জাপানের হোক্কাইডোতে বরফঢাকা এক শীতের সকালে তাকে দেখা গিয়েছিল।
একা হাঁটছিল সে। নিঃশব্দে। ধীরে ধীরে।
দূর থেকে দেখে কেউ বুঝতেই পারেনি—তার মাথায় শুধু নিজের শিং নয়… ঝুলে আছে আরেকটি হরিণের মৃত মাথা।
হয়তো কয়েকদিন আগে লড়াই হয়েছিল।
বনের নিয়মে, এলাকা নিয়ে, সঙ্গীর অধিকার নিয়ে।
অথবা হয়তো শুধু প্রমাণ করার জন্য—কে বেশি শক্তিশালী।
সে জিতেছিল।
প্রতিপক্ষ মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। নিস্তব্ধ হয়ে।
কিন্তু গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি।
প্রতিপক্ষের শিং এমনভাবে আটকে গিয়েছিল তার শিংয়ের সঙ্গে…
যে মৃত্যুর পরও আলাদা করা যায়নি।
তারপর থেকে সে নিজের মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে আরেকটা মৃতদেহ।
প্রতিদিন।
বরফের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে…
খাবার খুঁজতে খুঁজতে…
ঘুমাতে গিয়ে…
মাথা নিচু করতে গেলেও…
নিজের জয়ের ওজনের সঙ্গে তাকে টেনে বেড়াতে হয়েছে নিজের অতীতও।
ভাবতে অবাক লাগে—
আমরা মানুষও কি খুব আলাদা?
আমরাও তো কত যুদ্ধ জিতে যাই।
কারও সঙ্গে তর্কে জিতি।
কারও কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে জিতি।
কারও হৃদয় ভেঙে জিতি।
অহংকার বাঁচিয়ে জিতি।
কিন্তু পরে দেখি…
যাকে হারিয়েছি, সে-ই কোনো না কোনোভাবে আমাদের ভেতরে আটকে থাকে।
স্মৃতি হয়ে, অনুশোচনা হয়ে, অপূর্ণ কথা হয়ে।
একটা নীরব ভার হয়ে।
সব হেরে যাওয়া মানুষ চলে যায় না।
আর সব জেতা মানুষ মুক্তি পায় না।
কিছু জয় আসলে পুরস্কার নয়…
কিছু জয় আজীবনের বোঝা।