জর্জ অরওয়েলের অ্যানিম্যাল ফার্মের গল্পটা এরকম ছিল:

একদিন এক খামারের পশুরা অত্যাচারী মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল।

দীর্ঘদিনের শোষণ, ভয় আর বঞ্চনায় তারা অতিষ্ঠ ছিল। একসময় তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রবল আন্দোলনের মুখে মালিক খামার ছেড়ে পাশের এক আশ্রয়ে পালিয়ে গেল। পশুরা আনন্দে ঘোষণা করল—আজ থেকে তারা স্বাধীন।

খামারের দেয়ালে লেখা হলো নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি—
কেউ নিপীড়িত হবে না, কারও কণ্ঠ রোধ করা হবে না, সবাই সমান অধিকার পাবে।

কিন্তু কিছুদিন পরে ওই খামারের পশুরা, মালিকের ফেলে যাওয়া চেয়ারে তাদের মধ্য থেকে একজনকে পছন্দ করে বসালো। আসনে যে বসেছে তার প্রতিশ্রুতি ছিল, 'আমি তোমাদেরই একজন। আমি তোমাদের জন্যই কাজ করবো। তোমাদের কষ্ট আমি বুঝি। আমি আগের মালিকের মত অত্যাচারী হবো না।'

কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই তাদের ধারনা বদলে গেল। তারা দেখল বদলেছে শুধু মুখ; ভয়, প্রতিহিংসা, দখলদারত্ব আর অত্যাচারের ধরন বদলায়নি। যারা মুক্তির কথা বলেছিল, তারাই প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ করল। যারা ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারাই নিজেদের অন্যায়ের বিচার বন্ধ রাখল।

খামারের পশুরা তখন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল।

একসময় যে মালিককে তাড়ানোর জন্য তারা জীবন বাজি রেখেছিল, নতুন শাসকদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের কেউ কেউ সেই পুরোনো মালিককেই ফিরে পাওয়ার কথাই ভাবা শুরু করলো। তার ফিরে আসার জন্য দোয়া করতে শুরু করলো।

এটা পুরোনো মালিক ভালো ছিল বলে নয়।
বরং নতুনদের হাতে মুক্তির স্বপ্ন আরও নির্মমভাবে ভেঙে গেছে বলে।

যাদেরকে ওই খামারের পশুরা নিজেদের জাতি ভাই বলে গদিতে বসালো তারাই পরে আরও বেশি অত্যাচার শুরু করলো।

এক বার রাতের অন্ধকারে পশুরা জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখল—পুরোনো মালিক আর নতুন শাসকেরা একই টেবিলে বসে আছে। একজনের মুখের সঙ্গে অন্যজনের মুখ মিলিয়ে তারা আর পার্থক্য করতে পারল না।

তখন তারা বুঝল—

শুধু মালিক তাড়ানোই মুক্তি নয়।
চেয়ারে বসা মুখ বদলানোই বিপ্লব নয়।
অত্যাচারের ব্যবস্থাটি অক্ষত থাকলে প্রতিটি বিপ্লব শেষ পর্যন্ত নতুন অত্যাচারীর জন্ম দেয়।

কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে...