মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আপনার মহান রব তায়ালা উনার কসম! কেউ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরস্পরের মতবিরোধ বা ইখতিলাফী বিষয়ে অর্থাৎ জাহেরী ও বাতেনী প্রত্যেক বিষয়ে আপনাকে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। অতপর আপনি যে ফায়সালা মুবারক করেছেন, সে বিষয়ে যেন তাদের অন্তরে কোন সংকীর্ণতা বা চু-চেরা পাওয়া না যায় বা না থাকে এবং মেনে নেয়ার মত মেনে না নেয় বা সর্বান্তকরণে তা মেনে না নেয়।”
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফায়ছালা মুবারক হচ্ছেন- পর্দা করা ফরয, বেপর্দা হওয়া হারাম, ছবি তোলা ও তোলানো হারাম, তন্ত্র-মন্ত্র, ভোট-নির্বাচন করা হারাম, খেলা-ধুলা করা হারাম, গান-বাজনা করা ও শোনা হারাম, সুদ ও ঘুষ দেয়া ও নেয়া হারাম, অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী সর্বপ্রকার আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকা মানা ও অনুসরণ করা এবং কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা ও তাদেরকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
অতএব, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী কোনো আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি জারী করা যাবে না। কারণ, বাংলাদেশে শতকরা ৯৮জন মুসলমান। আর মুসলমানগণ পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কোন কার্যক্রমই কখনো মেনে নিবে না। কাজেই, প্রশাসনের জন্য ফরয হলো- সমস্ত কার্যক্রম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুসরনে করা।
, ১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফায়ছালা মুবারক হচ্ছেন- পর্দা করা ফরয, বেপর্দা হওয়া হারাম, ছবি তোলা ও তোলানো হারাম, তন্ত্র-মন্ত্র, ভোট-নির্বাচন করা হারাম, খেলা-ধুলা করা হারাম, গান-বাজনা করা ও শোনা হারাম, সুদ ও ঘুষ দেয়া ও নেয়া হারাম, অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী সর্বপ্রকার আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকা মানা ও অনুসরণ করা এবং কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা ও তাদেরকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুজ জামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার মহান রব তায়ালা উনার কসম! কেউ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরস্পরের মতবিরোধ বা ইখতিলাফী বিষয়ে অর্থাৎ জাহেরী ও বাতেনী প্রত্যেক বিষয়ে আপনাকে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। অতপর আপনি যে ফায়সালা মুবারক করেছেন, সে বিষয়ে যেন তাদের অন্তরে কোন সংকীর্ণতা বা চু-চেরা পাওয়া না যায় বা না থাকে এবং মেনে নেয়ার মত মেনে না নেয় বা সর্বান্তকরণে তা মেনে না নেয়।”এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলা হয়, এক ব্যক্তি ছিল মুনাফিক, তার নাম ছিল বিশর। সে মুসলমান দাবী করতো, হাক্বীক্বী সে মুনাফিক। এই মুনাফিক বিশরের সাথে এক ইহুদীর সাথে গন্ডগোল হয়ে যায়। যখন গন্ডগোল হয়ে গেল, তখন মুনাফিক বিশরকে ইহুদী বললো, হে বিশর এটার বিচার করতে হবে। কে বিচার করবেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করবেন। মুনাফিক বিশর মনে মনে চিন্তা করলো, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি বিচার করেন, উনি তো সঠিক বিচার করবেন, তাহলে ইহুদীর পক্ষে রায় চলে যাবে। তখন মুনাফিক বিশর বললো যে, না এক কাজ কর, তোমাদের যে বিচার করনেওয়ালা, কাব ইবনে আশরাফ অথবা আবু রফে ইহুদী তারা বিচার করবে। কিন্তু ইহুদী ব্যক্তি জানতো যে, কাব ইবনে আশরাফ এবং আবু রফে যদি বিচার করে, তাহলে তারা হয়তো ঘুষ খেয়ে বিচার এলোমেলো করবে। তখন সেই ইহুদী বললো না, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করবেন। এই কথা বলে মুনাফিক বিশরকে বুঝায়ে নিয়ে গেল হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। বিচার হয়ে গেল, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করলেন। মুনাফিক বিশরের বিরুদ্ধে ইহুদীর পক্ষে রায় পড়লো। সেই যামানায় সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিচার করতেন। যখন ইহুদীর পক্ষে রায় হলো, তখন মুনাফিক বিশর মনে করলো যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খুব জালালী তবিয়ত। উনার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কাফিরদের প্রতি কঠোর।” তিনি হয়তো আমার পক্ষেই রায় দিবেন। মুনাফিক বিশর সে ইহুদীকে নিয়ে গেল সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার কাছে বিচারের জন্য। ইহুদী খুব চালাক ছিল, সে বললো, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! এই বিশর আমাকে নিয়ে এসেছে আপনার কাছে বিচারের জন্য, অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিচার করে দিয়েছেন। রায় আমার পক্ষে দেয়া হয়েছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- ঠিক আছে তোমরা বস, তোমাদের আমি বিচার করব। উনি ঘরে প্রবেশ করলেন, ঘরে প্রবেশ করে একটা তরবারী নিয়ে আসলেন। তরবারী এনে মুনাফিক বিশরকে এক কোপে দু’ভাগ করে দিলেন এবং বললেন, তোমার এটাই বিচার। কারণ, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে ফায়ছালা করেছেন, সেটা তুমি মান নাই। তোমার শাস্তি ও বিচার একমাত্র মৃত্যুদন্ড। যখন উনি তাকে হত্যা করে ফেললেন, তখন মুনাফিক বিশরের আত্মীয়-স্বজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গিয়ে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে আপনি বিচারের দায়িত্ব দিয়েছেন। উনি আমাদের একজন আত্মীয়কে হত্যা করে ফেলেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটা কি করে সম্ভব? সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তো খাছ লোক- আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নবী হতেন। কাজেই উনার পক্ষে এটা সম্ভব নয়, ঠিক আছে উনাকে ডাকা হোক। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে আনা হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি নাকি একজনকে হত্যা করেছেন?” সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মূলতঃ আমি হত্যা করিনি, আমি বিচার করেছি, বিচারে তার মৃত্যুদ- হয়েছে, সেটা আমি জারী করেছি। মুনাফিক বিশরের আত্মীয়-স্বজন বললো, “হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! সে যে মুনাফিকী করেছে, এ বিষয়ে কি আপনার কোন সাক্ষী আছে?” যেহেতু ইসলামে সাক্ষী ছাড়া কোন কথা গ্রহণযোগ্য নয়। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি চুপ করে রইলেন। কারন সেখানে ইহুদী ছাড়া কেউ ছিলনা। অতঃপর স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সাক্ষী হয়ে পবিত্র আয়াত শরীফ নাজিল করলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ্ পাক তিনি নাযিল করলেন, “(ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ্, আমিই সাক্ষী) “আপনার মহান রব তায়ালা উনার কসম! কেউ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরস্পরের মতবিরোধ বা ইখতিলাফী বিষয়ে অর্থাৎ জাহেরী ও বাতেনী প্রত্যেক বিষয়ে আপনাকে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ফায়সালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। অতপর আপনি যে ফায়সালা মুবারক করেছেন, সে বিষয়ে যেন তাদের অন্তরে কোন সংকীর্ণতা বা চু-চেরা পাওয়া না যায় বা না থাকে এবং মেনে নেয়ার মত না মেনে নেয় বা সর্বান্তকরণে তা মেনে না নেয়।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফায়ছালা মুবারক হচ্ছেন- পর্দা করা ফরয, বেপর্দা হওয়া হারাম, ছবি তোলা ও তোলানো হারাম, তন্ত্র-মন্ত্র, ভোট-নির্বাচন করা হারাম, খেলা-ধুলা করা হারাম, গান-বাজনা করা ও শোনা হারাম, সুদ ও ঘুষ দেয়া ও নেয়া হারাম, অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী সর্বপ্রকার আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকা মানা ও অনুসরণ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা ও তাদের অনুসরণ করা হারাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- যে বা যারা উল্লিখিত ফায়ছালা মুবারকসমূহ মানছেনা বা আমল করছেনা বরং বিরোধীতা করছে তাদের হুকুম কি? অর্থাৎ ঈমানদার নয়।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অতএব, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধী কোনো কিছুই করা যাবেনা। কারণ, বাংলাদেশে শতকরা ৯৮জন মুসলমান। কাজেই, এই দেশে পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কোন কার্যক্রমই মুসলমানগণ কখনো মেনে নিবেনা। তাই প্রশাসনের জন্য ফরয হলো সমস্ত কার্যক্রম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুসরনে করা।