হযরত নাছীরুদ্দীন চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র শায়খ ও মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার জবান নিঃসৃত কথা মুবারক, আমল মুবারক, ব্যবহার, চলন মুবারক ইত্যাদি কোন বিষয়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতম সংশয় বা সন্দেহকে অন্তরে স্থান দিবে না। যা মুরীদের কামিয়াবী হাছিলের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।
একদিন সামা শরীফের মজলিস হচ্ছিল, সে সময় নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বাড়ীতে ছিলেন। উনার এক পীর ভাই হযরত নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নিতে আসলেন। অতঃপর বললেন, আপনি সামা মাহফিলে যাবেন না? হযরত নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বেশী কিছু বলেননি, শুধু এতটুকুই বলেছিলেন, “সবসময় না গেলেও তো চলে। ” উনার সেই পীর ভাই আর কিছু বললেন না, সেখান থেকে এসে উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বিষয়টি পেশ করলেন।

হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন শুনে শুধু এতটুকুই বললেন-
حق ھمی است کہ او گفتہ
“সে যা বলেছে ঠিকই বলেছে। সবসময় মজলিসে না আসলেও তো চলে”।
সাথে সাথে উনার নিকট ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ আসা বন্ধ হয়ে গেলো। উনার সিলসিলাও বন্ধ হয়ে গেলো। নাঊযুবিল্লাহ!
যার কারণে তিনি যতটুকু ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ, নিয়ামত উনার শায়েখের থেকে হাছিল করেছিলেন, উনার ইন্তেকালের পরে সব দাফন করে দেয়া হলো। তিনি এত বড় বুযূর্গ ব্যক্তি হওয়া সত্বেও উনার ইন্তেকালের সাথে সাথেই উনার সিলসিলাও বন্ধ হয়ে গেল।
-----হযরত নাছীরুদ্দীন চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহিতিনি যখন রূহানীভাবে আমার সম্মুখে আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন আমি সাহস সঞ্চয় করে উনার খিদমতে আরজ করলাম, হযরত! আপনার পরবর্তী যারা ছিলেন, উনাদের মধ্যে অনেকেই তো উচ্চ মর্যাদাশীল বুযূর্গ ব্যক্তি ছিলেন। উনাদের কাউকে আপনি খিলাফতের খিরকা প্রদান না করার কারণ আমি বুঝতে পারছি না। আমার এ আবেদন শুনে তিনি বললেন হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ, আমার পরবর্তী যারা ছিলো, তারা অনেকে যোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলো। কিন্তু তাদের মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিমাণ পক্ষপাতমূলক মনোভাব বিদ্যমান থাকায় আমি তাদের মধ্যে খিরকার মর্যাদা রক্ষার যোগ্যতার অভাব মনে করেছি। কাজেই তাদের কাউকে আমার পূর্ববর্তী মুর্শিদ বা শায়েখ উনার নিকট হতে প্রাপ্ত নিয়ামত প্রদান করিনি।