দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৬ষ্ঠ পর্ব)
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
বাংলাদেশ জনসংখ্যা অনুযায়ী মুসলমানদের বৃহত্তম দেশ। এই দেশের উপর দ্বীনী বিষয়ে এবং সার্বিকভাবে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদী-নাছারাদের শকুনের দৃষ্টি রয়েছে। এখন ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপন করে তারা এই দেশের উপর বিভিন্নভাবে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে। এখনই এর উৎখাত করা ও এই শয়তানি কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন। এই সমস্ত কুফরী কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের মানুষের দ্বীনী অনুভূতি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা অতীব জরুরী।
আরো উল্লেখ্য, কাফিররা মুসলমানদের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি করে না। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে তোমরা কখনো কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে বা পরামর্শদাতা হিসেবে বা উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করো না, অর্থাৎ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَأْلُوْنَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُوْرُهُمْ أَكْبَرُ ۚ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْاٰيَاتِ ۖ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ
“হে ঈমানদাররা! মুসলমান ছাড়া তোমরা কোন বিধর্মী, কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, বিধর্মী, বেদ্বীন-বদদ্বীন, বাতিল ফিরকার কাউকে তোমাদের উপদেষ্টা হিসেবে/পরামর্শদাতা হিসেবে/বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদেরকে সার্বিকভাবে ক্ষতি করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি করে না। (নাউযুবিল্লাহ!) এবং তারা চায় তোমরা কষ্টে থাকো, (তাতেই তাদের আনন্দ)। তারা মুখে যা প্রকাশ করে তার চেয়ে তাদের অন্তরে মুসলমানদের প্রতি আরো কঠিন ও মারাত্মক বিদ্বেষ রয়ে গেছে। (মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,) আমি তোমাদেরকে স্পষ্ট করে বলে দিলাম, যদি তোমাদের আক্বল (সমঝ, বুঝ, বুদ্ধি, জ্ঞান) থাকে তাহলে বুঝবে।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: ১১৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রুরূপে প্রথমত ইহুদীরা, দ্বিতীয়ত মুশরিকরা এরপর সমস্ত কাফিরদের কথা উল্লেখ করেছেন।
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ آمَنُوْا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ أَشْرَكُوْا
“(ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন ইহুদীদেরকে এবং যারা মুশরিক তাদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৮২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন-
وَدَّ كَثِيْرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّوْنَكُم مِّن بَعْدِ إِيْمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ أَنْفُسهِم مِّنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ
“আহলে কিতাবের (ইহুদী-খ্রিস্টানদের) অনেকেই অর্থাৎ সমস্ত কাফিররাই চায় যে, তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফির বানিয়ে দিতে; নিজেদের অন্তরের হিংসার কারণে এবং তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরেও।” (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: ১০৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো আদেশ মুবারক করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَالنَّصٰرٰى أَوْلِيَآءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ ۚ وَمَنْ يَتَوَلَّهُم مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও নাছারাদেরকে বন্ধু (অভিভাবক/সহচর/উপদেষ্টা) হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে (ইহুদী-খ্রিস্টান, হিন্দু-বৌদ্ধ, কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদেরকে) হিদায়েত দান করেন না। অর্থাৎ, তাদের কুফরীর কারণে তারা হিদায়েত লাভের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৫১)