মায়ের হাতের রান্না কে না মুহব্বত করে! আর সেই রান্না যদি মমতাময়ী মা করেন এবং অতুলনীয় স্বাদের হয় তাহলে তো কথাই নেই। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক হাতে রান্না করা প্রতিটি খাবার ছিল অপূর্ব স্বাদের; এমন অপূর্ব, বেমেছাল রান্না ও স্বাদ যা আমি দুনিয়ার আর কোথাও খুঁজে পাইনি। বিয়ের পূর্বে এক-দেড় বছর দরবার শরীফে ছিলাম এবং উনার হাত মুবারকে তৈরি কয়েক পদের খাবার মুবারক খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো। উনার রান্না করা খাবার সবই মজার ও সুস্বাদু ছিল, তবে তার মধ্য থেকে কদুর তরকারি আর ফিরনী ছিল আমার সবচেয়ে পছন্দের। অনেকের হাতে তৈরি কদুর তরকারি আর ফিরনী খাওয়া হয়েছে কিন্তু উনার মুবারক হাতে তৈরি রান্নার সেই স্বাদ আজও ভুলতে পারিনি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি জানতেন আমি উনার হাত মুবারকে তৈরি এ দুটি রান্না অনেক পছন্দ করি।

যাই হোক ২২ বছর পূর্বের কথা, আমার বিয়ের কয়েকদিন পর একদিন আমার ছোট বোন আশাকে নিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে আসলাম এবং উনাকে কদমবুছি করলাম। হঠাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তাবাসসুমী শান মুবারক প্রকাশ করে বললেন, "যাও, কদুর তরকারি রান্না করেছি খেয়ে নাও”। উনার কথা মুবারক শুনে আমি অনেক খুশি হলাম এবং উনার মুবারক নির্দেশে রান্নাঘরে বসে আমার সবচেয়ে প্রিয় উনার মুবারক হাতে রান্না করা কদুর তরকারি খেলাম। সে সময় আমি ভেবে আশ্চর্য হচ্ছিলাম যে, তিনি দেড়-দুই বছর পরও মনে রেখেছেন উনার মুবারক হাতে রান্না করা কদুর তরকারি আমার খুবই পছন্দের! সাধারণত একজন মা তিনি সন্তানের সমস্ত আরজু পূরণ করেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমন একজন মমতাময়ী মা যিনি উনার প্রত্যেক সন্তানের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সমস্ত আরজু পূরণ করে থাকেন। আসলেই তিনি যে আমাদের প্রত্যেক সন্তানকে কতটা মুহব্বত করেন তা সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম।

২২ কি ২৩ বছর পূর্বে, দরবার শরীফে আসার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন যে, আমি রান্না পারি কি না। আমি বলেছিলাম, 'জ্বী না'। আমি কথাটা এই ভেবে বলেছি যে, আমি তখনো মাছ-গোশত ইত্যাদি রান্না করতে পারতাম না। এর কয়েকদিন পর, এক রাতে রান্নাঘরে অনেক মিষ্টির সিরা অবশিষ্ট আছে দেখে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বললাম, 'আম্মা হুযূর আলাইহাস সালাম! অনেক মিষ্টির সিরা আছে, আমি জিলাপী বানাই'? তিনি খুশি মুবারক প্রকাশ করে বললেন, "বানাও”। সেই রাতে আমি জিলাপী বানিয়ে মিষ্টির সিরায় ভিজিয়ে রাখলাম। পরদিন সকালে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি রান্নাঘরে তাশরীফ মুবারক আনলেন এবং জিলাপী দেখে এত খুশি মুবারক প্রকাশ করলেন যে, তিনি পুরো জিলাপীর হাঁড়ি ধরে মামদুহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কাছে নিয়ে গেলেন এবং উনাকে অত্যন্ত খুশির সাথে বললেন, "দেখেন, দেখেন! ইভা না; রান্না পারে!" সেদিন তিনি কতটা বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন তা শুধু অনুভবই করতে পারি; ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। আমার মনে হয়েছিল, পৃথিবীর কোনো মা-ও এতটা খুশি প্রকাশ করতেন না যতটা তিনি খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন। তিনি সন্তানের প্রতি শুধু মায়া-মমতাই প্রকাশ করেন না বরং শাসনও করেন আবার আদরের পরশ বুলিয়ে ক্ষমাও করেন। তিনি শুধু আমাদের মা নন বরং বেমেছাল মমতাময়ী মা। তিনি এমন মা যিনি সন্তানের নতুন কোনো কিছু করায় অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন, যা সেদিন আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম।

- আহমাদ হাসিনা নূর ইভা

image