সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৪)
উনারা ছিলেন ২৪ ঘণ্টা উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা এবং উনার যিকির ও মুহব্বত মুবারক-এ গরক্ব:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ ام المؤمنين الثالثة سيدتنا حضرت الصديقة عليها السلام قَالَتْ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال يا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي وَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَهْلِي وَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ وَلَدِي وَإِنِّي لَأَكُونُ فِي الْبَيْتِ فَأَذْكُرُكَ فَمَا أَصْبِرُ حَتَّى آتِيَكَ فَأَنْظُرَ إِلَيْكَ وَإِذَا ذَكَرْتُ مَوْتِي وَمَوْتَكَ عَرَفْتُ أَنَّكَ إِذَا دَخَلْتَ الْجَنَّةَ رُفِعْتَ مَعَ النَّبِيِّينَ وَإِنْ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ خَشِيتُ أَلَّا أَرَاكَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلَتْ عَلَيْهِ {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا}
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আমার জীবনের চেয়ে, আমার পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজনের চেয়ে, আমার আল-আওলাদ, সন্তান-সন্ততির চেয়েও বেশি প্রিয়। আমি যতক্ষণ ঘরে থাকি, আপনাকেই স্মরণ মুবারক করি, আপনারই যিকির মুবারকে মশগুল থাকি এবং আপনার সামনে উপস্থিত হয়ে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত আমি অস্থির-বেকারার থাকি। (আপনাকে দেখে আমি ইতমিনান লাভ করি।) আর যখন আমি আমার ইন্তিকালের কথা এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের কথা স্বরণ করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে, নিশ্চয়ই আপনি যখন সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন, তখন আপনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে অতি উচ্চ স্থানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক করবেন। (অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকেও অনেক সুউচ্চে অবস্থান মুবারক করবেন।) আমি চিন্তিত হই যে, যদি আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করে আপনাকে দেখতে না পারি!’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব মুবারক দেননি। (অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন,) ‘যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের আনুগত্য মুবারক করেন উনারাই মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁদেরকে নেয়ামত মুবারক দান করেছেন, উনাদের সাথে থাকবেন। আর উনারা হলেন- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও ছালেহ্। উনারা কতোইনা উত্তম সঙ্গী’।” সুবহানাল্লাহ! {সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯ (আদ্ দুররুল মানছূর ২/৫৮৮, তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৩৫৪, তাফসীরুল মানার ৫/২০১, ফাতহুল ক্বাদীর লিশ শাওকানী ২/১৭২, মাহাসিনত তা’বীল, রূহুল মা‘আনী ৩/৭৩, তাফসীরে মাযহারী ১/৮৩৬, তাফসীরুল মুনীর ৫/১৪৫, আত্ তাফসীরুল ওয়াসীত্ব ১/৩৪০, তাফসীরে বাগবী ১/৬৫৯, ফাতহুল বায়ান ফী মাক্বাছিদিল কুরআন /১৭৩, আসবাবুন নুযূল লিল ওয়াহিদী ১/১১১, আল উজাব ফী বায়ানিল আসবাব ২/৯১৪, লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূল লিস সুয়ূত্বী ১/৬৪, আসবাবু নুযূলিল কুরআন ১/১৬৬, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ৩/৩৮৫, শরহুয যারক্বানী ৮/৫০৯, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/২৩৯, কিতাবু ছিফাতুল জান্নাহ্ ১/৬, গ¦য়াতুল আমানী ২/১০৭, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ১/১৫২, আল মু’জামুছ ছগীর লিত ত্ববারনী ১/৫৩, মিরক্বাতুল মাফাতীহ্ ৮/৩১৩৬, মু’জামুয যাওয়াইদ লিল হাইছামী ৬/৩৬৭, জাম‘উল ফাওয়াইদ ৩/১১৫, ই‘আনাতুত্ ত্বলিবীন ৪/৩৮৫, আদ্ দ্বীনুল খ্বাালিছ ৭/২৫১, হাদিয়ুল আরওয়াহ্ ইলা বিলাদিল আফরাহ্ ১/৮২, রহমাতুল্লিল আলামীন ১/৫৮০ ইত্যাদি)
(অসমাপ্ত)