৫ই মুহররমুল হারাম শরীফ
উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম।
তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
------------------------------------------
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার দিক থেকে,
উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন,
আত তাসীয়াহ অর্থাৎ নবম।
১৩ জন উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন নবম।

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম
বা নাম মুবারক হচ্ছেন,
সাইয়্যিদাতুনা হযরত রায়হানা
আলাইহাস সালাম।
তিনি সকলেরই মাঝে উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম হিসেবে পরিচিতি মুবারক লাভ করেন।

উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম
মুবারক হচ্ছেন,
সাইয়্যিদুনা হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম। তিনি হচ্ছেন, জলিলুর কদর নবী ও রসূল হযরত মূসা কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ভাই , এবং
সাইয়্যিদুনা হযরত হারুন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর।

তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
সম্মানিত নবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের
১৯ বছর পূর্বে, পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার ২৮ তারিখ,
ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ মঙ্গলবার।
বনু নাযীর গোত্রে তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান
মুবারক প্রকাশ করেন। এবং

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার সাথে উনার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন,
৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার ২৩ শে রবিউছ ছানী শরীফ।
ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।
তখন উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন,
৩৭ বছর ২৫ দিন।
তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন ,
৪ বছর ৮ মাস ১২ দিন।

তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ
সম্পর্কে বলা হয়,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
১০ম হিজরীতে বিদায় হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তন করেন।
এরপর ১১ হিজরী সনের, পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ উনার ৫ তারিখ
ইয়াওমুল খমীস।
তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
উনার ছলাতুল জানাযা মুবারক পড়ান। এবং তিনি স্বয়ং উনাকে উনার রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখেন।
আর উনার রওযা শরীফ হচ্ছেন,
জান্নাতুল বাকী শরীফে অবস্থিত।
তিনি দুনিয়ার যমিনে অবস্থান মুবারক করেন, ৪১ বছর ৯ মাস ৭ দিন।
সুবহানাল্লাহ ।
----------------------------------
এখন উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম
উনার শান মান ফযিলত বেমেছাল। তিনি হচ্ছেন,
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিশেষ
ব্যক্তিত্বা মুবারক।
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ফযিলত মুবারক স্বয়ং
যিনি খ্বলিক, যিনি মালিক, যিনি রব,
মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন,

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
কুল্লা আস আলুকুম আলাইহি আযরান
ইল্লাল মাওয়াদ্দাতা ফিল কুরবা
ওয়া মাইয়াখ তারিফ হাসানাতান নাযিদিলাহু ফিহা হুসনাহ ইন্না গফুরুর শাকুর।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফযিলত মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন,

কুল্লা আস আলুকুম আলাইহি আযরান ইল্লাল মাওয়াদ্দাতা ফিল কুরবা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাকে জানিয়ে দিচ্ছেন, বলে দিচ্ছেন,
ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,
আপনি দয়া করে বলে দিন। কি বলে দিবেন ?

লা আস আলুকুম আলাইহি আযরান।
তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাওয়া
হচ্ছে না, আর বিনিময় চাওয়াটাও কখনোই স্বাভাবিক নয়।
মাখলুকাত, সৃষ্টি, তারা কখনো বিনিময় দিতেও পারবেনা।
বিনিময় দেয়ার চিন্তা করাটাও কুফরী হবে।
তবে অবশ্যয়, জ্বীন ইনশানকে বান্দা বান্দীদেরকে কামিয়াবী হাছিল করতে হবে।
তাহলে কি করে তারা কামিয়াবী হাছিল করবে ?

সেটাই বলে দিচ্ছেন ,
ইল্লাল মাওয়াদ্দাতা ফিল কুরবা।
তাদের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে, ফরয হচ্ছে,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত কুরবতপ্রাপ্ত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো। সুবহানাল্লাহ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিচ্ছেন,
উম্মত যদি কামিয়াবী হাছিল করতে চায়, তাদের জন্য ফরয হচ্ছে, ওয়াজিব হচ্ছে, আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে যেন তারা মুহব্বত মুবারক করে
সুবহানাল্লাহ।

এখন এই যে বান্দা বান্দী জ্বীন ইনশান তারা মুহব্বত মুবারক করবে,
এর জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কি বিনিময় দান করবেন ?
সেটাই বলা হচ্ছে,
মাইয়াখ তারিফ হাসানাতান নাযিদিলাহু
ফিহা- হুসনাহ।
ওয়া মাইয়াখ তারিফ হাসানাতান, বলা হচ্ছে, এই নেকিটা যে কামাই করতে পারবে অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক হাছিল করতে পারবে।
নাযিদিলাহু ফিহা- হুসনাহ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আমি বৃদ্ধি করে দিবো। কি বৃদ্ধি করে দিবেন ?
তার নেকি গুলো, তার আমলগুলো দ্বিগুন বহুগুনে আমি বৃদ্ধি করে দিব।
সুবহানাল্লাহ।

উনাদেরকে মুহব্বত করে যে আমলটা করবে, আর মুহব্বত ব্যতিত যে আমলটা করা হবে।
তার মধ্যে পার্থক্য থাকবে।
হাক্বীক্বী মুহব্বত করে যে আমলটা করতে পারবে, এবং এই আমল করার মাধ্যম দিয়ে
উনাদের মুহব্বত অর্জন করতে পারবে।

এখন এই যে, উনাদের মুহব্বত অর্জন করতে পারলো,
এই মুহব্বত অর্জন করার কারনে
একদিক থেকে তার নেকিগুলো, তার আমলগুলো, দ্বিগুন বহুগুনে বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। আর একদিক থেকে সে যে মুহব্বত করে আমলগুলি করেছে,
সেই আমলগুলিকেও দ্বিগুন বহুগুনে বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ।

এরপর বলা হচ্ছে,
ইন্নালহা গাফুরুর সাকুর।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম
উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করার কারনে, তিনি কি করবেন ?
তাদের জিন্দেগীর সমস্ত গুনাখতাগুকি ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ।
এবং সাকুর, অর্থাৎ তিনি তাদের সমস্ত আমলের বদলা দ্বিগুন বহুগুনে বৃদ্ধি করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে দেখা যাচ্ছে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা সমস্ত সৃষ্টির জন্য ফরয করে দিয়েছেন, মহান আল্লাহ পাক।
সুবহানাল্লাহ।
আর এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক হচ্ছেন,
উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে উনার শান মান ফযিলত মুবারক কতোটুকু।
উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত সংপ্রিক্ত।
যার কারনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যত শান মান ফাযায়িল ফযিলত খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক রয়েছে ,
ঠিক একই ভাবে উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম তিনিও সমস্ত শান মান ফাযায়িল ফযিলত খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক উনার অধিকারী, মালিক।
সুবহানাল্লাহ।

মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যে মাক্বাম মুবারক সেটা বেমেছাল মাক্বাম।
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হচ্ছে,

আন হযরত আনাস ইবনে মালিকীন রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
কলা কলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম,
নাহনু আহলু বাইতি, লা ইউ কসুবিনা আহাদুন।
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
তিনি স্বয়ং নিজেকে আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।
তিনি বলেন যে,
আমরা হচ্ছি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।
লা ইউ কসুবিনা আহাদুন।
আমাদেরকে কারো সাথে তুলনা করা যাবেনা।
অর্থাৎ আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কারো সাথে তুলনা করা যাবেনা।
উনারা বেমেছাল মর্যাদা, সম্মান, ফযিলত মুবারক উনার অধিকারী।
সুবহানাল্লাহ।

তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম
যে হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট উত্তম।
অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যাকে উত্তম হিসেবে সত্তায়ন করবেন।
সেই সর্বক্ষেত্রে কামিয়াবী লাভ করবে।
আর উনারাই হচ্ছেন কামিয়াবী লাভের সর্বত্তোম উছিলা মুবারক। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে আমাদেরকে উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট উত্তম হতে হবে, সার্বিক দিক দিয়ে, আমাদেরকে সর্বোত্তোম হতে হবে।
আর সর্বোত্তম হতে হলে আমাদেরকে উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের,
সম্মানিত বিলাদত শরীফ দিবস, সম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস, সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এবং আইয়্যামুল্লাহ শরীফ গুলো হাক্বীক্বী মুহব্বতের সাথে পালন করতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে
উম্মুল মুমিনীন আত তাসীয়াহ আলাইহাস সালাম সম্মানিত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক জেনে, ইবরত নছিহত হাছিল করে, উনাকে হাক্বীক্বী মুহব্বত মুবারক করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

image