একবার আমার ঘাড়ে খুব ব্যথা হয়েছিল। ব্যথার তীব্রতার কারণে তাৎক্ষনিকভাবে নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার আমার সিম্পটম দেখে-শুনে আমাকে মেরুদন্ডের হাড় ক্ষয়ের বিষয়টা জানালো এবং ভালো কোনো স্পেশালিষ্ট দেখাতে এডভাইস করলো, সাথে একটা এক্সরে করে নিয়ে যেতে বলেলো। কিন্তু তখন আমার কাছে মনে হয়েছিলো বিষয়টা আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানাই। এখানে বলতে হয় যে, বড় কোনো স্পেশালিষ্টকে দেখানোর আগে আমি সবসময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানাই। কারণ এর আগে এরকম বহু সমস্যা উনাকে জানানোর কারণে আমি ফায়দা পেয়েছি। আমি যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে এ বিষয়টা জানাই তখন তিনি সাথে সাথে বলেন, "এটা তোমার অনেকক্ষণ কম্পিউটারে বসে কাজ করার কারণে হয়েছে। একটা ব্যায়াম আছে করলে সেরে যাবে"। আমি তখন উনার কাছে ব্যায়ামটা কিভাবে করতে হবে জানতে চাইলে তিনি আমাকে প্র্যাক্টিক্যালি দেখিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, "এই ব্যায়াম করতে দু'জন লাগবে। অসুস্থ ব্যক্তি ঘাড় সোজা রেখে বসে সামনের দিকে প্রেসার দিবে। আর অন্যজন বিপরীত দিকে প্রেসার দিবে আর মুখে ১-১০ পর্যন্ত গুনবে। একইভাবে পিছন থেকে সামনে, ডান থেকে বামে, বাম থেকে ডানে করবে। এভাবে দশবার করলে ব্যথা সেরে যাবে। ইনশাআল্লাহ!" আমি কয়েকবার করাতেই আমার সেই প্রচন্ড ঘাড় ব্যথা ভালো হয়ে গিয়েছিল। সুবহানাল্লাহ! এরপর থেকে যখনই আমার ঘাড় ব্যথা হয় আমি এই ট্রিটমেন্ট ফলো করি।

আরেকবার আমার ছেলের বদ নযর লাগার কারণে বদ হজম হয়, ফলে সে ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করতে পারতো না। আমি বিষয়টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানিয়ে দোয়া মুবারক চাইলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, পান পাতা ও সরিষার তেলসহ ছেলেকে নিয়ে আসতে। অতঃপর আমি আমার ছেলেকে সহ সেসব জিনিস নিয়ে উনার নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি পান পাতার মধ্যে সরিষার তেল মেখে তা দিয়ে পুরো পেটে মালিশ করলেন। তারপর সেই পাতাগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে বললেন। আমি তাই করলাম। দেখা গেলো, এর পরপরই আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও আমি দেখেছি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কারো হাত-পা বা শরীরের কোনো স্থান পুড়ে গেলে সে জায়গাটিতে পানি দিয়ে না ভিজিয়ে শুকনো অবস্থাতেই প্রথমে তেল লাগিয়ে তার উপর শুকনো লবণ লাগাতে বলেন। এতে করে সেই স্থানে পোড়া দাগ বা ক্ষত তৈরী হতে পারেনা, সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, কোনো স্থান কেটে গেলে সেই স্থানে রসুনের খোসা লাগিয়ে দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি দেখা গেছে, যেখানে ব্যাকট্রোসিন মলমও কাজ করছিল না সেখানে রসুনের খোসা লাগানোর সাথে সাথে গল গল করে প্রবাহিত হওয়া রক্তও বন্ধ হয়ে গেছে। এই রসুনের খোসার আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, যতক্ষণ রক্ত পড়া বন্ধ না হয় ততক্ষণ এটি কাটা স্থানে লেগে থাকে উপরন্তু এটি কাটা স্থানের ব্যথাও উপশম করে।

উনার এই বেমেছাল ইলমুত তিব্ব মুবারক আমাদের জীবনে বিভিন্ন অসুস্থতায় ও আপতিত বিপর্যয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে সমাধান করতে সাহায্য করছে।

- সাইয়্যিদাহ ফাতিমা আহমাদ পলি

image