গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে (রংপুর বিভাগ) সম্প্রতি একটি সুবিশাল রাম মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার। এর আগে ঠিক একই এলাকায় একটি বিশাল কৃষ্ণ মূর্তিও উন্মোচন করা হয়েছিল এবং সেখানে আয়োজিত গীতা উৎসবেও উক্ত ভারতীয় কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশে বসবাসকারী মু!শরেকরা তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে—এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, স্থানীয় একটি ধর্মীয় আয়োজনে বারবার বিদেশী দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা কেন প্রয়োজন হচ্ছে?
প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, পলাশবাড়ী হয়তো একটি হি!ন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চল। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখায়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলার মোট ২,৪৪,৭৯২ জন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ২,২৯,০৩০ জন (৯২.৪৮%) এবং হি!ন্দু ১৫,৬৪০ জন (মাত্র ৬.৪%)। বাকি অংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।
অর্থাৎ, এটি কোনোভাবেই স!না!তন ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নয়, বরং বেশ কম জনসংখ্যার একটি অঞ্চল।
এই জনমিতির বিপরীতে এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষার মানচিত্রে উত্তরাঞ্চলের এই বিশেষ বেল্টটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এমন একটি স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থানে একের পর এক বিশালাকৃতির ধর্মীয় স্থাপনা ও মূর্তি নির্মাণের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থায়নের উৎস ঠিক কী, তা নিয়ে যৌক্তিক সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, এই সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণগুলো আমাদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা কতটা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন—তা এখন বড় একটি চিন্তার বিষয়।