মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে
খরচ করার ফজিলত (২৪)
বসরার পাপী ঘৃণীত যুবকের জান্নাতি হওয়ার ঘটনা
পূর্ণ আরবী ইবারত:
وَحُكِيَ أَنَّهُ كَانَ فِي زَمَانِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ
هَارُونَ الرَّشِيدِ شَابٌّ فِي الْبَصْرَةِ مُسْرِفًا
عَلَى نَفْسِهِ، وَكَانَ أَهْلُ الْبَلَدِ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ
بِعَيْنِ التَّحْقِيرِ لِأَجْلِ أَفْعَالِهِ الْخَبِيثَةِ، غَيْرُ
أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَدِمَ شَهْرُ رَبِيعِ الْأَوَّلِ غَسَلَ
ثِيَابَهُ وَتَعَطَّرَ وَتَجَمَّلَ وَعَمِلَ وَلِيمَةً
وَاسْتَقْرَأَ فِيهَا مَوْلِدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وَسَلَّمَ، وَدَامَ عَلَى هَذَا الْحَالِ زَمَانًا طَوِيلًا،
ثُمَّ لَمَّا مَاتَ سَمِعَ أَهْلُ الْبَلَدِ هَاتِفًا يَقُولُ:
احْضُرُوا يَا أَهْلَ الْبَصْرَةِ وَاشْهَدُوا
جَنَازَةَ وَلِيٍّ مِنْ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ، فَإِنَّهُ عَزِيزٌ
عِنْدِي، فَحَضَرَ أَهْلُ الْبَلَدِ جَنَازَتَهُ
وَدَفَنُوهُ، فَرَأَوْهُ فِي الْمَنَامِ وَهُوَ يَرْفِلُ
فِي حُلَلِ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ، فَقِيلَ لَهُ:
بِمَ نِلْتَ هَذِهِ الْفَضِيلَةَ؟ قَالَ: بِتَعْظِيمِ
مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
বাংলা অর্থ:
বর্ণিত আছে, আমীরুল মু’মিনীন হারূনুর রশীদের যুগে বসরায় একজন যুবক ছিল। সে নিজের ওপর জুলুম করত এবং নানা খারাপ কাজে লিপ্ত ছিল। তার এসব খারাপ কাজের কারণে শহরের লোকেরা তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখত।
কিন্তু যখনই রবী‘উল আউয়াল মাস আসত, তখন সে নিজের কাপড় পরিষ্কার করত, সুগন্ধি ব্যবহার করত, নিজেকে সুন্দরভাবে সাজাত এবং একটি ওলীমার আয়োজন করত। সেই অনুষ্ঠানে সে মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করাত। সে দীর্ঘকাল এভাবেই চলতে থাকে।
অবশেষে যখন তার মৃত্যু হলো, তখন শহরের লোকেরা একজন অদৃশ্য ঘোষকের আওয়াজ শুনতে পেল:
“হে বসরার অধিবাসীগণ! তোমরা উপস্থিত হও এবং আল্লাহর একজন ওলী-এর জানাযায় শরীক হও। কারণ সে আমার কাছে সম্মানিত।”
তখন শহরের লোকেরা তার জানাযায় উপস্থিত হলো এবং তাকে দাফন করল।
এরপর লোকেরা তাকে স্বপ্নে দেখল, সে জান্নাতের সুন্দর রেশমি পোশাক—সুন্দুস ও ইস্তাবরাক পরিধান করে আনন্দের সঙ্গে চলাফেরা করছে।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: “তুমি কী কারণে এই মর্যাদা লাভ করেছ?”
সে উত্তর দিল:
بِتَعْظِيمِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মান করার কারণে।”
ঘটনার মূল শিক্ষা
★ মানুষের জীবনে পরিবর্তনের কারণ হতে পারে একটি নেক আমল, একটি ভালোবাসার কাজ।
★ মাওলিদুন্নবীর সম্মান মানুষের ঈমানের প্রতিফলন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বড় কারণ।
★ আল্লাহর কাছে বান্দার একটি ভালো কাজও অনেক বড় ফযীলত ও মর্যাদা লাভের কারণ হতে পারে।
★ মানুষের দোষ-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একটি মহৎ আমল তাকে জান্নাতের যোগ্য করে দিতে পারে।
বিশেষ ফজিলত
যে ব্যক্তি নবী করীম ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্ম মাসে খুশি প্রকাশ করে, ওলীমা করে, মাওলিদ পাঠ করে এবং এরূপ আয়োজন করে, আল্লাহ তায়ালা ঐ ব্যক্তির জন্য বিশেষ মর্যাদা দান করেন। এমনকি তার পূর্বের পাপ-গোনাহ ক্ষমা করে তাকে সম্মান ও মর্যাদাবান বানিয়ে দেন এবং জান্নাতে উত্তম পোশাক ও সম্মানিত অবস্থান প্রদান করেন।
কিতাব: إعانة الطالبين على حل ألفاظ فتح المعين
লেখক: সাইয়্যিদ আবূ বকর ইবনু মুহাম্মদ শাত্তা আদ-দিমিয়াতী رحمه الله
খণ্ড: ৩
পৃষ্ঠা: ৪১৫ — প্রচলিত ডিজিটাল সংসকরণে
মহাপবিত্র ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল —
আজ ৬০তম দিন
হাদিয়া করুন: ১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+
সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com
০১৭৩৯৪৬৬৭৩০
বিকাশ এজেন্ট