একখানা বিশেষ ওয়াক্বেয়াহ& মুবারক (২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার একটা ব্যাখ্যা আছে| ব্যাখ্যাটা হলো-
আমি একখানা ¯^প্ন মুবারক দেখেছি| ¯^প্ন মুবারকখানা হচ্ছেন- “একটা কামরার মধ্যে আমি থাকি| অনেক বড় একটা কামরা| এটা ল¤^ায় ৩০ থেকে ৩৫ হাত হতে পারে, চওড়ায় ২০ থেকে ২৫ হাত হতে পারে| এর মধ্যে একখানা অনেক উঁচু চকি মুবারক আছেন| সেই উঁচু চকি মুবারক উনার ওপর আমি থাকি| ঐ উঁচু চকি মুবারক উনার কাছে একটা বাঘও থাকে| এটা আমি জানি| তবে, বাঘটা কিছু করে না| বাঘটা থাকে ঠিক মতোই| বাঘটা মোটামুটি বড়সড়ই- ডোরাকাটা বাঘ| ওটা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাত ল¤^া হবে| আর উঁচু হবে ২ হাতের কাছাকাছি| বাঘটা অনেক বড়, মোটাতাজা| একদিন আমি শুয়ে রয়েছি| দেখতেছি- বাঘটা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত (ক্বদম বা পা) মুবারক উনার দিকে এসে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে| তখন আমি চকি মুবারক থেকে নামলাম| আমি বললাম যে, ‘বাঘটা একটা বেয়াদব দেখা যায়| এটা ছিলো, আমরা কিছু বলিনি| তাহলে আজকে এটাকে শাস্তি দিতে হবে|’ আমি লোকজনকে বললাম, ‘আমাকে একটা মুগুড় দাও|’ তারা আমাকে একটা মুগুড় দিলো| তারপর ঐ মুগুড় দিয়ে আমি বাঘটাকে খুব আঘাত করতে থাকলাম| হঠাৎ করে দেখি- ঐ বাঘটা মানুষ হয়ে গেছে! আরে মানুষ হয়ে গেলো! আমি বললাম, ‘বের হয়ে যা এখান থেকে| তুই একটা শয়তান|’ সে বলে যে, ‘না; আমি এখান থেকে যাবো না|’ তারপর আমি এটাকে মারতে মারতে একবারে এক প্রান্তে নিয়ে একদম এটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিলাম, মিটিয়ে দিলাম| পরে বুঝলাম যে, এটা আসলে ঐ যে জিনটা, যেটা আমার সাথে থাকার কথা| ঐ জিনটা আমার সাথে থাকতে পারতো না; এটা আলাদা থাকতো| যেহেতু ঐটা আলাদা থাকতো, তাই ঐটা ঐ ছূরতে এসেছিলো| এই জন্য সে বলেছে, ‘সে যাবে না; সে থাকবে|’ এখন যখন এটাকে মিটিয়ে দিলাম- এটা একদম নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো|” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
‘তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেন|’
প্রকৃতপক্ষে উনাদের সাথে এই জিনটা থাকেই না| এটা পুরা বের করে দেওয়া হয়|
তারপর যেমন- হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বলেছেন যে, ‘ওলীআল্লাহ যত বড়ই হোক না কেন- আব, আতেশ, খাক, বাদের তাছীরের কারণে কিছু কাজ এদিক-সেদিক হতে পারে|’ আসলে হাক্বীক্বীতটা হচ্ছে- ঐ যে জিনটা থাকে, ঐ জিনটার কারণে ব্যাতিক্রম কিছু হতে পারে| আর ঐটা যখন বের করে দেওয়া হয়, তখন ঐ তাছীরটা আর থাকে না|
একজন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিস সালাম উনার থেকে যদি এটা বের করে দেওয়া হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এটা থাকে কিভাবে? হ্যাঁ? বুঝো আমার কথাগুলি? ফিকির না করলে তো বুঝবে না এটা| এটা মানুষ বুঝবে না| বিষয়টা কঠিন বিষয়| একজন হযরত ফেরেস্তা আলাইহিস সালাম থাকেন, হযরত ফেরেস্তা আলাইহিস সালাম উনি নেক কাজে উৎসাহিত করেন| আর জিনটা থাকে, এটা কাফের, এটা বদ কাজে ওয়াসওয়াসা দেয়| এখন নেক কাজ করলে জিনটা দুর্বল হয়ে যায়| আবার যখন মানুষ গুনাহ& বেশি করে, তখন হযরত ফেরেস্তা আলাইহিস সালাম উনি দুর্বল হয়ে যান| তখন সে গুনাহর কাজ করে বেশি| জিনটাকে যখন বের করে দেওয়া হয়, তখন আর এই তাছীরটা থাকে না|