সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকা
ঋণের টাকা ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বিদেশী ঋণ নির্ভরতা থেকে
সরকারকে তওবা করতে হবে
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
ঋণের টাকা ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বিদেশী ঋণ নির্ভরতা থেকে
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বিশাল ব্যয় মেলাতে গিয়ে সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও অন্যান্য খাত) থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস (ঋণ ও অনুদান) থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এ পটভূমিতে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের জন্য রাজস্ব আয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অভিজ্ঞমহলের কাছে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মনে হচ্ছে।
বিদ্যমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং ঋণ পাওয়ার কঠিন শর্তের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করাকে বড় বিপদের কারণ মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর (যেমন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ) ঋণ অনুমোদনের পর তা ছাড় করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি একটি বড় বাধা। বর্তমান সময়ে যেকোনো বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বেশ জটিল।
বিদেশি ঋণ কাক্সিক্ষত মাত্রায় না পেলে সরকারকে বাধ্য হয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি মেটাতে হয়। কিন্তু ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকার যদি ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অংকের ঋণ নেয়, তবে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে। এর চেয়েও বড় শঙ্কা হলো, সরকার নিজেই যদি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়ে নেয়, তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। যা দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের গতিকে স্থবির করে দিতে পারে।
প্রসঙ্গত আমরা সরকারকে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করতে চাই। ঋণনির্ভরতা বাড়লে সুদ পরিশোধের চাপও ক্রমাগত বাড়বে, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ কোটি টাকার বেশি।
গত তিন অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে ২৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা ঋণ করতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও প্রায় ১৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। বাজেটের দলিলে শুধু সুদ খরচের বরাদ্দ দেখানো হয়। বিদেশি ঋণের আসলের বড় অংশ ঋণ করে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
ডিএসএ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঋণ-রফতানি অনুপাত ১৬২ শতাংশ, যা নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে। ঋণ-রাজস্ব অনুপাত দ্রুত বাড়ছে, রফতানিতে সংশোধিত নিম্নমুখী তথ্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যম আয়, উচ্চ উন্নয়ন ব্যয় এবং দুর্বল রাজস্ব কাঠামোর একটি জটিল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। এ অবস্থায় রাজস্ব, রফতানি, রেমিট্যান্স না বাড়লে, নতুন ঋণ বাছাইয়ে সতর্কতা না এলে, সামনের দিনগুলোতে দেশের ঋণচাপ আরও বাড়বে।
এখনই যদি রাজস্ব সংস্কার, প্রকল্প বাছাইয়ের কঠোরতা, ঋণ গ্রহণের তৎপরতা বন্ধ এবং রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ঋণ-সুদ পরিশোধই আগামী বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করতে হবে।
সঙ্গত কারণেই ঋণ করে ঘি খাওয়ার এই প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।