৩,
৩
তার শানে মিলাদ এবং বেসাল শরীফ গ্রহণ করেছেন। এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন, প্রতিদিনেই উনার প্রতি আল্লাহ পাকের তরফ থেকে সালাম, রহমত, বরকত সাকিম ইত্যাদি।
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এটা কিন্তু মিলাদুন্নবী (সা.) এর তারিখে যেমন হয়েছে, বেসাল শরীফেও হয়েছে। এটার কোন পার্থক্য নাই। আবার ঠিক একইভাবে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শানে কোরআন শরীফে আল্লাহ বলেছেন:
> وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
(আসসালামু আলাইইয়া ইয়াওমা উলিতু ওয়া ইয়াওমা আমুতু ওয়া ইয়াওমা হাইয়ান)
এটা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলতেছেন:
> وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
(আসসালামু আলাইইয়া ইয়াওমা উলিতু ওয়া ইয়াওমা আমুতু ওয়া ইয়াওমা হাইয়ান)
উনার প্রতি সালাম, রহমত ও সাকিনা।
> يَوْمَ وُلِدْتُ
(ইয়াওমা উলিতু)
যেদিন আমি মিলাদ শরীফ গ্রহণ করেছি,
> وَيَوْمَ أَمُوتُ
(ইয়াওমা আমুতু)
যেদিন আমি দিদার মরবো আমি যাব এবং যেদিন আমি পুনরুত্থিত হব, প্রতিদিন ই আমার প্রতি সালাম, শান্তি, রহমত, বরকত—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অর্থাৎ নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম বা যারা হযরত আহলে বায়াত শরীফ আলাইহিমুস সালাম অথবা সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বা আওলিয়ায়ে কেরাম উনাদের মিলাদ শরীফ ও বেসাল শরীফ দুই দিনই রহমত বর্ষিত হয়ে থাকে—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সেজন্য এটা পালন করাতে কোনো ত্রুটি নাই। এটা বরং রহমত, বরকত, সাকিনা হাসিলের একটা কারণ—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আর সেগুলো হচ্ছে আইয়ামুল্লাহ শরীফ অন্তর্ভুক্ত। আইয়ামুল্লাহ অর্থ হচ্ছে আল্লাহ পাকের দিন। আল্লাহ পাক তো সারা বছরই আল্লাহ পাকের দিন। অর্থাৎ বিশেষ দিন, যে বিশেষভাবে রহমত বর্ষিত সেই দিন—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এটা একটা। এরপর বলা হচ্ছে যে, পালন না করলে একটা তো বলেছি শুকুর যদি না করলে সে জাহান্নামে যাবে ঠিকই আছে। আবার আরেকটা বিষয় রয়ে গেছে। সেটা হলো হযরত রূহুল্লাহ হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে বলা হয়, উনার উম্মতরা একবার বললো যে হে আমাদের রাসূল আলাইহিস সালাম আপনি দয়া করে আমাদের জন্য একটা মোজেজা শরীফ দেখান, একটা মোজেজা শরীফ। উনি তো হাজার হাজার মোজেজা দেখাইছেন। তারপরেও উনি বললেন যে দেখো এটা তো চরম বেয়াদবি। কোন উম্মতের পক্ষ থেকে নবী-রাসূল আলাইহিস সালামের কাছে মোজেজা দেখতে চাওয়াটা বেয়াদবি। কিন্তু সে উম্মত নাফরমান বান্দা, কিন্তু চরম বেয়াদব আসরের মধ্যে যে আমাদের দেখাইতেই হবে। ঠিক আছে, তোমরা কি দেখতে চাও?
তখন তারা বললো তাহলে আপনি আকাশ থেকে একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল করান। আল্লাহ পাককে বলে আকাশ থেকে একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল করান তাইলে আমাদের ইকিনটা বৃদ্ধি হবে।
এখন—
> أَنْزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
(আনজিল আলাইনা মায়েদাতাম মিনাস সামা তাকুনু লানা ইদাল লি আওলিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা ওয়ারযুকনা ওয়া আন্তা খইরুর রযিকিন)
আল্লাহ পাক কোরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ পাক স্মরণ করেন:
> وَقَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ
(ওয়া কালা ঈসা ইবনু মারিয়াম)
উনি বলছেন কি?
> اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنْزِلْ عَلَيْنَا
(আল্লাহুম্মা রব্বানা আনজিল আলাইনা)
হে আল্লাহ পাক! আমাদের রব তারা আমাদের জন্য নাযিল করুন—
> مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ
(মায়েদাতাম মিনাস সামা)
খাদ্যসহ একটা খানচা আসমান থেকে নাযিল করেন। তাইলে কি হবে?
> تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ
(তাকুনু লানা ইদাল লি আওলিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা)
তাহলে সেই দিনটা আমাদের জন্য ঈদের দিন হবে আল্লাহ পাক। আমার এবং পরবর্তী যারা আসবে, পূর্ববর্তী পরবর্তী সকলের জন্য সেটা ঈদের দিন হবে। আপনি দয়া করে একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল করুন।
> لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ
(লি আওলিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা)
আপনার তরফ থেকে একটা নিদর্শন মোবারক হবে।
> وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
(ওয়া আন্তা খইরুর রযিকিন)
আপনি উত্তম রিযিকদাতা।
উনি দোয়া করলেন, তা একজন জলিলুল কদর রাসূলের দোয়া করলে তো অবশ্যই সেটা হবে, নাযিল হবে, কবুল হবে। তখন যিনি খালিক যিনি মালিক, তিনি বলেন সেটা উল্লেখ করছেন।
> قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ
(কালাল্লাহু ইন্নি মুনযিলু আলাইকুম)
এখানে যিনি খালিক যিনি মালিক বললেন, ঠিক আছে। আপনার উম্মতরা তো দেখতে চেয়েছে, আপনি দোয়া করেছেন, ঠিক আছে।
> قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ
(কালাল্লাহু ইন্নি মুনযিলু আলাইকুম)
অবশ্যই আমি নাযিল করব তবে—
> فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ
(ফামান ইয়াকফুর বা’দু মিনকুম ফাইন্নী উআযিবু আযাবান লা উআযিবু আহদাম মিনাল আলামিন)
আল্লাহ পাক বললেন, হে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম আমি নাযিল করব, তবে এটা আপনাদের এই যে বলে দেন উম্মতদের সেটা কি?
আল্লাহ পাক বলে দিচ্ছেন যে আমি নাযিল করতেছি। তো নাযিল হওয়ার পরে যদি উম্মতরা চুপি রাখে, হেওকাল করে, এই দিন কি ঈদ পালন না করে, তাহলে কি হবে?
সেটা বলে দিচ্ছেন—
> فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ
(ফামান ইয়াকফুর বা’দু মিনকুম ফাইন্নী উআযিবুহু আযাবান লা উআযিবু আহদাম মিনাল আলামিন)
যদি তারা চুপি রাখে, হেওকাল করে, এই দিনটা, ঈদের দিন হিসেবে পালন না করে, তাহলে এমন শাস্তি আমি তাদেরকে দিব, সৃষ্টির কাউকে এমন শাস্তি দেইনি, নাউজুবিল্লাহ!
আল্লাহ পাক নিজেই কোন সে উল্লেখ করলেন। আল্লাহ পাক নিজেই উল্লেখ করলেন যে, এমন শাস্তি আমি তাদেরকে দিব যারা ঈদের দিন হিসেবে পালন করবে না।
এখানে ফিকিরের বিষয়। একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল হবে, সেটাই ঈদের দিন পালন করতে হবে, না করলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
তো এখন এটা তো আল্লাহ পাক ঠিকই না কিন্তু পরবর্তী দেখা গেছে হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহুদের জীবনে অথবা আওলিয়ায়ে কেরাম, অনেকের কাছে খাদ্যসহ খানচা নাযিল হইছে—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এখন খাদ্যসহ খানচা নাযিল হলো, সেজন্য ঈদের দিন করতে হবে না করলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তাহলে যে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তা সমানলেন। উনার যে আইয়ামুল উসু আখেরি চার সম্মান, সেটা পালন না করলে কী হবে?
এদের তো ফিকির করতে হবে, সে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। এটা ফিকিরের বিষয়। এক নাম্বার গেল।
এরপরে বলা হচ্ছে, হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিষয়। হাদিস শরীফ হয়ে গেছে। আন হযরত ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু।
> أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ
(আন্না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদিমা মাদিনাতা ফাজাল ইয়াহুদা সিয়ামা ইয়াওমা আশুরা ফাকালা লাহুম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা হাজাল ইয়ুমা লাযি তাসুমুনাহু কালু হাজা ইয়াওমুন আজিম আনযাল্লাহু ফিহি মুসা আলাইহিস সালাম কওমাহু ওয়া গাররা ফিরাউনা কওমাহু ফাসামাজাল মুসা আলাইহিস সালাম শুকরান ফানহানুসুমুহু)
হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মদিনা শরীফ তাশরিফ নিলেন। তখন সেখানে যেয়ে দেখতে পেলেন, ইহুদিরা আশুরা শরীফে রোজা রাখে। এখন এটা কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানেন সবটাই। এখন উম্মতকে নসিহত করার জন্য তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন—
> فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ
(ফাকালা লাহুম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা হাজাল ইয়ুমা লাযি তাসুমুনাহু)
এই দিন তোমরা কেন রোজা রাখো, ইহুদি কওম?
তোমরা এই দিন কেন রোজা রাখো?
> فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ
(ফাকালা হাজা ইয়াওমুন আজিম)
ইহুদিরা বলতেছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ, ইয়া হাবিবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা একটা মহান দিন। মহান দিন। কেন?
এটা মহান দিন হিসেবে কী করি?
> أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ
(আনযাল্লাহু ফিহি মুসা আলাইহিস সালাম কওমাহু ওয়া গাররা ফিরাউনা কওমাহু)
যে আল্লাহ পাক হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে উনাকে, উনার কওমসহ, মুকতাদি মানুষ ৬ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ কওমসহ সবাইকে এই দিনে লোহিত সাগর পার করে নিয়েছেন। এবং একই দিনে ফেরাউনকে তার বাদশাহ ১২ লক্ষ থেকে ২৪ লক্ষ ফেরাউনের যারা দলবল, তাদেরকে ওই লোহিত সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এইজন্য—
> فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا
(ফাসামাজাল মুসা আলাইহিস সালাম শুকরান)
এইজন্য হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি শুকরানাস্বরূপ কারণ নিয়ামত লাভ করলে তো শুকুর গুজার করতে হয়। তিনি শুকুরানা স্বরূপ এই দিন রোজা রেখেছেন।
> فَنَحْنُ نَصُومُهُ
(ফানহানুসুমুহু)
সেই জন্য আমরাও উনার অনুসরণ উম্মত হিসেবে আমরাও আশুরার দিন রোজা রাখি, এটা তারা বলল।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটার গুরুত্বটা বোঝানোর জন্য তিনি বললেন, হে হযরত ইহুদি কওম—
> نَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ
(নাহনু আহাক্কু আউলা বিহ্যা হযরত মুসা মিনকুম)
যে তোমাদের থেকে তো আমার হক বেশি। কারণ উনি আমার সর্দি উম্মত।
> فَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ
(ফাসামো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আমার বিসিয়ামি)
তখন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে রোজা রাখলেন, হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমকে রোজা রাখতে বললেন।
ইহুদিরা একটা রোজা রাখে বলেন তোমরা উম্মতরা যেন দুইটা রোজা রাখে, তার মিল না রাখে। কিন্তু এই দিনটা তিনি পালন করতে হবে এটা নিয়ে তালিম দিলেন—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
তো হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি হাজার হাজার বছর আগে নূহী পাড় হইছেন। উনার উনি রোজা রেখেছেন, উনার উম্মতরা রেখেছে, ঠিকই আছে।
তাই যদি তে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি রোজা রাখবেন কেন? কি কারণে?
উনি কেন রাখবেন?
আর রাখতে কেন বলবেন?
এটা হচ্ছে তালিম দিচ্ছেন যে একজন নবী-রাসূল উনাদের কোনো বিশেষ অকিয়া, কোনো আইয়ামুল্লাহ শরীফটা উম্মতকে পালন করতে হয়। তালিমটা দিলেন।
তাহলে উনারটা যদি পালন করতে হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতর তো পালন করতে হবে।
আবার আশুরা শরীফে তো অনেক ফজিলত আমরা বলেছি। অনেক ফজিলত। আশুরার দিনে যদি কেউ ভালো খাদ্য খায়, এক বছর বেশি সচ্ছলতা লাভ করে, সুস্থতা লাভ করে, সুরমা দিলে এবং গোসল করা—অনেক ফজিলত।
এটা যদি অনেক কারণ, তারপরেও হযরত কালিমুল ইসলামটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এটা যদি এরকম যদি হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খতামুন নাবিয়্যীন হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মান তাহলে উনার সংশ্লিষ্ট দিবসগুলি, আখেরি চার সুম্বা শরীফ, ১২ই রবিউল আউয়াল ইত্যাদি ইত্যাদি, তাহলে কত ফজিলত হবে—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এটা গেল একটা। এরপর আরেকটা বলা হচ্ছে, হযরত আবুল বাশার সফিআল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিষয়।
অন হযরত আবি ওমার ইবনে আবদিল মুনযির রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কালা কালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্না ইয়াওমাল জুমুআতি সাইয়্যিদুল আইয়াম ওয়াজুমু ইদাল্লাহ ওয়াহু আওয়া ইম্মিল আদল ফিতরি ফি খামসু খিলাল খালাকাল্লাহু ফি হযরত আদম আলাইহিস সালাম আহমাদ আলাইহিস সালাম আহবাতাল্লাহু ফি হযরত আদম আলাইহিস সালাম মিনাল আরদ্ব ফিহে তাওয়াফাল্লাহু হযরত আদম আলাইহিস সালাম ফি সাআতুন ফিতাকুমু সাআআপনার দেওয়া অংশটির আরবি ইবারত নিচে দেওয়া হলো:
عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ، وَأَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى، وَفِيهِ خَمْسُ خِلَالٍ: خَلَقَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ، وَأَهْبَطَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ إِلَى الْأَرْضِ، وَفِيهِ تَوَفَّى اللَّهُ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا عَبْدٌ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ".
এখানে হযরত আবু রবি ইবনে আবদিল মুনযির একজন বিশিষ্ট সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বর্ণনা করতেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সব করলেন—
> إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ
(ইন্না ইয়াওমাল জুমুআতি সাইয়্যিদুল আইয়াম)
নিশ্চয়ই জুমার দিন হচ্ছে দ্বিনের সাইয়্যেদ।
> إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ
(ইন্না ইয়াওমাল জুমুআতি সাইয়্যিদুল আইয়াম)
জুমার দিন হচ্ছে দ্বিনের সাইয়্যেদ।
> وَأَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ
(ওয়া আজমু ইদাল্লাহ ওয়াহু আজমু ইদাল্লাহ মিনাল আদল ফিতরি)
এবং যিনি খালিক, যিনি মালিক রব, উনার একটা মহান দিন।
> وَأَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ
(ওয়াহু আজমু ইদাল্লাহ মিনাল আদল ফিতরি)
এই জুমার দিনটা, যিনি খালিক