পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা

(ধারাবাহিক)

বিদ্যুৎ চমকানোর সময়:


যে রাস্তা দিয়ে বিদ্যুৎ চমকায় তা সাধারণত ১ ইঞ্চি চওড়া এবং ১-৫ মাইল লম্বা হতে পারে। অতি উচ্চমানের বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে এই সরু রাস্তার কণাগুলি অত্যধিক গরম হয়ে প্লাজমায় পরিণত হয়। তাপমাত্রা প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে পারে। যা সূর্যের উপরিপৃষ্ঠ থেকে ৫ গুণ বেশী গরম। এই উত্তপ্ত অংশ আশেপাশের বাতাসকে প্রচ- শক্তিতে ধাক্কা দেয়। ফলে শব্দের চেয়ে বেশী গতি সম্পন্ন শকওয়েভ (Shockwave) বিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়। যা প্রথম ১০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। আর এই বিস্ফোরণের শব্দই হচ্ছে বজ্রধ্বনি। এই বজ্রধ্বনি শব্দের গতিতে ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রধ্বনির মাঝে যদি ৩ সেকেন্ড সময় পার্থক্য হয় তাহলে ১ কি.মি. দূরত্বে বজ্রপাত হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হয় যে, মেঘ থেকে যমীনে বিদ্যুৎ নেমে আসে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে যে বিদ্যুৎ চমকানো আমরা দেখতে পাই তা যমীন থেকে মেঘের দিকে বিদ্যুতের প্রত্যাবর্তন পথ। যে বিষয়টি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি يَرْجِعُ এই আরবী শব্দ মুবারক দিয়ে উল্লেখ করেছেন। যার অর্থ মুবারক হচ্ছে প্রত্যাবর্তন করা।

আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে- বিজ্ঞানীরা এতোদিনে যমীন থেকে মেঘের দিকে বিদ্যুৎ প্রত্যাবর্তন এর ঘটনাটিকে Return Stroke বা প্রত্যাবর্তন স্ট্রোক নামকরণ করে প্রচার করতেছে। অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদ্যুৎ চমকানোর প্রবাহ, প্রত্যাবর্তন ও সময়কাল- এ বিষয়গুলি ১৪ শত বছর আগেই নিখুঁত ও সুষ্পষ্টভাবে বর্ণনা মুবারক করেছেন। যা উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে। যা তৎকালীন যামানায় একেবারে কল্পনাতীত অর্থাৎ বিষয়টি উনার ইলমে গাইব উনার বহিঃপ্রকাশ এবং একটি সুমহান মু’জিযা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!! সুবহানাল্লাহ!!!