ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৯৬)
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَ حضرت أَبُو بَكْرٍ عليه السلام حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তখন আমি বললাম, তাহলে চলুন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাই; বলে আমি ও হযরত সিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম।
فَقُلْتُ: نَافَقَ حضرت حَنْظَلَةُ رضى الله تعالى عنه يَا رَسُولَ اللَّهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি বললাম ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিতো মুনাফিক্ব হয়ে গেছেন। নাউযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন এটা কি করে সম্ভব?
وَمَا ذَاكَ؟
কি বললেন, আপনি এটা?
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكُونُ عِنْدَكَ
আমি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আমরা আপনার কাছে থাকি
تُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأْيَ عَيْنٍ
আপনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে আমরা সরাসরি স্বচক্ষে সব দেখতে পাই। বেহেশত-দোযখ, আসমান-যমীন, আরশ-কুরসী, লৌহ-কলম, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে সব আমরা স্বচক্ষে দেখি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِكَ
অতঃপর আমরা যখন আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক থেকে বের হয়ে যাই
عَافَسْنَا الْأَزْوَاجَ وَالْأَوْلَادَ وَالضَّيْعَاتِ
আমাদের জন্য বাধাস্বরূপ হয় আমাদের আহাল-ইয়াল, সন্তান-সন্ততি, পরিবারবর্গ, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন, ক্ষেত-খামার ও ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। যাতে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
نَسِينَا كَثِيرًا
তখন অনেক বিষয় ভুলে যাই অর্থাৎ বের হয়ে আমরা ব্যবসাতে মশগুল হই, চাকরীতে মশগুল হই, ঘর-সংসার, ছেলে-মেয়ে ইত্যাদি দেখাশুনা করি, খোঁজ খবর নেই। আমাদের সেভাবে আর স্মরণে আসে না। সেজন্য বলেছি যে, হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুনাফিক্ব হয়ে গেছেন। নাউযুবিল্লাহ!
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهٖ
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল আমর (প্রাণ) মুবারক উনার ক্বসম! কি ক্বসম?
لَوْ تَدُومُونَ عَلٰى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي وَفِي الذِّكْرِ
আপনাদের অবস্থা যদি সবসময় এ রকমই হতো আমার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারকে থাকার কারণে যে অবস্থা বা হাল হয়। এবং যিকির করার সময় যে অবস্থা বা হাল হয় অর্থাৎ এ হাল যদি সবসময় হতো
لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلٰى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ
তাহলে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ২৪ ঘন্টা শয়নে-স্বপনে, রাস্তা-ঘাটে, বিছানায়, সব জায়গায় আপনাদের সাথে পবিত্র মুছাফাহ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক, আমার সম্মানিত যিকিরে মশগুল থাকাকালীন যে অবস্থা হয়, আমার আলোচনা মুবারক করলে যে অবস্থা হয় এ অবস্থায় মানুষ যদি থাকতো তাহলে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনাদের সাথে শয়নে-স্বপনে, রাস্তায়, পথে-ঘাটে, ২৪ ঘন্টা আপনাদের সাথে পবিত্র মুছাফাহ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!