উনি তো তোমরা এখানে দাঁড়াইয়া রইছো। উনি তো চলে গেছেন। খোঁজ নাও। যখন তারা আসল, দেখল সত্যিই তো নেই। ওখানে বিছানায় ছিলেন ইমামুল আউয়াল আলাইহিস সালাম, একটা চাদর মুড়ি দিয়ে। তারা চেষ্টা করল ওনার চাদর খোলার। যখন তারা খুলতে পারেনি, অনেকক্ষণ পরে তিনি খুলেছেন।

তখন উনাকে দেখতে পেল --- তারা বুঝতে পারল। এখন কিন্তু ইবলীসও এটা বুঝতে পারেনি এবং জানতে পারেনি উনি কোথায় কার সঙ্গে নিয়েছেন। এরপর তো পর্যায়ক্রমে সেখান থেকে সেই মদীনা শরীফ তার সঙ্গে নিয়েছেন।

এখন এখানে একটা বিষয়, সেটা হলো হযরত ইমামুল আউয়াল আলাইহিস সালাম তিনি যেখানে অবস্থানও করেছেন কাফেরেরা কিন্তু এসে ইচ্ছা করলে সরাসরি সেখানে তলোয়ার দ্বারা আঘাত করতে পারত। কিন্তু এই জিনিসটা হযরত ইমামুল আউয়াল আলাইহিস সালাম কিন্তু কোনো পরোয়া করেননি। আবার আরেকটা বিষয় এখানে রয়ে গেছে, যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) তিনি উনাকে বলেছেন, বলেছিলেন যে আপনি আমার কাছে যে আমানতগুলি রয়েছে, এগুলি আপনি তিন দিনের মধ্যে দিয়ে, এরপর আপনিও হিজরত মোবারক করবেন।

তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এখানে কোনো সমস্যা হবে না। সত্যি তিনি তিন দিনের মধ্যে সমস্ত কিছু দিয়ে আমানতগুলি ফেরত দিয়ে উনিও হিজরত মোবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

আবার এদিকে...

আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম। উনার বিষয়টা, উনি কিন্তু আগেই হিজরত মোবারক করতে চেয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) তিনি উনাকে ইশারা মোবারক করেছিলেন যে আপনি আমার সাথে হিজরত মোবারক করবেন।

এটা বলা পরে কিন্তু তিনি বাড়িতে যেয়ে দুইটা বাহন খরিদ করে, সমস্ত ব্যবস্থা করে তিনি প্রস্তুত ছিলেন। একটিানা ছয় মাস। এই... পরে উনি ছয় মাস পরে হিজরত মোবারক করা হয়।

আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকে আকবর কিন্তু বাড়িতে যেয়ে এই ছয় মাস কিন্তু উনি ঘুমাননি। সমস্ত প্রস্তুত করে রেখে উনার দরজার মধ্যে উনি... পাশে হেলান দিয়ে উনি অবস্থান, দাঁড়িয়ে থাকতেন।

ঠিক যেদিন হিজরত মোবারক সময় হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) যখন কড়া নাড়লেন, উনি লাব্বাাইক ইয়া রাসূলাল্লাহ হাবীবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللّٰهِ حَبِيبَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) বলে সমস্ত কিছু নিয়ে বের হয়ে আসলেন। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) তিনি তো জানেন, তাহলে জিজ্ঞাসা --- “তাড়াতাড়ি আপনি কি করে বের হয়ে আসলেন?” তো উনি বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ হাবীবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (يَا رَسُولَ اللّٰهِ حَبِيبَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)! আপনি আমার এখানে এসে আমাকে ডাকবেন। আবু কুহাফার ছেলের এত কি যোগ্যতা হয়ে গেছে? সে ঘুমিয়ে থাকবে আপনি ডেকে তুলবেন? নাউযুবিল্লাহ (نَعُوذُ بِاللّٰهِ)।” নাউযুবিল্লাহ (نَعُوذُ بِاللّٰهِ)।

“যার জন্য আপনি যেদিন থেকে বলেছেন, ঠিক সেই রাত্রি থেকে আমি প্রস্তুত হয়ে এখানে আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম, আপনি আসলে যেন আমি সাথে বের হয়ে আসতে পারি।” সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

এখানে ওনাদের যে মহব্বতটা এবং খিদমতটা সেটাই কিন্তু এখানে ফুটে উঠেছে। ওনাদের মহব্বত এবং খিদমত। উনার কিন্তু জান, মাল কোনোটার পরোয়া করেননি। সমস্ত কিছু দিয়েই ওনারা আঞ্জাম দিয়েছেন।

একদিকে হযরত ইমামুল আউয়াল আলাইহিস সালাম উনিও কোনো জানের পরোয়া করেননি। ঠিক আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকে আকবর উনি একটানা ছয় মাস দিনের বেলা সোহবত ইখতিয়ার করতেন এবং রাত্রে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এবং সমস্ত কিছু নিয়ে প্রস্তুত থাকতেন। যে ওনাদের খিদমত উনারা আঞ্জাম দেওয়াটা কিন্তু উম্মতের অনেক ইবরত এবং নসিহত।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার শান মোবারক কি করেছেন? আল্লাহ পাক তো বললেন, “তুওয়াজ্জিরূহু ওয়া তুওয়াক্কিরূহু ওয়া তুসাব্বিহূহু বুক্‌রাতাও ওয়া সাকিলা (لِتُؤْمِنُوا بِاللّٰهِ وَرَسُولِهِ وَتُوَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا)।” তোমর হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার খিদমত আঞ্জাম দাও। উনার ত’যীম তাকরীম মোবারক উনার সানা সিফত উনার করো অনন্তকাল ধরে।

উনারা কিন্তু সেটাই করেছেন। এই হিজরত মোবারক থেকে উম্মতের নসিহত হাসিল করতে হবে। এরপরে সাওর গুহায় যা হয়েছে তো সেটা হয়েছে। সেখানেও তিনি খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।

প্রথম সেখানে যেয়ে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ হাবীবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (يَا رَسُولَ اللّٰهِ حَبِيبَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)! আপনি দয়া করে গুহার পাশে অবস্থান মোবারক করুন, আমি ভিতরে সব পরিষ্কার করে আসি।” উনি পরিষ্কার করে আসলেন। অনেকগুলি ছিদ্র ছিল, উনি সবগুলি বন্ধ করলেন। মুখতালিফ বর্ণনায় একটা বা দুইটা বাকি ছিল। উনার সমস্ত কাপড়, চাদর, পাগড়ি সব টুকরা টুকরা করে ছিদ্র বন্ধ করলেন।

কিন্তু মুভতালিফ বর্ণনায় একটা বা দুইটা বাকি ছিল। সেখানে প্রবেশ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার তো বিশ্রামের কোনো প্রয়োজন নেই, তারপরও উনি বিশ্রামের জন্য উনার জানুতে উনার নূরুল হুদা মাথা মোবারক উনি শুয়েছিলেন। আর আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকে আকবর উনি যে গর্তটা ছিল সেখানে উনার পা দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিলেন।

আসলে এখানে একটা সাপ ছিল। এই সাপটা হযরত ঈসা রুহুল্লাহ উনার কাছ থেকে শুনেছিল যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) তিনি হিজরত মোবারক করার সময় এই গুহাতে তাশরিফ নিবেন। তো সে সাপটা জিয়ারতের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। সে জন্য অনেকগুলি ছিদ্র করে রাখা রেখেছিল। একটা না একটা বের হয়ে এসে জিয়ারত করবে।

কিন্তু আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকে আকবর সব বন্ধ করে দিয়েছেন। সে যত জায়গায় গেছে সব জায়গায় বন্ধ। এক জায়গায় এসে দেখে যে মানুষের ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে, অর্থাৎ উনার পা মোবারক ছিল।

সাপটা ইচ্ছাকৃতভাবে উনাকে কামড় দিয়েছে যে উনার পাটা সরায় ফেললে উনি সরায় ফেললে সে সাপ উনার জিয়ারত লাভ করবে। কিন্তু সে কামড় দিয়েছিল ঠিক কিন্তু আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকের কিন্তু পা মোবারক সরান নাই। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

এখন সাপের বিষের কারণে উনার অজান্তেই চক্ষু থেকে... বা অশ্রু গড়িয়ে অজান্তেই দুই এক ফোঁটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার নূরুর রহমত চেহারামোবারক পড়েছে। পড়ার সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার কি হয়েছে?

তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ হাবীবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (يَا رَسُولَ اللّٰهِ حَبِيبَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)! মনে হচ্ছে কোনো সাপ আমাকে কামড় দিয়েছে।” বললেন, “ঠিক আছে। পাটা সরিয়ে ফেলেন।” এবং সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর উনার নূরুল বারাকাত অর্থাৎ থুতু মোবারক লাগিয়ে দিলেন। উনার বিষটা দূর হয়ে গেল। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

সেই গর্ত থেকে কিন্তু সাপটা বের হয়ে আসলো। এসে সালাম দিল।

সে সালাম দিল। সালাম দিয়ে বলল, “ইয়া রাসূলাল্লাহী হাবীবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (يَا رَسُولَ اللّٰهِ حَبِيبَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)! আমার বেয়াদবি ক্ষমা করবেন। আমার কিন্তু উনাকে কামড় দেওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। আমি যে উনাকে কামড় দিব সেটা আমার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু... আমি আপনার দিদার মোবারক করার জন্য এখানে পাঁচ শত বছর ধরে অপেক্ষমাণ। পাঁচ শত বৎসর ধরে।

সেই জন্য যখন আপনি উনার সঙ্গে ---, আমি জিয়ারত বেকারার হয়ে গেলাম। যে অনেকগুলি গর্ত করে রাখা হয়েছিল, কিন্তু কোনো গর্ত দিয়ে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছিল না, বন্ধ করা। এক জায়গায় এসে যখন ঘ্রাণ পেলাম মানুষের, তখন উনাকে আমি অস্থির হয়ে উনাকে কামড় দিয়েছি যাতে উনি উনার পাটা সরায় নেন।

এটা বলে সাপটা সালাম দিয়ে ইস্তেগফার তওবা করে সাপটা চলে গেল। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

এখন এই যে বিষয়টা সাপেরই বা মহব্বত কতটুকু? একটা সাপ হওয়ার পরে তার মহব্বত কতটুকু? আর আফযালুন্নাস বা’দাল আম্বিয়া (أَفْضَلُ النَّاسِ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ) সিদ্দীকে আকবর উনি কামড় খাওয়ার পরেও, উনাকে কামড় দেওয়ার পরেও, কঠিন ব্যথা, মনে হচ্ছে উনার সমস্ত শরীর নীল হয়ে যাচ্ছে, উনি ইন্তেকাল করবেন। এরপরও কিন্তু তিনি পাটা সরান নাই।

তো ওনাদের যে মহব্বত, নিজবত, খিদমতটা যে কি খিদমতটা কিভাবে করেছেন আর কতটুকু করেছেন, এটা ফিকিরের বিষয়, এখান থেকে উম্মতের নসিহত হাসিল করতে হবে।

কারণ হিজরত মোবারক তো একটা স্বাভাবিক বিষয়। এর সাথে সংশ্লিষ্ট যে ওয়াকেয়াগুলি প্রত্যেকটার মধ্যে ইবরত এবং নসিহত রয়ে গেছে।

এখন এই ইবরত নসিহত থেকে এ থেকে মানুষকে নসিহত হাসিল করতে হবে। এই অকেয়া থেকে নসিহত হাসিল করতে হবে।

যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনাকে কতটুকু মহব্বত করতে হবে? এবং কীভাবে করতে হবে?

যেটা বলা হচ্ছে সময় দিয়ে করতে হবে, মাল দিয়ে করতে হবে, জান দিয়ে করতে হবে, সেটাই উনারা করেছেন। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। যার জন্য উনারা ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া রোদূ আনহুম (رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ)’।

উনারা যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমতওয়ালা পাক উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং উনারা এই সন্তুষ্টি মোবারক যথাসাধ্য অর্জন করতে পেরেছেন। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

তো উম্মতেরও দায়িত্ব হচ্ছে ঠিক সেভাবে আঞ্জাম দেওয়া। এখন তো সরাসরি আঞ্জাম দিতে পারবে না। এখন সানা সিফত করতে পারবে, ত’যীম তাকরীমের বিষয়টা বলতে পারবে, খিদমত করবে কিভাবে?
"مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِيْ كَانَ شَفِيْعًا لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ أَنْفَقَ دِرْهَمًا فِيْ مَوْلِدِيْ فَكَأَنَّمَا أَنْفَقَ جَبَلًا مِنْ ذَهَبٍ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ... وَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ سَبَبًا لِقِرَاءَتِهِ لَا يَخْرُجُ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا بِالْإِيْمَانِ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ."
যেটাকে হাদিস শরীফে বলা হচ্ছে, “মান নায্যমাওলাদি ওয়া লাইলাতিল নিসফি মিন শাহরি বিলাওয়াল শরীফ, ফাতহাকাযি ফিওমান কুত্বুলো শাফিউমাল কিয়ামাহ।”

যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) তিনি এরশাদ করলেন যে আমার এই নূরতাসরীফ মোবারকের তারিখ মোবারকে যারা সম্মান করবে, কিভাবে?

সম্মান করবে অলিমা করে, মেহমানদারি করে, মানুষকে ডেকে মেহমানদারি করে, অলিমা করে আমার সানা সিফত মোবারক করে মানুষকে মেহমানদারি করবে, খাদ্য খাওয়াবে। খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যম দিয়ে আমার এই ত’যীম তাকরীম সম্মানটা সে করবে। তাহলে আমি তার জন্য সর্বকালের জন্য আমি সুপারিশকারী হব। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)। সুবহানাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (سُبْحَانَ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)।

সেই অলিমাটা আমরা জানি, অনন্তকাল ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াম মাহফিল’ জারি করেছি, সেই অলিমা, প্রতিদিন আমরা অলিমা করি। এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর সাঈদিল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্নাবিয়্যীন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার বুলন্দি শান মোবারক আমরা আলোচনা করি।

এটাই করতে এখন আর কোনো ব্যবস্থা নেই। এটাই করতে হবে এবং এটা জারি করতে হবে। এখন তো সবাই জারি করতে পারবে না, তবে এখানে যাদের পক্ষে সম্ভব উপস্থিত হওয়া প্রতিদিন। আর যদি সম্ভব না হয়, দূরে থাকে তাহলে তার দায়িত্ব হবে আমাদের সিরাতুলের মুস্তাকীমের সংযোগ নিয়ে শোনা।

এটা মনে রাখতে হবে।

এখন আমাদের তো অনন্তকাল জারি করেছি, বেশি জানতে যা মোবারক করা হচ্ছে, এখন তোমরা শুনতেছো, শুধু শুনলেই চলবে না। শোনার সাথে আমল করতে হবে।

তো আমল করতে হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর সাঈদিল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্নাবিয়্যীন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার জন্য সময় দিতে হবে। উনার জন্য মাল দিতে হবে। এখন তো জান দেওয়ার সুযোগ নেই আপাতত, যুদ্ধ জিহাদ যদি লাগে, তাহলে সে দান দিতে হবে।

আর আরেকটু হচ্ছে উনার এই বিষয়টা হাকিকত হতে হলে যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার যে সুন্নত মোবারক সেগুলি পালন করতে হবে। এটা আমরা প্রতিদিন বলি, আমরা এখানে আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত প্রচার করেছি।

সুন্নত পালন করতে হবে এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট ইলিমগুলি অর্জন করতে হবে। সে ইলিম অর্জনের জন্য আমরা কিতাবাদী প্রকাশ করে যাচ্ছি। একটা সাথে আরেকটা সংশ্লিষ্ট এবং সম্পৃক্ত মনে রাখবা।

কাজেই এখন আলোচনা শুনতে হবে, ফিকির করতে হবে এবং সেটা আমলে আনতে হবে। তখন হাকিকতে পৌঁছানো, এছাড়া কখনো হাকিকতে পৌঁছানো রস আমরাও করে মুখে মুখে বলে মহব্বত প্রকাশ করলে মহব্বত হবে না, হাকিকতে করতে হবে।

সর্বাবস্থায়, সর্ববিষয়ে, সর্বসময়ের জন্য।

যেরকম অনন্তকাল সাঈদ ও সাঈদিল আসমান পালন করতে হবে। এই যে হযরত উবাই বিন কাব রেদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ) উনি সালাত পেশ করবেন। কতক্ষণ?
ছয় ঘণ্টা, বারো ঘণ্টা, ষোল ঘণ্টা, চব্বিশ ঘণ্টা।

এরপরেও এটা যথেষ্ট না। অর্থাৎ আরো বেশি করা প্রয়োজন, সাধ্য যতটুকু আছে।

এর অর্থ হলো সার্বিকভাবে, দায়েমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) উনার মহব্বত মোবারকে গরক থাকতে হবে।

তো এখন গরক থাকবে কিভাবে? সে তো একা একা থাকতে পারবে না, এইজন্য এলমে তাসুফের যে সিলসিলা রয়েছে সাজারা শরীফ, পর্যায়ক্রমে আউলিয়া কেরামের কাছ থেকে বায়াত গ্রহণ করে সবক নিয়ে জিকির ফিকির করবে এবং সোবত ইখতিয়ার করার মাধ্যমে সেটা হাসিল করতে হবে।

কোনো বান্দা সরাসরি কোনোদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) নিজের হাসিল করতে পারবে না। হযরত সাহাবায়ে কেরাম রেদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম (رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمْ) উনারা সরাসরি পেয়েছেন, অন্য কেউ তো পায়নি।

পরবর্তী সকলকেই মধ্যস্থতা দিয়ে যেতে হবে। কোনো কামেল শায়খকে বায়াত গ্রহণ করতে হবে, বায়াত করে সবক নিয়ে জিকির ফিকির করবে, সোবত ইখতিয়ার করবে এবং আদেশ নিজে পালন করবে।

তখন তার পক্ষে সেটা সম্ভব হবে, অন্যথা কোনোদিন সম্ভব হবে না। এটা মনে রাখতে হবে।

এই যে তোমাদের যা বলা হয়, বাদশাহ বাদশাহ দরূদ শরীফ একশ এক পাচান পাচ করা এবং এরপরে পরবর্তী সবকগুলি করা, আমগুলি সব সুন্নত মতো করা, এবং ইলিমগুলি আমাদের কিতাবাদীগুলি সংগ্রহ করে পড়া, এটা মনে রাখবা।

আর এই মাস তো শুরু হয়েছে, মাসের যে ফজিলত সেটা আমরা জুমার সময় আলোচনা করেছি।

এটা প্রত্যেকের জন্যই এই মাসকে সম্মান করা ফরজ আইন মনে রাখবা, তা’যীম করা ফরজ আইন।

হ হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম (عَلَيْهِ السَّلَامُ) উনি তুর পাহাড়ে গেলেন, সেখানে উনার নালান শরীফ খুলে দিতে হলো সেখানে আরশ সমপরিমাণ নূর বর্ষিত হয়েছে সামান্য কিছু।

যদি এত ফজিলত হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর...