মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে
খরচ করার ফজিলত (২৬)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক আলোচনার মজলিশ করে ,মেহমানদারী,খাদ্য খাওয়ানোর নিয়ত করার সাথে সাথে মৃত্যুদন্ড থেকে মুক্তি লাভ।

وَحُكِيَ أَنَّهُ كَانَ فِي زَمَانِ الْخَلِيفَةِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ شَابٌّ حَسَنُ الصُّورَةِ فِي الشَّامِ، وَكَانَ يَلْهُو بِرُكُوبِ الْخَيْلِ، فَبَيْنَمَا هُوَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى ظَهْرِ حِصَانِهِ إِذْ أَجْفَلَ الْحِصَانُ وَحَمَلَهُ فِي سِكَكِ الشَّامِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ قُدْرَةٌ عَلَى مَنْعِهِ، فَوَقَعَ طَرِيقُهُ عَلَى بَابِ الْخَلِيفَةِ فَصَادَفَ وَلَدَهُ وَلَمْ يَقْدِرِ الْوَلَدُ عَلَى رَدِّ الْحِصَانِ فَصَدَمَهُ بِالْفَرَسِ وَقَتَلَهُ، فَوَصَلَ الْخَبَرُ إِلَى الْخَلِيفَةِ فَأَمَرَ بِإِحْضَارِهِ، فَلَمَّا أَنْ أَشْرَفَ إِلَيْهِ خَطَرَ عَلَى بَالِهِ أَنْ قَالَ: إِنْ خَلَّصَنِيَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ هَذِهِ الْوَاقِعَةِ أَعْمَلُ وَلِيمَةً عَظِيمَةً وَأَسْتَقْرِئُ فِيهَا مَوْلِدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا حَضَرَ قُدَّامَهُ وَنَظَرَ إِلَيْهِ ضَحِكَ بَعْدَمَا كَانَ يَخْنُقُهُ الْغَضَبُ، فَقَالَ: يَا هَذَا أَتُحْسِنُ السِّحْرَ؟ قَالَ: لَا وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ. فَقَالَ: عَفَوْتُ عَنْكَ، وَلَكِنْ قُلْ لِي مَاذَا قُلْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: إِنْ خَلَّصَنِيَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ هَذِهِ الْوَاقِعَةِ الْجَسِيمَةِ أَعْمَلُ لَهُ وَلِيمَةً لِأَجْلِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ الْخَلِيفَةُ: قَدْ عَفَوْتُ عَنْكَ، وَهَذِهِ أَلْفُ دِينَارٍ لِأَجْلِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنْتَ فِي حِلٍّ مِنْ دَمِ وَلَدِي. فَخَرَجَ الشَّابُّ وَعَفَا عَنِ الْقِصَاصِ وَأَخَذَ أَلْفَ دِينَارٍ بِبَرَكَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
এরপর লেখক বলেন:
وَإِنَّمَا أَطَلْتُ الْكَلَامَ فِي ذَلِكَ لِأَجْلِ أَنْ يَعْتَنِيَ وَيَرْغَبَ جَمِيعُ الْإِخْوَانِ، فِي قِرَاءَةِ مَوْلِدِ سَيِّدِ وَلَدِ عَدْنَانَ، لِأَنَّ مَنْ لِأَجْلِهِ خُلِقَتِ الْأَرْوَاحُ وَالْأَجْسَامُ، بِحَقٍّ أَنْ يُهْدَى لَهُ الرُّوحُ وَالْمَالُ وَالطَّعَامُ. وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ لِقِرَاءَةِ مَوْلِدِ نَبِيِّهِ الْكَرِيمِ عَلَى الدَّوَامِ، وَإِنْفَاقِ الْمَالِ لِأَجْلِهِ فِي سَائِرِ الْأَوْقَاتِ وَالْأَيَّامِ، آمِينَ. 
বাংলা অর্থ
বর্ণিত আছে, খলীফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান-এর সময়ে শাম দেশে একজন সুদর্শন যুবক ছিল। সে ঘোড়ায় চড়তে খুব পছন্দ করত। একদিন সে ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করল এবং তাকে নিয়ে শামের বিভিন্ন রাস্তায় ছুটে চলল। যুবকের সেটিকে থামানোর কোনো ক্ষমতা ছিল না।
একপর্যায়ে ঘোড়াটি খলীফার দরজার দিকে চলে গেল। সেখানে খলীফার ছেলের সঙ্গে ঘোড়াটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো। খলীফার ছেলে ঘোড়াটিকে প্রতিহত করতে পারল না। ফলে ঘোড়াটি তাকে ধাক্কা দিলে সে নিহত হলো।
খবরটি খলীফা আবদুল মালিকের কাছে পৌঁছল। তিনি যুবককে তাঁর সামনে হাজির করার আদেশ দিলেন।
যখন যুবককে খলীফার সামনে হাজির করা হলো, তখন যুবকের মনে হলো:
“মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ অর্থাৎ মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি একটি বড় ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করে সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত মু’জিযা শরীফসমূহ, ঘটনা মুবারকসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করবো, বিশ্লেষণ করবো। অতঃপর যখন সেই যুবক খলীফার সামনে উপস্থিত হন, তখন খলীফা সেই যুবক উনাকে গলা টিপে হত্যা করার মত গোস্বা থাকা সত্ত্বেও উনাকে দেখে হেসে দিয়ে বললো- ‘হে যুবক! আপনি কি নিখুঁত জাদু করেন?’ জবাবে যুবক বললেন- ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি জাদু করি না।’ অতঃপর খলীফা বললো, ‘আমি আপনার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম; কিন্তু আপনি কি বলেছেন, তা আমাকে বলুন।’ যুবক ছেলেটি বললেন, আমি বলেছিলাম- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি একটি বড় ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করবো।’
তখন খলীফা বললেন:
“আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে এই এক হাজার দিনার।”
এবং তিনি বললেন:
“আমার ছেলের রক্তের ব্যাপারে তুমি সম্পূর্ণ মুক্ত।”
অতঃপর যুবক সেখান থেকে বের হয়ে গেল। তাকে কিসাস থেকে ক্ষমা করা হলো এবং সে মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বরকতে এক হাজার দিনার গ্রহণ করল। 
কিতাব: إعانة الطالبين على حل ألفاظ فتح المعين
লেখক: সাইয়্যিদ আবূ বকর ইবনু মুহাম্মদ শাত্তা আদ-দিমিয়াতী رحمه الله
খণ্ড: ৩
উপরে উল্লেখিত ‘إعانة الطالبين’ কিতাবের ঘটনাটির পরবর্তী অংশ এবং মূল লেখকের শেষ মন্তব্যের অনুবাদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
وَإِنَّمَا أَطَلْتُ الْكَلَامَ فِي ذَلِكَ لِأَجْلِ أَنْ يَعْتَنِيَ وَيَرْغَبَ جَمِيعُ الْإِخْوَانِ، فِي قِرَاءَةِ مَوْلِدِ سَيِّدِ وَلَدِ عَدْنَانَ، لِأَنَّ مَنْ لِأَجْلِهِ خُلِقَتِ الْأَرْوَاحُ وَالْأَجْسَامُ، بِحَقٍّ أَنْ يُهْدَى لَهُ الرُّوحُ وَالْمَالُ وَالطَّعَامُ. وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ لِقِرَاءَةِ مَوْلِدِ نَبِيِّهِ الْكَرِيمِ عَلَى الدَّوَامِ، وَإِنْفَاقِ الْمَالِ لِأَجْلِهِ فِي سَائِرِ الْأَوْقَاتِ وَالْأَيَّامِ، آمِينَ.
বাংলা অর্থ:
“আর আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি কেবল এই উদ্দেশ্যে, যাতে সকল দ্বীনি ভাই আদনান-বংশের সর্দার যাতে সমস্ত মুসলমানরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে মনযোগী এবং আগ্রহী হন। মাওলিদ পাঠ করার ব্যাপারে যত্নশীল ও আগ্রহী হন। কারণ যাঁর খাতিরে সমস্ত রুহ ও দেহ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাঁর দরবারে নিজের প্রাণ, ধন-সম্পদ ও খাদ্য হাদিয়া করা সর্বতোভাবে যুক্তিসঙ্গত। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদের সকলকে সর্বদা তাঁর সম্মানিত নবীর মাওলিদ পাঠ করার এবং তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময় সম্পদ ব্যয় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।” কিতাব: ইআনাতুত তালিবীন (إعانة الطالبين)
লেখক: আল্লামা সাইয়্যিদ আবূ বকর উসমান শাত্তা আদ-দিমিয়াতী (রহ.)
বিষয়বস্তু: এটি শাফেঈ ফিকহের অন্যতম সুপরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ 'ফাতহুল মুঈন'-এর একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।পৃষ্ঠা: ৪১৫ — প্রচলিত ডিজিটাল সংস্করণে।
মহাপবিত্র ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল —
আজ ৬৪ তম দিন হাদিয়া করুন: ১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+ সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com ০১৭৩৯৪৬৬৭৩০