রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা, শরীয়তসম্মত নয়। কেননা অনলাইনে বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করার অর্থ হচ্ছে পবিত্র কুরবানীর পশুর ছবি দেখে বা দেখিয়ে অর্থাৎ ছবি তুলে বা তোলায়ে বেচা-কেনা করা। অথচ সম্মানিত শরীয়ত তথা দ্বীন ইসলামে প্রাণীর ছবি তোলা, তোলানো, দেখা ও দেখানো সবই হারাম ও কবীরা গুনাহ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সকল মানুষকে ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দিবেন যারা ছবি তোলে বা আঁকে। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম বা অত্যাচারী কে রয়েছে, যে আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত তৈরী করে। নাউযুবিল্লাহ!
ছহীহ মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, ছবি তোলনেওয়ালা, আঁকনেওয়ালা প্রত্যেকেই জাহান্নামী। অনুরূপ আরো অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার মাধ্যমে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা, দেখানো ইত্যাদি হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং ছবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে বড় যালিম, কাফির ও জাহান্নামী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাছাড়া ছবি দেখে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় করা হলে পবিত্র কুরবানীর পশু নিখুঁত ও উপযুক্ত হওয়ার জন্য যে সমস্ত গুণ থাকা জরুরী তা সনাক্ত করা কখনোই সম্ভব হবে না। ফলে উক্ত পশু পবিত্র কুরবানীর পশু হিসেবে অনুপযুক্ত হওয়ার কারণে তা দ্বারা পবিত্র কুরবানী করলে কুরবানী মোটেও শুদ্ধ হবে না।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি তোলা ও তোলানো তা ক্যামেরায় হোক, মোবাইলে হোক অথবা যে কোনো ভাবেই হোক হারাম ও কবীরা গুনাহ অর্থাৎ জাহান্নামী হওয়ার কারণ। তাই ছবি ভিত্তিক অনলাইন বেঁচা-কেনা বা ডিজিটাল কুরবানীর হাটের ব্যাবস্থা করা অর্থাৎ ভিডিও বা ছবির মাধ্যমে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ। এতে করে উপার্জিত অর্থ যেরূপ হারাম হবে তদ্রƒপ কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানীও বাতিল হবে। অতএব, প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছে ছবি ভিত্তিক হারাম পদ্ধতী পরিহার করে সম্মানিত সুন্নত তরীক্বা অনুযায়ী পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় বিক্রয় করা।
-০-