দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৭ম পর্ব)
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
وَلَنْ تَـرْضٰى عَنكَ الْيَـهُوْدُ وَلَا النَّصَارٰى حَتّٰى تَـتَّبِعَ مِلَّتَـهُمْ
“ইহুদী ও নাছারারা কখনোই তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাদের ধর্ম অনুসরণ না করবে।” নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: ১২০)
তাই মুসলমানদের উচিত ইহুদী-খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিক সবার চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকা। পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “(তোমরা দোয়া করো; আয় আল্লাহ পাক!) আমাদেরকে তাদের পথ দিবেন না যারা গযবপ্রাপ্ত ও বিভ্রান্ত। (খাছভাবে মাগদ্বুব অর্থ ইহুদী এবং দোয়াল্লীন অর্থ নাছারা। আর আমভাবে সমস্ত কাফির, মুশরিক, বেদ্বীন, বদদ্বীন, বাতিল ফিরকার অনুসারী সবাই এর অন্তর্ভুক্ত)।
আর পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করতে বলেছেন; তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। যেমন: আশুরার রোযা ইহুদীরা ১দিন রাখতো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২দিন রাখতে বলেছেন। এই রকম প্রতিক্ষেত্রে তিনি ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করার জন্য আদেশ মুবারক দিয়েছেন। তাই মুসলমানদের উচিত চিরশত্রু ইহুদী-নাছারাদের তৈরী বিশ্বব্যাপী জুলুম করার জন্য, মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করার জন্য এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের দখলদারিত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য তাদের তৈরী করা ইহুদীসংঘ (জাতিসংঘ বা টঘ)- এর আনুগত্যতা বাদ দিয়ে নিজেদের জন্য আলাদা ঐক্য বা সংস্থা তৈরী করা, যা নিয়ন্ত্রিত হবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ (সুন্নাহ শরীফ), পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র কিয়াস শরীফ অনুসারে এবং পরিপূর্ণ সুন্নত মুবারক উনার পাবন্দ, হাক্বীক্বী মু’মিন-মুত্তাক্বী আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিরা এই ঐক্য নিয়ন্ত্রণ করবেন।
মুসলমানদের জন্য উচিত হচ্ছে এবং ফরজ-ওয়াজিব হচ্ছে, জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশনকে কোনো দেশে কার্যক্রম করতে না দেয়া- কোনো মুসলমান দেশে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশনের (অমানবিকতা ও বর্বরতা কমিশনের) কার্যালয় স্থাপন করতে না দেয়া।
প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বের যেসব দেশ ইহুদীসংঘের (তথাকথিত জাতিসংঘের) সদস্য তারা নিজেদেরকে স্বাধীন বললেও আসলে কোনো দেশই পরিপূর্ণ স্বাধীন নয়। সব দেশই ইহুদীসংঘের মাধ্যমে ইহুদীদের দ্বারা পরোক্ষভাবে শাসিত। কিন্তু মুসলমানদের অধিকাংশই এই বিষয়টা অনুধাবন করতে পারেন না। কারণ তারা শাসন করে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার ইত্যাদির আওয়াজ দিয়ে। মুসলমানদের উচিত ইহুদীদের এই ধোঁকা থেকে বের হয়ে আসা।
এই প্রবন্ধটির দলীল-আদিল্লাহসমূহ নিম্নে উল্লেখিত কিতাবসমূহ হতে গ্রহিত হয়েছে-
{(পবিত্র কুরআন শরীফ, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে রাযী (মাফাতিহুল গাইব), তাফসীরে বাগভী (মাআলিমুত তানযীল), তাফসীরে দুররে মানছুর, তাফসীরে শাওকানী (ফাতহুল কাদীর), তাফসীরে সা’দী, তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তাফসীরে আযিমুশশান, তাফসীরে মুজাহিদ, তাফসীরে ছাবিঈন, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, তাফসীরে আবূ হাইয়ান (আল বাহরুল মুহীত), তাফসীরে আবু সউদ, তাফসীরে নাসাফী, তাফসীরে আস সমরকান্দি (বাহরুল উলুম), তাফসীরে আলুসী (রুহুল মাআনী), তাফসীরে জামি উলুমুল কুরআন, তাফসীরে নূরুল ইরফান, তাফসীরে খাযিন, তাফসীরে ইবনে জারীর, তাফসীরে বায়যাবী, তাফসীরে নূরুল আনওয়ার, তাফসীরে ফি যিলালিল কুরআন, তাফসীরে মারাগী, তাফসীরে ইবনে আতিয়্যা, তাফসীরে আল-জামি ফি আহকামিল কুরআন, তাফসীরে আস সাবুনি, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, তাফসীরে জালালাইন শরীফ (সংক্ষিপ্ত), তাফসীরে সাফী, তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, তাফসীরে হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাফসীরে মাজিদি, আনওয়ারুত তাফসীর, জামিউল ফাওয়ায়েদ, মুসলিম শরীফ, শরহে নববী, মিশকাত শরীফ, মিরকাত, লুম’আত, আশ’আতুল লুমআত, শরহুত ত্বিবী, মুসনাদে বাযযার, সুনানে তিরমিযী শরীফ)} (সংকলিত)