আল্লাহওয়ালা হতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করা আবশ্যক

নামাযের ক্বিবলা কা’বা শরীফ উনার দিকে থু থু নিক্ষেপ করা আদবের খেলাফ, যা তাছাওউফ বা মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাছিল করার পথে অন্তরায়। তাই একবার কুতুবুল আলম, সুলত্বানুল আরেফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুনতে পেলেন যে, অমুক স্থানে একজন কামিল মুর্শিদ আছেন, যিনি একজন বিশিষ্ট বুযূর্গ ব্যক্তি। সুলত্বানুল আরেফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সাথে সাক্ষাত করার জন্য রওয়ানা হলেন। তিনি উক্ত বুযূর্গ ব্যক্তির দরবার শরীফ-এ উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, বুযূর্গ ব্যক্তি “ক্বিবলার” দিকে ফিরে থুথু নিক্ষেপ করছে। এটা দেখে সুলত্বানুল আরিফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আশ্চর্য্য হয়ে বললেন, যার আদব রক্ষার প্রতি এতটুকু লক্ষ্য নেই, তার কাছে এসে আমি কি হাছিল করবো? এ কথা বলে তখনই তিনি বিদায় হলেন।

বর্ণিত আছে যে, ওলীকুল শিরোমণি হযরত সাহাল ইবনে আব্দুল্লাহ তাস্তারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হাবীবুল্লাহ হযরত যুননূন মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবদ্দশায় কখনও কোন দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে পা বিস্তার করে বসতেন না। কারো কোন প্রশ্নের জাওয়াব দিতেন না এবং কখনও মিম্বরে আরোহণ করেননি। কিন্তু একদা হঠাৎ তাস্তার নগরে পা দু’খানি বিস্তার করে দেয়ালের সঙ্গে পিঠ লাগিয়ে হেলান দিয়ে বসলেন এবং সবাইকে লক্ষ্য করে বললেন- “এখন তোমাদের যা ইচ্ছা আমাকে জিজ্ঞাসা করো।”

উপস্থিত লোকেরা বললেন, হুযূর বেয়াদবী মাফ করবেন, আপনিতো ইতিপূর্বে কখনও এরূপভাবে পা ছড়িয়ে বসেননি? উত্তরে তিনি বললেন, পীর ছাহেব যতদিন জীবিত থাকেন মুরীদকে ততদিন উনার আদবের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হয়। যা প্রত্যেক মুরীদের জন্যই আবশ্যক। পরে খবর নিয়ে জানা গেল যে, ঠিক সে সময়ই হযরত যুননূন মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দিদারে চলে গেছেন। (রদ্দুল মুহতার, ইরশাদুত ত্বালেবীন, তাযকিরাতুল আউলিয়া)