বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত
ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সাক্ষাত:
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমার জন্য আপনি দোয়া করুন। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমি প্রত্যেক নামাযে তাশাহ্হুদে এই দোয়াই করে থাকি, আয় বারে ইলাহী! মু’মিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন! হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! যদি কেউ ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারেন, তখন দোয়া উনাকে তালাশ করবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমাকে আরো নছীহত করুন। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, নিশ্চয়ই চিনেছি। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যদি উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে না চিনেন, তবে সেটাই উত্তম। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আপনাকে জানেন? তিনি বললেন, হাঁ, জানেন। হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যদি তিনি ব্যতীত অন্য কেউ আপনাকে না জানেন, তাতেও আপনার কোন ক্ষতি নেই।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, আমি আপনার জন্য কিছু নিয়ে আসি। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের হাত পকেটে প্রবেশ করিয়ে দু’টি পয়সা বের করে বললেন, ইহা আমি উট চরিয়ে উপার্জন করেছি। যদি আপনি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারেন যে, এটা খরচ না করা পর্যন্ত আমি জীবিত থাকব, তাহলে আমি আরো গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, অনেক কষ্ট পেয়েছেন। এখন ফিরে যেতে পারেন। ক্বিয়ামত খুব নিকটে, সেখানেই আপনার সাথে আবার দেখা হবে। আমি এখন ক্বিয়ামতের পাথেয় সংগ্রহে ব্যস্ত - এই বলে হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে বিদায় দেন। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি এক সময় ইয়ামেন থেকে কূফায় আসেন। এখানে তিনি নিজের অবস্থা গোপন রাখতে চেষ্টা করতেন। অপরিচিত ভীনদেশী লোক হওয়ায় এবং উনার দরিদ্রতা ও অসহায়তার কারণে লোকেরা উনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাবে আচরণ করত। পাগল মনে করে ছেলেরা উনাকে কষ্ট দিত। কিন্তু এসব তিনি নীরবে সহ্য করতেন। কোন অবস্থাতেই নিজেকে প্রকাশ করতেন না।
একবার এইরূপ ঠাট্টা-বিদ্রুপকারী একটি লোক সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুখে হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ এবং মর্যাদা মর্তবার কথা শুনে কূফায় এসে লোকদের নিকট বর্ণনা করার পর উনার ব্যাপারে তাদের ধারণা পরিস্কার হয়। অতঃপর যখন উনার খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তিনি সাধারণ লোক থেকে আত্ম-গোপন করেন। কতিপয় ব্যক্তি যাঁরা উনার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন এবং উনাকে মুহব্বত করতেন, উনাদের সাথে উনার সাক্ষাত হয়। উনাদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তির সাক্ষাতকার বর্ণনা করা হলো।
হযরত হারাম বিন হায়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত:
অতঃপর হযরত হারাম বিন হায়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত পেয়েছিলেন। (কোন কোন কিতাবে উনার নাম হযরত হারাম বিন জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখা হয়েছে তা ঠিক নয়। আরবীতে হারাম বিন হায়্যান এইভাবে লিখা হয়:
هرم بن حيان হযরত হারাম বিন হায়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন প্রথম তব্কার তাবেঈ, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারকপ্রাপ্ত মুহাদ্দিছ এবং উচ্চ স্তরের ‘আবিদ, যিনি বছরার অধিবাসী ছিলেন। (তাবাকাত)
তিনি বলেন, যখন আমি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা শুনলাম, তখন উনাকে দেখার আকাঙ্খা আমার প্রবল হলো। আমি কূফায় এসে উনার অনুসন্ধান করতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন উনাকে ফোরাত নদীতে ওযূ করতে ও কাপড় ধৌত করতে দেখলাম। পূর্বে উনার যেসব লক্ষণের কথা শুনেছিলাম, সে অনুসারে উনাকে চিনে সালাম দিলাম। তিনি সালামের জাওয়াব দিয়ে আমার দিকে চাইলেন। আমি উনার সাথে মোছাফাহা করতে চাইলে তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন না। আমি বললাম, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি! মহান আল্লাহ পাক আপনার প্রতি রহম করুন ও আপনাকে ক্ষমা করুন। (চলবে)