদন হয় - যা সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে শক্তিশালী এবং দামী। আর এর মোট পরিমাণ হচ্ছে - হিমালয়ের সমান। মূল্য? ওহ মাই গড!

=>. গভীর এবং অগভীর সমুদ্রে ২২ টা পয়েন্টে প্রায় ৪০-৭০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আছে- যা উত্তোলন করার জন্য ইতিমধ্যে এমেরিকা এবং চীন দুই দেশই সরকারের কাছে একাধিকবার প্রস্তাব করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে - গ্যাস উত্তোলন কেবল গ্যাস উত্তোলন নয়, আরো আরো বিপুল বিস্ময়।
যদিও এই গ্যাস জরিপ ও উত্তোলন বেশ ব্যায় সাপেক্ষ এবং রিস্কি।

=>. বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ৭৫ টার মতো ছোটবড় দ্বীপ। মূলত এগুলোতেই অবস্থান নিতে চায় এমেরিকা এবং চীন। সেন্টমার্টিন তার মধ্যে একটা।

=>. বঙ্গোপসাগরের পানির কোয়ালিটি বিশ্বের যেকোনো সমুদ্রের পানির চেয়ে উত্তম। কারণটা সম্ভবত আমাদের হিমালয় বিধৌত মিঠাপানির মিশ্রণ। ফলে, সারা পৃথিবীর বেশিরভাগ মাছ যেন বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে। মাথা ঘুরানো তথ্য হচ্ছে - বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সীমানার মধ্য থেকে যে পরিমাণ মৎস সম্পদ আহরণ সম্ভব - আমরা তার সর্বোচ্চ ৮% ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছি( তথ্য - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট). এই ৮% দিয়ে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের মোট মাছের চাহিদার ১১-১২% পুরণ হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। তাহলে, ১০০% বাদ দিলাম - আমরা যদি মোট মৎস সম্পদের ৫০%ও আহরণ করতে সক্ষম হই - তাহলে সারাপৃথিবীর বেশিরভাগ মাছের চাহিদা আমরা মেটাতে পারবো। তা থেকে বছরে আয় করা সম্ভব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার/ইয়েন। কেবল মৎস বিক্রি করে জিডিপি ৩-৪% বৃদ্ধি করা সম্ভব।

সব মিলে কেবল বঙ্গোপসাগরের এসব সম্পদ থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

এই সকল সম্পদ আহরণ করার প্রযুক্তি আমাদের নাই। আমরা সেটা অর্জন করতে সক্ষম বা সচেষ্ট হতে পারি। কিন্তু - এমেরিকা বলয় ( এমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, ইংল্যান্ড) বা চীন বলয় ( চীন, রাশিয়া, ইরান ( সম্ভাব্য ভারত)) কে দিতে পারি না।

আমাদের যেই প্রজন্ম নিজেদের অজ্ঞতাবশত দেশের সম্পদকে বিদেশি শক্তি এবং তাদের প্রতিনিধি পুতুলের হাতে তুলে দেবে - তাদেরকে আগামীর কোনো প্রজন্মই ক্ষমা করবে না।

( প্রথম পোস্ট ১ সেপ্টেম্বর,২৪)

*গত ৩১ মে বরগুনায় নদীতে জেলেদের জালে যে 'অদ্ভুত জনযান' ধরা পড়েছিল - সেটা মূলত এই ব্ল্যাকগোল্ডের জরিপ কাজ করছিল।

তার ১ মাস আগে থেকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল মার্কিন রণতরী। সেই রণতরী থেকে ছোটছোট কয়েক ডজন জলযান নামিয়ে সমুদ্রের গভীরে গোপনে জরিপ চালানো হয়।
সেই জরিপ কাজে অংশ নেয়া একটা জলযান কোনো কারণে বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বরগুনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

এ বিষয়গুলো তারেকের প্রশাসন পূঙ্খানুপুঙ্খ জানে। কিন্তু না জানার ভান করে আছে।